দোকানে মাত্র ৩০ টাকায় মিলছে স্কুলের অ্যাসাইনমেন্ট

মহামারি করোনাকালে শিক্ষার্থীদেরকে শিক্ষা থেকে বিচ্যুত না করে সকল শিক্ষা কার্যক্রম অব্যহত রাখতে অ্যাসাইনমেন্ট ব্যবস্থা চালু করেছে মাধ্যমিক ও উচ্চ মাধ্যমিক শিক্ষা অধিদপ্তর। অ্যাসাইনমেন্টের মাধ্যমে শিক্ষার্থীদের মূল্যায়ন করা হবে। সপ্তাহে একদিন শিক্ষার্থীরা প্রতিষ্ঠান থেকে অ্যাসাইনমেন্ট সংগ্রহ ও জমা দেবে।

কিন্তু সিরাজগঞ্জের রায়গঞ্জে দেখা যাচ্ছে অন্যরকম এক দৃশ্য। উপজেলার হাতেম হাসিল ভাতহাড়িয়া উচ্চ বিদ্যালয়ের সহকারী প্রধান শিক্ষক মো. শামীম হোসেন তালুকদার এইসব অ্যাসাইনমেন্ট বিক্রি করে দিচ্ছেন। ৩০ টাকা দিয়ে বাজারের কম্পিউটারের দোকান থেকে শিক্ষার্থীদের অ্যাসাইনমেন্ট সংগ্রহ করতে হচ্ছে।

শিক্ষার্থী ও তাদের অভিভাবকদের করা এমন অভিযোগের সত্যতা যাচাইয়ে ঘটনাস্থলে গিয়ে দেখা যায়, ভাতহাড়িয়া বাজারে একটি দোকানের সামনে ভিড় জমিয়েছে শিক্ষার্থীরা। সেখানে নাম গোপন রাখার শর্তে এক শিক্ষার্থী জানায়, আমরা শামীম স্যারের নির্দেশে এখান থেকে অ্যাসাইনমেন্ট সংগ্রহ করছি। একেকটি অ্যাসাইমেন্টের দাম ৩০ টাকা।

তবে এই অভিযোগে পুরোটাইকেই অস্বীকার করেছেন বিদ্যালয়টির সহাকারী প্রধান শিক্ষক মো. শামীম হোসেন তালুকদার। কিন্তু পরে যখন বলা হয় শিক্ষার্থীদের ভিডিও বক্তব্য ধারণ করা আছে, তখন তিনি সুর নরম করে দেন।

এ বিষয়ে প্রধান শিক্ষক ইসমাইল হোসেন মল্লিক বলেন, আজ ৫ নভেম্বর আমার শেষ কর্মদিবস। ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক হিসাবে শামীম হোসেন তালুকদারকে দায়িত্ব দেয়া হবে বলে অ্যাসাইমেন্টের বিষয়টা তিনি দেখছেন। তিনিই সবকিছু বলতে পারবেন।

রায়গঞ্জ উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তা মো. তারিকুল ইসলাম বলেন, আমি নির্দেশনা দিয়েছি নিজ প্রতিষ্ঠান থেকে অ্যাসাইনমেন্ট বিতরণ করতে। প্রয়োজনে প্রতিষ্ঠানকে খরচও বহন করতে বলা হয়েছে। যেহেতু তিনি নির্দেশনা অমান্য করেছেন সেক্ষেত্রে আমি অবশ্যই সরকারি বিধি অনুযায়ী তার বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করবো।

বার্তাবাজার/এসজে

বার্তা বাজার .কম'র প্রকাশিত/প্রচারিত কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা যাবে না।
এই বিভাগের আরো খবর