ফরিদপুরের আলফাডাঙ্গায় বোনের নির্যাতনের প্রতিবাদ করতে গিয়ে মোস্তফা মোল্যা (৪০) নামে আপন বড় ভাইয়ের নিহতের ঘটনা ঘটেছে।
আজ বুধবার সকাল ১০টার দিকে রাজধানীর সোহরাওয়ার্দী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে তার মৃত্যু হয়। নিহত মোস্তফা উপজেলার পাঁচুড়িয়া ইউনিয়নের ভাটপাড়া গ্রামের কাশেম মোল্যার বড় ছেলে।
স্থানীয় ও পারিবারিক সূত্রে জানা গেছে, উপজেলার ভাটপাড়া গ্রামের কাশেম মোল্যার মেয়ে ঝর্ণা বেগমের সাথে একই ইউনিয়নের চর পাঁচুড়িয়া গ্রামের ইদ্রিস মৃধার ছেলে রবিউল মৃধার বিয়ে হয়। বিয়ের পর থেকেই স্বামী রবিউল ও তার পরিবারের লোকজন যৌতুকের জন্য স্ত্রী ঝর্ণাকে মারধর ও নির্যাতন করতো।
গতকাল মঙ্গলবার (৩ নভেম্বর) রাতে পুনরায় রবিউল তার স্ত্রীকে বেধড়ক মারধর করে। একপর্যায়ে সে পাশের এক বাড়িতে পালিয়ে গিয়ে তার বাবার বাড়িতে ফোন দেয়। খবর পেয়ে ঝর্ণা বেগমের আপন বড় ভাই মোস্তফা মোল্যাসহ আরও দুই ভাই বোনের শ্বশুরবাড়ি চর পাঁচুড়িয়া গিয়ে প্রতিবাদ ও রবিউলকে শাসন করতে যায়।
এ সময় রবিউল ক্ষিপ্ত হয়ে স্ত্রীর বড়ভাই মোস্তফাসহ সকলের ওপর অতর্কিত হামলা চালায়। হামলার সময় অন্যরা পালিয়ে গেলেও মোস্তফাকে আটকিয়ে গাছের সাথে বেঁধে বেধড়ক মারপিট করে। এতে মোস্তফা মারাত্মক জখম হয়। পরে স্থানীয়রা তাকে পার্শ্ববর্তী বোয়ালমারী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের জরুরী বিভাগে নিলে মোস্তফার শারীরিক অবস্থা আশঙ্কাজনক হওয়ায় উন্নত চিকিৎসার জন্য রাতেই ফরিদপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে স্থানান্তর করা হয়।
সেখানে মোস্তফার শারীরিক অবস্থা আরো খারাপ হওয়ায় ফরিদপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের জরুরি বিভাগ থেকে তাকে ওই রাতেই ঢাকার সোহরাওয়ার্দী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে স্থানান্তর করা হয়। পরে সোহরাওয়ার্দী হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মোস্তফা মোল্যা মারা যায়।
এ বিষয়ে পাঁচুড়িয়া ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যান এস এম মিজানুর রহমান জানান, ‘আমি ব্যবসায়িক কাজে ঢাকায় আছি। তবে এলাকা থেকে শুনেছি মেয়েটিকে বিয়ের পর থেকেই তার স্বামী মারধর করতো। মঙ্গলবার রাতে ঝর্নার ভাইয়েরা বোনের মারধরের প্রতিবাদ করতে গেলে বড়ভাই মোস্তফাকে গাছের সাথে বেঁধে নির্যাতন করার পর তিনি হাসপাতালে মারা গেছে।’
জানতে চাইলে আলফাডাঙ্গা থানার অফিসার ইনচার্জ রেজাউল করীম জানান, ‘খবর পাওয়ার পর ঘটনাস্থলে পুলিশ পাঠানো হয়েছে। আমি ফরিদপুর একটি মিটিংয়ে আছি। এখন পর্যন্ত থানায় কেউ অভিযোগ দেয়নি। তদন্ত পূর্বক পরবর্তী আইনী ব্যবস্থা নেওয়া হবে। এলাকায় শান্তি-শৃঙ্খলার্থে পুলিশ মোতায়েন রয়েছে।’
বার্তাবাজার/অমি