গৃহকর্মীকে হত্যার পর ডোবায় নিক্ষেপ, নখের আঁচড়ে খুনি শনাক্ত

ডিজিটাল যুগে তথ্য প্রযুক্তির উন্নয়ন ও পুলিশ বাহিনীর চৌকসতা সত্যি প্রসংশার দাবী রাখে। যা অপরাধীর চতুুরতাকে ঠুনকো করে দেয়। গতকাল রাজধানীর দক্ষিণখানে সাততলা ভবনের ছাদে তামান্না ময়না(১৩) নামে শিশু গৃহকর্মীকে শ্বাসরোধে হত্যার পর পাশের ডোবায় ফেলে দেওয়া হয়।

তৎক্ষনাৎ ঘটনাস্থলে উপস্থিত হয় দক্ষিণখান থানা পুলিশ। লাশের গলায় দাগ ও শরীরের বিভিন্ন অংশে আঁচড়ের চি‎হ্ন দেখে পুলিশ নিশ্চিত হয়- হত্যার আগে খুনির সঙ্গে নিহতের ধস্তাধস্তি হয়েছে। তবে ধর্ষণ করে হত্যা করা হয়েছে কিনা, সে বিষয়ে এখনো নিশ্চিত হওয়া যায়নি। সূত্র খুজতে থাকে পুলিশ। এর পরই মুখে নখের আঁচড় দেখে খুনিকে চিহ্নিত করা হয়।

পুলিশের উত্তরা বিভাগের দক্ষিণখান জোনের অতিরিক্ত উপপুলিশ কমিশনার এএসএম হাফিজুর রহমান এই প্রতিবেদককে জানান, গলায় ওড়না পেঁচিয়ে শ্বাসরোধে মেয়েটিকে হত্যা করে মোহন নামের একই বাসার দারোয়ান। হত্যার পর ছাদ থেকে লাশটি পাশের ডোবায় ফেলে দেয়।

পুলিশ জানিয়েছে, দক্ষিণখান তালতলা নর্দাপাড়ায় রুপালি গার্ডেনের একটি সাততলা ভবনের তৃতীয় তলার বাসিন্দা রুবিনা ইয়াসমিনের বাসায় গৃহকর্মীর কাজ করত ময়না। তার বাড়ি ব্রাহ্মণবাড়িয়ায়। সাততলার ছাদে গৃহকর্ত্রী রুবিনার ‘ছাদবাগান’ রয়েছে। প্রতিদিন সকালে ময়না ছাদবাগানে পানি দিতে যায়।

ওই বাড়ির দারোয়ান মোহনের দায়িত্ব প্রতিদিন সকালে বাড়ির ছাদের ট্যাঙ্কে পানি আছে কিনা তা দেখা। রোববার সকাল পৌনে ৭টার দিকে মেয়েটি ছাদে যায় গাছে পানি দিতে এবং মোহন যায় ট্যাঙ্কের পানি দেখতে। ছাদে ময়নাকে একা পেয়ে শ্নীলতাহানির চেষ্টা করে মোহন। এ সময় দু’জনের মধ্যে ধস্তাধস্তি হয়। একপর্যায়ে ছাদে ফেলে গলায় ওড়না পেঁচিয়ে শ্বাসরোধে ময়নাকে সে হত্যা করে। এরপর লাশ দু’হাতে তুলে পাশের ডোবায় ফেলে দেয়। মোহন ছাদ থেকে নেমে অন্য দারোয়ানকে জানায়, তার শরীর ভালো লাগছে না। পরে বাসায় চলে যায়। কিছুক্ষণ পর ফিরে আসে মুখে মাস্ক পরে।

এদিকে খবর পেয়ে সকাল ৮টার দিকে পুলিশ ডোবা থেকে মেয়েটির লাশ উদ্ধার করে শহীদ সোহরাওয়ার্দী মেডিকেল কলেজ মর্গে পাঠায়। সাতসকালে ছাদে মেয়েটিকে কে হত্যা করতে পারে, তা নিয়ে অনুসন্ধান শুরু করে পুলিশ। পাশের বাড়ির ছাদের সিসি ক্যামেরার ফুটেজ সংগ্রহ করা হয়। এতে পুলিশ দেখতে পায়, সাততলা ভবনের ছাদ থেকে একজন দু’হাতে কিছু একটা তুলে কোলে নিয়ে নিচে ফেলে দিচ্ছে। এরপরই পুলিশ বাড়ির বেশ কয়েকজনকে জিজ্ঞাসাবাদ করে।

বাড়িটির নিচতলায় উপস্থিত একজন বাদে সবাই ছিল মাস্কবিহীন। শুধু মোহনের মুখে মাস্ক ছিল। পুলিশ তাকে সন্দেহ করে। জিজ্ঞাসাবাদের একপর্যায়ে মাস্ক খুলে মুখে নখের তিনটি আঁচড় দেখে পুলিশ মোটামুটি নিশ্চিত হয়, মোহনই খুনি। নখের আঁচড়ের স্থানে তখনও রক্ত জমাট ছিল। জিজ্ঞাসাবাদের একপর্যায়ে ময়নাকে হত্যার কথা স্বীকার করে মোহন। তার বাড়ি গাইবান্ধায়। তার বিরুদ্ধে রাতেই হত্যা মামলার প্রস্তুতি চলছিল। আজ সোমবার তাকে ঢাকা মহানগর মুখ্য হাকিম আদালতে পাঠানো হবে বলে জানিয়েছে পুলিশ।

বার্তাবাজার/অমি

বার্তা বাজার .কম'র প্রকাশিত/প্রচারিত কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা যাবে না।
এই বিভাগের আরো খবর