সরকারি বরিশাল কলেজ ছাত্রদলের আহবায়ক রফিকুল ইসলাম টিপুকে জখম করেছে সন্ত্রাসীরা। আজ (৭ নভেম্বর) শনিবার রাত সোয়া ১০টার দিকে বরিশাল কলেজের সামনের ফাহিম স্টোরে এই ঘটনা ঘটেছে। মুমূর্ষ অবস্থায় রফিকুল ইসলাম টিপুকে এলাকাবাসী উদ্ধার করে শের-ই-বাংলা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করেছে।
শেষ খবর পাওয়া পর্যন্ত (রাত সাড়ে ১১টা) টিপুর জ্ঞান ফেরেনি। তবে তাকে গভীর পর্যবেক্ষণে রাখা হয়েছে বলে জানিয়েছেন দায়িত্বরত চিকিৎসক তন্ময় চক্রবর্তী। তিনি বলেন, আহতের মাথায় ৬টি এবং শরীরে একটি কোপের গভীর ক্ষত রয়েছে।
কোতয়ালী থানার ওসি নুরুল ইসলাম জানিয়েছেন, প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে দলের অভ্যন্তরীণ কোন্দলের জের ধরেই হামলার ঘটনা ঘটেছে। এ ঘটনায় এখনো থানায় কোন অভিযোগ দায়ের হয়নি। তবে খবর পেয়ে তাৎক্ষণিক পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছায়। আমরা হামলাকারী সন্ত্রাসীদের গ্রেফতারে চেষ্টা চালাচ্ছি বলে জানান নুরুল ইসলাম।
যদিও স্থানীয়রা দাবী করেছেন, কিশোর গ্যাংয়ের সাথে দীর্ঘদিন ধরে চলমান বিরোধ থাকায় এই হামলা হতে পারে।
এর আগে আহত রফিকুল ইসলাম টিপুর আরেক ভাই বরিশাল কলেজ ছাত্রদলের সাবেক আহবায়ক রাফসান আহম্মেদ জিতুকেও কুপিয়ে খুন করেছিল ছাত্রদলের অভ্যন্তরীন প্রতিপক্ষ কালু বাহিনী। ২০১২ সালের ২৪ মার্চ সন্ধ্যায় একই এলাকায় তাকে হত্যা করে। জিতু সাবেক মেয়র আহসান হাবীব কামালের অনুসারী ছিলেন।
ওদিকে হত্যায় অভিযুক্ত কালু বাহিনীর প্রধান কালু ও তার ভাই মিরাজ ‘গুম’ হয়ে যান বলে পরিবার থেকে দাবী করে আসছিল। কালু ও মিরাজ বিএনপির যুগ্ম মহাসচিব মজিবর রহমান সরোয়ারের অনুসারী।
কালিবাড়ি রোড এলাকার বাসিন্দা প্রত্যক্ষদর্শী রুবেল জানিয়েছেন, টিপু কালিবাড়ি রোডের ফাহিম হোটেলে খাবার খাচ্ছিলো। এসময় হঠাৎ করে সৌরভ বালা, তানজিম রাব্বি, রাজিন, সাগরসহ ৪০/৫০ জনের একটি দল অস্ত্রসহকারে টিপুর উপর হামলা চালায়। এসময় হোটেলটি ভাঙচুর এবং টিপুকে কুপিয়ে জখম করে।
জানা গেছে, হামলাকারীরা বিভিন্ন এলাকায় মাদক সিন্ডিকেট পরিচালনা করে থাকেন। কিছুদিন আগে বরিশাল সিটি কলেজের অধ্যক্ষকে মারধর করেছিল হামলাকারীরা। কিচুদিন আত্মগোপনে থাকার পর আবার প্রকাশ্যে এসে হামলা চালালো। তাদের বিরুদ্ধে বেশ কয়েকটি মামলা রয়েছে।
বার্তাবাজার/এসজে