নাটোরের গুরুদাসপুরে ঋণের ভার সইতে না পেরে হৃদরোগে আক্রান্ত হয়ে মারা যান জয়ন্তী রানী (৫০) নামের এক নারী। তিনি উপজেলার পৌর সদরের খলিফাপাড়া মহল্লার বলাই চন্দ্র সুত্রধরের স্ত্রী। মৃত্যুর পর তার লাশ সৎকারে বাঁধা দেয় সুদের কারবারিরা। অবশেষে প্রশাসনের হস্তক্ষেপে তার মরদেহ দাহ করা হয়।
জানা যায়, জয়ন্তীর শেষ সম্বল চারশতক ভিটেমাটি। বছর খানেক আগে দশ লাখ টাকায় বিক্রি করেও মহাজনদের ঋণ শোধ হয়নি। ঢাকায় পালিয়েও বাঁচতে পারেনি জয়ন্তী রানী। সংসারের আয় রোজগার না থাকায় দুই ছেলেকে পড়াশোনা ও স্বামীর চিকিৎসার জন্য দফায় দফায় বিভিন্ন এনজিও ও সুদের কারাবারিদের নিকট থেকে চড়া সুদে ঋণ নেন তিনি।
প্রতি সপ্তাহে ১ হাজার ৪০০ টাকা সুদ না দিতে পারে বাধ্য হয়ে পাড়ি জমান ঢাকায়। দেড় মাস আগে বাড়িতে ফিরলে পাওনাদার, আলেয়া সওদাগর, অরুনা, বুলু, মান্নান সওদাগর, ছাবিনা, ফাইমা, আলমাছসহ অনেকে টাকার জন্য তাকে চাপ দিতে থাকেন। এ অবস্থায় নানা অপমান, গঞ্জনা ও হুমকিধামকির চাপ মাথায় নিয়ে রবিবার সকালে হৃদরোগে আক্রান্ত হয়ে মারা যান জয়ন্তী রানী।
তার পরিবার জানায়, জয়ন্তীর মরদেহ সৎকার করতে দেয়নি সুদে কারবারি মহাজনরা। অবশেষে উপজেলা প্রশাসনের হস্তক্ষেপে ওইদিনই জয়ন্তীর লাশ কালাকান্দর কেন্দ্রীয় মহাশশ্মানে সৎকার করা হয়।
এ বিষয়ে গুরুদাসপুরের ইউএনও মো. তমাল হোসেন বলেন, খবর পেয়ে জয়ন্তীর সৎকারের ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। প্রয়োজনে দোষীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
বার্তাবাজার/এসজে