নীলফামারীর সৈয়দপুরে বাবার ছোড়ে মারা ইটের আঘাতে মো. সনু নামের এক মাদকসেবীর মৃত্যু হয়েছে। শনিবার দিনগত রাতে সৈয়দপুরের গোলাহাট পুলিশ ফাঁড়ির কাছেই অবস্থিত রেলওয়ের বস্তিতে এই ঘটনা ঘটে।
অভিযুক্ত ওই বাবার নাম মো. ভলু। তিনি একই এলাকায় বসবাস করে রিকশা চালিয়ে জীবিকা নির্বাহ করেন।
এ বিষয়ে অভিযুক্ত ভলু জানান, গত এক মাস আগে তার মাদকসেবী ছেলে মা-বাবাকে ঘর থেকে বের করে দেয়। সেই থেকে তিনি স্ত্রী সাম্মাসহ (৫৫) পাশের উত্তরা আবাসন এলাকায় মেয়ের বাড়িতে থাকতেন।
প্রতিদিনের মত শনিবার সকালে ছেলে ব্যাটারিচালিত ভ্যানচালক মো. সনুর বাড়িতে বেড়াতে যান তার স্ত্রী সাম্মা। সেখানে ছেলের বউয়ের সঙ্গে তার ঝগড়া হয়। একপর্যায়ে ছেলে তার মাকে পিটিয়ে বাড়ি থেকে বের করে দেয়। এ খবর রাতে জানতে পারেন বৃদ্ধ ভলু। তিনি স্ত্রীর অপমানের প্রতিশোধ নিতে ছেলের ওপর ইট ছুড়ে হামলা চালান। এতে ঘটনাস্থলেই ছেলে মারা যায়।
এ ব্যাপারে নিহত সনুর মা সাম্মা বলেন, মাদকাসক্ত ছেলেকে তার বাবাই মেরেছে। তবে তিনি শাসন করতে চেয়েছিলেন, হত্যা করতে চাননি।
পুলিশের কাছে গ্রেফতার ভলু হত্যাকাণ্ডের কথা স্বীকার করেছেন। রাতেই সনুর স্ত্রী সাজদা শ্বশুরকে আসামি করে সৈয়দপুর থানায় মামলা করেন।
তবে অভিযোগ করে নিহতের স্ত্রী সাজদা বলেন, সকালে আমার শাশুড়ি হুমকি দিয়েছিলেন, তোর স্বামীকে আজ হত্যা করা হবে। এটা যে সত্যি ঘটবে তা তিনি স্বপ্নেও ভাবেননি। জানলে তিনি বাবার বাড়িতে যেতেন না বলে জানান
সৈয়দপুর থানার ওসি আবুল হাসনাত খান জানান, সনুর মরদেহ ময়নাতদন্তের জন্য নীলফামারী সদর হাসপাতাল মর্গে পাঠানো হবে। নিহত সনুর বাবা ভলুকে গ্রেফতার দেখানো হয়েছে। তবে অসুস্থবোধ করলে তাকে স্থানীয় ১০০ শয্যা সরকারি হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।
বার্তাবাজার/এসজে