ঢাকার সাভারের আমিনবাজার এলাকায় ইতালি প্রবাসীকে প্রকাশ্য দিবালোকে গুলি করে টাকা ছিনতাই সংক্রান্ত ডাকাতির ঘটনায় জড়িত আন্তঃজেলা ডাকাত দলের ৩ সদস্যকে অস্ত্রসহ গ্রেফতার করেছে র্যাব-৪। শনিবার (৭ নভেম্বর) সাভারের বিরুলিয়া জোড়া ব্রিজ এলাকা হতে ৩জন ডাকাত সদস্যকে গ্রেফতার করে র্যাব-৪ এর একটি চৌকস আভিযানিক দল। এসময় আরো ৬/৭ জন পালিয়ে যেতে সক্ষম হয় বলে র্যাব-৪ সূত্রে জানা গেছে।
আটক ওই তিন ডাকাত হলো- ১. মোস্তাফিজুর রহমান (৩৮), জেলাঃ পটুয়াখালী, ২. নাসির (৩৮), জেলাঃ বরিশাল এবং ৩. আবদুল বারেক সিকদার (৪৫), জেলাঃ বরিশাল।
প্রসঙ্গত, গত ২৮ অক্টোবর ২০২০ তারিখ সকালে ইতালি প্রবাসী জনৈক মোঃ আমানুল্লাহ (৪০) সস্ত্রীক আমিনবাজারে একটি ব্যাংক হতে সকাল সাড়ে দশটায় টাকা উত্তোলন করে ভাড়াকৃত কারযোগে কেরানীগঞ্জের বাড়ি ফেরার পথে ভাকুর্তা লোহারব্রিজের কাছে পৌঁছালে, পেছন থেকে অনুসরণ করে আসা ৩টি মোটরসাইকেল ও প্রাইভেট কারযোগে ডাকাতদল প্রকাশ্য দিবালোকে আনুমানিক ১০টা ৪৫ মিনিটের দিকে উক্ত কারের গতিরোধ করে এলোপাথাড়ি গুলি করে এবং ভুক্তভোগীর স্ত্রীর হাতে থাকা গোলাপী রঙের ভ্যানিটি ব্যাগে থাকা ৫ লাখ ৭০ হাজার টাকা ও মোবাইলসহ ভ্যানিটি ব্যাগটি ছিনিয়ে নিয়ে পালিয়ে যায়। পরবর্তীতে স্থানীয় জনতার সহযোগীতায় বাম পায়ে গুলিবিদ্ধ অবস্থায় ভুক্তভোগী আমানুল্লাহকে সাভার উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করা হয় এবং এ সংক্রান্তে সাভার মডেল থানায় ভুক্তভোগীর স্ত্রী নিজে অজ্ঞাতনামা আসামী করে একটি ডাকাতি মামলা রুজু করে।

এব্যাপারে র্যাব-৪ জানায়, উক্ত ক্লুলেস ঘটনায় সংঘবদ্ধ ডাকাত চক্রটিকে গ্রেফতারের লক্ষ্যে ঘটনার দিন থেকেই মাঠে নামে র্যাব-৪ এর একটি চৌকস আভিযানিক গোয়েন্দা দল। ছায়া তদন্তের শুরুতেই ব্যাংকের সিসিটিভি ক্যামেরার ফুটেজ থেকে ক্যাপ পরিহিত এক ব্যক্তিকে শনাক্ত করে র্যাবের গোয়েন্দা দল এবং এরই সূত্র ধরে র্যাব-৪ এর একটি চৌকস আভিযানিক দল গত ৬ নভেম্বর দিবাগত রাত সাড়ে বারোটায় প্রাইভেট কারযোগে ডাকাতি প্রস্তুতি গ্রহণের সময় ১টি প্রাইভেট কার, ২টি বিদেশী পিস্তল, ১টি রিভলবার, ১২ রাউন্ড গুলি, ১টি ছুরি, ২টি লোহার পাইপ জব্দ ও লুন্ঠিত ৫০,০০০/-টাকা উদ্ধারসহ সাভারের বিরুলিয়া জোড়া ব্রিজ এলাকা হতে ডাকাত দলের ৩ সদস্যকে গ্রেফতার করতে সক্ষম হয়।
র্যাব-৪ আরও জানায়, প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে জানা যায়, তারা ছদ্মনাম নামধারী ১০-১২ জনের আন্তঃজেলা সশস্ত্র দুর্র্ধর্ষ ডাকাত দলের সদস্য। দলকে তারা কোম্পানি বলে। প্রত্যেক সদস্যের একটি করে ছদ্মনাম থাকে। এ দলের অন্যতম সদস্য ব্যাংকে সেদিন ক্যাপ পরিহিত অবস্থায় ছিল এবং ব্যাংকের টাকা উত্তোলনকারীদের দিকে তীক্ষ্ণ নজর রেখে বাইরে মোটরসাইকেলে ওৎ পেতে থাকা নাসির (৩৮) সহ তার অন্যান্য সহযোগীদেরকে তথ্যটি জানায়। গ্রেফতারকৃত আসামী বারেক সিকদার (৪৫) মূলত ছিলেন ডাকাতদের অস্ত্র ও ছিনতাইকৃত টাকা বহন করার কাজে ব্যবহৃত প্রাইভেট গাড়ির চালক। তার গাড়ীটি ডাকাতির কাজে অন্যান্য সহযোগীদের অস্ত্রসহ বহন করে আসছিলো। জিজ্ঞাসাবাদে আরও জানা যায়, তারা ডাকাতির সময় নির্দিষ্ট মোবাইল ফোন ও নাম্বার ব্যবহার করতো এবং ডাকাতি শেষে সেসব মোবাইল ফোন-সিম নষ্ট ও ব্যবহৃত জামা-কাপড় ফেলে দিতো। গ্রেফতারকৃত বেশিরভাগ আসামীদের বিরুদ্ধে বিভিন্ন থানায় অস্ত্র, ডাকাতি ও হত্যা মামলা রয়েছে এবং সেসব মামলায় জামিন পেয়ে পুনরায় একই কর্মে লিপ্ত হয়। আরো জানা যায়, সেদিন ডাকাতিকৃত টাকা ১০ জনের মাঝে ৫০ হাজার করে বন্টন করে দেয়া হয়। গ্রেফতারকৃত আসামীরা উক্ত ডাকাতির ঘটনার সাথে জড়িত মর্মে স্বীকারোক্তিও প্রদান করে।
উপরোক্ত বিষয়ে আটককৃতদের বিরুদ্ধে অস্ত্র আইনে ও ডাকাতির প্রস্তুতি ধারায় পৃথক দুটি মামলা প্রক্রিয়াধীন এবং এ ডাকাত চক্রের সাথে জড়িত অন্যান্য পলাতক আসামীদের গ্রেফতারে র্যাবের সাড়াশি অভিযান অব্যাহত রয়েছে বলেও জানায় র্যাব-৪।
বার্তাবাজার/নিমফুল