নারায়ণগঞ্জ সদর উপজেলার ফতুল্লায় অপহরণ করে বিষ খাইয়ে হত্যা ও লাশ গুমের ৬ বছর পর মামুন নামে এক যুবক ফিরে আসায় ওই ঘটনায় দায়েরকৃত মামলা থেকে অব্যাহতি পেয়েছেন এক নারীসহ নিরপরাধ ৬ জন। গতকাল বৃহস্পতিবার নারায়ণগঞ্জের সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট ফারহানা ফেরদৌস শুনানি শেষে মিথ্যা ওই মামলা থেকে তাদের অব্যাহতি দেন।
মামলা থেকে অব্যাহতি পাওয়া ৬ জন হলেন: তাসলিমা, তার বাবা রহমত উল্লাহ, ভাই রফিক, খালাতো ভাই সোহেল ও সাগর এবং মামা সাত্তার মোল্লা।
৬জন বিভিন্ন মেয়াদে কারাভোগও করেন। রিমান্ডেও তাদের জিজ্ঞাসাবাদের নামে নির্যাতনের অভিযোগ তোলা হয় পুলিশের বিরুদ্ধে। এদিকে ওই মামলার ৩ তদন্ত কর্মকর্তা ফতুল্লা মডেল থানার এসআই মিজানুর রহমান, নারায়ণগঞ্জ সিআইডি’র সহকারী পুলিশ সুপার হারুন অর রশিদ ও এসআই জিয়াউদ্দিন উজ্জ্বল সশরীরে বৃহস্পতিবার একই আদালতে হাজির হয়ে তাদের তদন্তে ভুল থাকার কথা স্বীকার করে ক্ষমা প্রার্থনা করেন। ওই সময় ৩ কর্মকর্তা আদালতকে বলেন, এই মামলায় মাকসুদা বেগম নামে এক সাক্ষী আদালতে ১৬৪ ধারায় জবানবন্দি দিয়ে ভিকটিম মামুনকে অপহরণের পর বিষ মিশ্রিত শরবত খাইয়ে হত্যার পর লাশ শীতলক্ষ্যা নদীতে ফেলে দেয়ার কথা জানানোর কারণেই তদন্তে এই ভুল হয়েছে।
মামলার আসামিপক্ষের আইনজীবী এডভোকেট এমদাদ হোসেন সোহেল বলেন, ফতুল্লা থানায় কথিত ওই অপহরণ মামলাটি দায়েরের ৪ বছর পর মিথ্যা এই মামলা থেকে তার ৬ মক্কেল অব্যাহতি পেলেন।
২০১৪ সালের ১০ মে মামুনকে অপহরণ করা হয়েছে অভিযোগ এনে ২০১৬ সালের ৯ই মে ফতুল্লা মডেল থানায় মামলা করেন মামুনের বাবা আবুল কালাম। ওই মামলায় ৬ জনকে বিবাদী করা হয়। তাদের বিরুদ্ধে মামুনকে অপহরণের পর গুমের অভিযোগ করা হয়েছিল। মামলাটি প্রথম তদন্ত করেন ফতুল্লা মডেল থানার এসআই মিজানুর রহমান। পরবর্তীতে মামলাটি পুলিশের অপরাধ বিভাগ সিআইডিতে ন্যস্ত করা হয়।
সিআইডি’র সহকারী পুলিশ সুপার হারুন অর রশিদ ২০১৯ সালের ১৮ই ডিসেম্বর মামলার চার্জশিট আদালতে দাখিল করেন। এতে মামলার এজাহারভুক্ত ৬ জনকেই অভিযুক্ত করেন। সাক্ষী করা হয়েছিল ২১ জনকে।
বার্তাবাজার/কে.জে.পি