কক্সবাজারের কলাতলী সুগন্ধা পয়েন্টে অবৈধ স্থাপনা উচ্ছেদকালে জেলা প্রশাসন, পুলিশ ও কউক কর্মকর্তাদের উপর হামলা এবং সরকারি কাজে বাধা দেওয়ার ঘটনায় দায়ের করা মামলায় এখনো গ্রেপ্তার হয়নি মূল আসামীরা। আসামীরা প্রকাশ্যে ঘুরে বেড়ালেও পুলিশ বলছে আত্মগোপনে থাকায় গ্রেপ্তার করা সম্ভব হচ্ছে না।
অন্যদিকে নির্ভরযোগ্য সূত্রে জানা গেছে, মূল আসামীরা মামলা আপোষ করার নামে অপর আসামীদের কাছ থেকে মোটা অংকের টাকা উত্তোলন করছে। পাশাপাশি বিভিন্ন রাজনৈতিক নেতা ও জনপ্রতিনিধিদের মাধ্যমে মোটা অংকের মিশন নিয়ে মামলা আপোষের চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে।
গত ১৭ অক্টোবর কক্সবাজার সমুদ্র সৈকতের কলাতলী সুগন্ধা পয়েন্টে জেলা প্রশাসন ও কক্সবাজার উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ যৌথভাবে অবৈধ স্থাপনা উচ্ছেদ কালে ৫২ জন দখলদার সিন্ডিকেটের সঙ্গে পুলিশের সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে। এতে পুলিশকে লক্ষ্য করে ইট পাটকেল ছুঁড়ে দখলদাররা। প্রতিরোধ করতে গিয়ে পুলিশও প্রায় অর্ধশতাধিক ফাঁকা গুলি ও টিয়ারগ্যাস ছুঁড়ে। এতে দখলদারদের সাথে সংঘর্ষের ঘটনায়-অতিরিক্ত পুলিশ সুপার সদর সার্কেল পংকজ বড়ুয়া, সদর মডেল থানার ওসি মুনীর উল গিয়াস, যমুনা টিভির কক্সবাজার প্রতিনিধি নুরুল করিম রাসেলসহ পুলিশ, সাংবাদিক ও পথচারী মিলে অন্তত দশজন আহত হয়। এসময় ঘটনাস্থল থেকে পুলিশ শীর্ষ দখলদার ও হামলার নেতৃত্বদানকারি নানা অপকর্মের হুতা জয়নাল আবেদীন কাজল ও জেলা যুবদলের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক আমিনুল ইসলাম মুকুলসহ ১০ জনকে আটক করে। এই ঘটনার পর দিন ১৮ অক্টোবর সকালে কক্সবাজার উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের ইমারত পরিদর্শক ডেভিড চাকমা বাদি হয়ে কক্সবাজার সদর মডেল থানায় ৫৩ জনের নাম উল্লেখ করে অজ্ঞাতনামা আরও ৭০০-৮০০ জনকে আসামি করে সদর থানায় মামলা দায়ের করেন।
মামলায় উল্লেখিত ৫৩ আসামিদের মধ্যে বর্তমানে কারাগারে রয়েছেন শীর্ষ দখলবাজ ও হামলার নেতৃত্বধানকারি শহরের টেকপাড়ার মৃত জামাল উদ্দিনের পুত্র জয়নাল আবেদীন কাজল, কক্সবাজার জেলা যুবদলের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক আমিনুল ইসলাম মুকুল, বখতিয়ার উদ্দিন, আজিজুল হক, মোহাম্মদ ইসমাইল, জয়নাল আবেদীন, মীর কাশেম, মোহাম্মদ সরওয়ার আলী, মংচিনলা চাঁদ ও ইউনুছ।
এদিকে মামলায় আসামী হলেও বীরদর্পে ঘুরে বেড়ানোর পাশাপাশি মামলা আপোষের নামে অজ্ঞাত আসামীদের কাছ থেকে টাকা উত্তোলনে ব্যস্ত সময় পার করছেন কক্সবাজার শহর স্বেচ্ছাসেবক লীগের সভাপতি আবদুর রহমান, জেলা স্বেচ্ছাসেবক লীগের কৃষি-বিষয়ক সম্পাদক জসিম উদ্দিন, সাবেক ছাত্রদল নেতা আলাউদ্দিন রবিন, শহরের বাহারছড়ার শীর্ষ দখলবাজ এবং যুবদল নেতা জয়নাল আবেদীন।
মূলত এরাই বর্তমানে টাকার মিশন নিয়ে পুলিশকে ম্যানেজ করে অন্যান্য আসামীদেরকে পুলিশের ধর-পাকড়ার বাইরে রেখেছে বলে অভিযোগ ওঠেছে। উল্লেখিতদের ন্যায় এই মামলার অন্যান্য আসামীরা হল আবদুর রহমান, মোঃ কালাম, মুজিবুর রহমান, খোকন পাল, আব্দুল শুক্কুর, মো. কাউছার আলম, গুংগু, মো. নুরুল রায়হান, আমিনুল ইসলাম, মো. রাসেল, মুক্তার আহম্মদ, মো. আলমগীর, খায়রুল বশর, নাছির উদ্দিন, শামসুল আলম, মো. সুলতান সওদাগর, আবু হাসনাত সোহেল, মো. ইয়াহিয়া, খালেদা মোশাররফ, আরিফুল ইসলাম মেহেদী, মহিব উল্লাহ, আব্দুল মতিন, আব্দুল হালিম, মো. হামিদ হোসেন, এসএম কিবরিয়া, ঢাকা-গাজীপুর শুটকি বিতানের মালিক, হাজী বিরানী হাউসের মালিক, তারকা রেস্তোরাঁর মালিক, কামাল-কবির, শুটকি বিতানের মালিক, ভাই ভাই সী-ফিস রেস্তোরাঁর মালিক, রাঙ্গাবালি শুটকি বিতানের মালিক, রামী শাহ শুটকি বিতানের মালিক, সী-ফুডস অ্যান্ড বার বিউয়ের মালিক, সিঙ্গারা হাউসের মালিক, ফিস ফ্রাই দোকানের মালিক, ইনসাফ রেস্তোরাঁর মালিক মো. নাজিম উদ্দিন ও সেন্টমার্টিন ভ্রমণ কাউন্টারের মালিক কাদের খান।
এদিকে ঘটনার দিন ১০ জন আটক হলেও মামলা দায়েরের ১৬ দিন পার হলেও পরবর্তী কোন আসামী আটক হয়নি। পাশাপাশি এই হামলাকারিদের আটকে পুলিশি অভিযানও চোখে পড়েনি। যার কারনে আসামীরা বীরদর্পে ঘুরে মামলা আপোষের নামে অপর আসামীদের কাছে নানা ধান্ধাবাজি করার সুযোগ পাচ্ছে।
কক্সবাজার সদর মডেল থানার অফিসার ইনচার্জ মুনীর উল গিয়াস জানান-আসামীদের আটকে পুলিশী অভিযান অব্যাহত রয়েছে। আসামীরা আত্মগোপনে থাকায় আটক করা সম্ভব হচ্ছে না। তবুও তদন্তকারী কর্মকর্তার সাথে কথা বলে পলাতক আসামীদের আটকের বিষয়ে সর্তক করা হবে।
অন্যদিকে কক্সবাজার উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের চেয়ারম্যান লে. কর্ণেল (অবঃ) ফোরকান আহমদ বলেন- অপরাধীদের সাথে আপোষ করা আমার নৈতিকতায় নেই। যদি মামলার আপোষের নামে কিংবা কারো নাম ভাঙ্গিয়ে কেউ টাকা তুলে থাকে সেটি তাদের ব্যক্তিগত বিষয়। কউকের পক্ষ থেকে কখনো এই মামলা আপোষ করার সুযোগ নেই।
বার্তাবাজার/কে.জে.পি