এমপি-মেয়র দ্বন্ধে ভাঙা রাস্তার ভোগান্তিতে দিনাজপুর পৌরবাসী

আওয়ামী লীগ-বিএনপির রাজনীতির দলীয় কোন্দলের মাশুল দিচ্ছেন দিনাজপুর পৌরবাসী! এমপি আওয়ামী লীগের এবং পৌরসভার মেয়র বিএনপি থেকে নির্বাচিত হওয়ায় উন্নয়ন বঞ্চিত হয়ে পড়েছেন দিনাজপুর পৌরসভার কয়েক লাখ মানুষ।

বিশেষ করে রাস্তাঘাটের বেহাল দশার কারণে মানুষের ভোগান্তি পৌঁছেছে চরমে। দিনাজপুর পৌরবাসীদের অভিযোগ, রাজনীতির রেষারেশির কারণেই পৌরসভার উন্নয়ন থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন দিনাজপুর পৌরসভার বাসিন্দারা!

কেউ কেউ বলছেন, দিনাজপুর-৩ আসনের এমপি আওয়ামী লীগ থেকে নির্বাচিত এবং পৌরসভার মেয়র বিএনপি থেকে নির্বাচিত হওয়ার কারণে এমপি-মেয়র দ্বন্দেই দিনাজপুর পৌরসভার বেহাল অবস্থার সৃষ্টি হয়েছে। রাজনীতির মারপ্যাচে পরেছেন পৌরবাসী। একজন উন্নয়ন করতে চাইলে আরেকজন সেই উন্নয়নে বাঁধা প্রদান করেন।

তবে বিএনপি থেকে নির্বাচিত দিনাজপুর পৌরসভার মেয়র সৈয়দ জাহাঙ্গীর আলম দলীয় সুযোগকে কাজে লাগিয়ে মানুষের কাছে একটি গ্রহণযোগ্যতা অর্জনের পায়তারা করছেন বলেও অনেকেই মনে করেন। সচেতন নাগরিকরা মনে করছেন, মেয়র জাহাঙ্গীর আলম নিজে বিএনপি থেকে নির্বাচিত হওয়ার কারণে উন্নয়নের ক্ষেত্রে তেমন কোন উদ্যোগ গ্রহণ করেননি। আবার জাতীয় সংসদের হুইপ ইকবালুর রহিম এমপি আওয়ামী লীগ থেকে নির্বাচিত হওয়ায় মেয়র সৈয়দ জাহাঙ্গীর আলম অনেকের কাছে অভিযোগ তোলেন, উন্নয়নের ক্ষেত্রে এমপির সহযোগিতা পান না!

এদিকে দিনাজপুর-৩ সংসদীয় আসনের এমপি জাতীয় সংসদের হুইপ ইকবালুর রহিম এমপির বিরুদ্ধেও অনেকেই অভিযোগ তুলেছেন মেয়রকে অসহযোগিতা করার জন্য। এমপি-মেয়র এর সম্পর্কের অবনতির কারণেই পৌরসভার প্রতিটি রাস্তাঘাটের বেহাল দশার জন্য স্থানীয়ারা দোষারোপ করছেন দুই জনপ্রতিনিধিকে।

দুই রাজনৈতিক ব্যক্তি ও দলীয় রেষারেশির কারণেই ভোগান্তি পোহাতে হচ্ছে দিনাজপুর পৌরবাসীকে। এমনটাই দাবি দিনাজপুর পৌরবাসীর।

দিনাজপুর পৌরসভা প্রথম শ্রেণির (ক) হলেও পুরো শহরের ময়লা আবর্জনার অব্যবস্থাপনা, ড্রেনেজ ব্যবস্থার বেহাল দশা এবং সর্বপরি রাস্তাঘাটের বেহাল চিত্রই প্রমাণ করে উন্নয়ন থেকে কতটা পিছিয়ে আছে দিনাজপুর পৌরসভা! রাস্তাঘাটের বেহাল চিত্র সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুকে দিয়ে অনেকেই তাদের মতামত তুলে ধরে এমপি অথবা পৌর মেয়র এর প্রতি নেতিবাচক কথা লিখছেন।

এ বিষয়ে দিনাজপুর নাগরিক উদ্যোগ কমিটির সভাপতি ও বীর মুক্তিযোদ্ধা আবুল কালাম আজাদ বলেন, ‘দিনাজপুর সদর আসনে একজন এমপি বা পৌরসভার মেয়র আছেন এটা শহরের বর্তমান চিত্র দেখলে কেউ মনেই করবে না! সিলেট, ঠাকুরগাঁওসহ অন্য অনেক এলাকাতে আওয়ামী লীগের এমপি ও বিএনপির মেয়র আছেন কিন্তু সাধারণ মানুষের উন্নয়নের কথা ভেবে অনেক আওয়ামী লীগের এমপি ও বিএনপির মেয়র যৌথ সমন্বয় করে উন্নয়ন করছেন।

গত দুই টার্ম মেয়র পদে বিএনপির সৈয়দ জাহাঙ্গীর আলম ও তিনবার ধরে সদর আসনে ইকবালুর রহিম এমপির দায়িত্ব পালন করছেন। পৌরসভার বেহাল অবস্থার ক্ষেত্রে দুজনেই এর দায় এড়াতে পারেন না! দিনাজপুর পৌরসভার রাস্তাঘাটের চেয়ে গ্রামাঞ্চলের রাস্তাঘাট অনেকাংশে ভালো আছে। উন্নয়নের ক্ষেত্রে দলমত নির্বিশেষে সাধারণ মানুষের জন্য কাজ করার নামই হলো রাজনীতি।

এসব বিষয়ে স্থানীয় এমপি ইকবালুর রহিম ও পৌরসভার মেয়র সৈয়দ জাহাঙ্গীর আলমের ব্যক্তিগত মুঠোফোনে একাধিকবার ফোন করা হলেও তাঁরা ফোন রিসিভ করেননি।

তবে পৌরসভার ১নং প্যানেল মেয়র ও ৯নং ওয়ার্ডের কাউন্সিলর মো. আবু তৈয়ব আলী দুলাল এক প্রশ্নের জবাবে বলেন, ‘পৌরসভার মেয়র সৈয়দ জাহাঙ্গীর আলম বাইরে মিথ্যাচার করে বেরাচ্ছেন। তার বড় উদাহরণ হল, গত আগস্ট মাসের ২২ অথবা ২৩ তারিখে দিনাজপুর মিউনিসিপাল স্কুলে একটি অনুষ্ঠানে মেয়র সৈয়দ জাহাঙ্গীর আলমকে সভাপতি করে ১ কোটি ২০ লাখ টাকার একটি ভবন উদ্বোধন করতে গিয়েছিলেন হুইপ ইকবালুর রহিম এমপি। কিন্তু সেই অনুষ্ঠানে মেয়র জাহাঙ্গীর আলমকে সভাপতি করা হলেও তিনি অনুষ্ঠানে যাননি! অথচ মিউনিসিপাল স্কুলটি আমাদের পৌরসভার। শুধুমাত্র হুইপ মহোদয় প্রধান অতিথি ছিলেন বিধায় মেয়র সেখানে যাননি। বিষয়টি পরিস্কার হয়ে গেছে যে, মেয়র সাহেব আসলে উন্নয়ন চান না!

তিনি আরও বলেন, মেয়র সাহেব ঈর্ষান্বিত হয়ে দিনাজপুরের উন্নয়ন চান না। আর হুইপ সাহেবও যেখানে আছেন তিনি হয়ত চাচ্ছেন মেয়র তাঁর কাছে এসে তোষামোদ করুক, বাজেট বরাদ্দ নিক! তবে হুইপ ইকবালুর রহিম এমপির উদ্যোগে দিনাজপুর পৌরসভার রাস্তাঘাটের উন্নয়নের জন্য এলজিইডি ও উপজেলার মাধ্যমে বেশ কিছু কাজ হাতে নেওয়া হয়েছে। খুব শীঘ্রই হয়ত টেন্ডার হয়ে কাজ শুরু হবে।’

বার্তাবাজার/কে.জে.পি

বার্তা বাজার .কম'র প্রকাশিত/প্রচারিত কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা যাবে না।
এই বিভাগের আরো খবর