যত্ন করে খাবার দেন দুই সাধারণ দোকানি। আর এতেই পাখিদের মনে গড়ে নিয়েছেন আস্থার জায়গা। তাদের ডাকে এসে হাজির হয় শত শত গাঙ শালিক। পাখির কলকাকলিতে মুখর হয়ে ওঠে জনপদ।
ভোরের আলো ফোটার বাকি একটু ক্ষণ। কুষ্টিয়ার মিরপুরের ব্যস্ততম ঈগল চত্বরে উড়ে আসছে শত শত গাঙ শালিক। ধীরে ধীরে ঈগল চত্বরে দোকানিসহ নানা শ্রেণির মানুষের আনাগোনা বাড়তে থাকে। এরইমধ্যে চা দোকানি ইছহাক আলী ও হোটেল মালিক আনন্দ দেবনাথ মুঠো মুঠো চানাচুর ছড়িয়ে দেন রাস্তায়। মহাভোজে যোগ দেয় পাখিরা। ১৫ বছর ধরে এভাবে খাবার খাইয়ে দুই দোকানি হয়ে উঠেছেন পাখিদের বন্ধু।
চা দোকানি ইছহাক আলী বলেন, কিছুই মনে হয়না, আমার তো মনে হয় আরো খাওয়াই। আমার যদি সামথ্য থাকতো আরো খাওয়াতাম। সকাল বেলা পাখির কিচিরমিচির শব্দ ভালো লাগে। আমরা পাখিদের খেতে দেই, আমাদের কাছে আসে।
হোটেল ব্যবসায়ী আনন্দ দেবনাথ বলেন, আমাদের ভালো লাগে, সকাল বেলা পাখিদের কথা আমাদের মনে পড়ে। সকালে ও দুপুরে এ দুই সময়ে পাখি এখানে আসে। আমরা চেষ্টা করি পাখিকে খাওয়ানোর জন্য।
ঝাঁকে ঝাঁকে পাখি দেখে মুগ্ধ হয় স্থানীয়রাও। আর, কৃষির উপকারিতা হিসেবে এই শালিক পাখিদের ভুমিকা অপরিসীম, কারণ ফসলের ক্ষেতের ক্ষতিকারক পোকা খেয়ে কৃষককে সহায়তা করে। মিরপুর উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা রমেশ চন্দ্র ঘোষ বলেন, ‘যে সকল কীটপতঙ্গ ধানের অনিষ্ট করে থাকে এই পাখিগুলো তাদের খেয়ে নিজেদের লাইফ সাইকেলটা যেমন বাঁচিয়ে রাখবে, এর পাশাপাশি আমাদের উপকারও করবে।
বার্তাবাজার/আর.আর