মাদরাসায় নিয়োগ নিয়ে তেলেসমাতি: পরীক্ষার আগেই প্রার্থী চূড়ান্ত!
সিরাজগঞ্জের রায়গঞ্জ উপজেলার চান্দাইকোনা ইউনিয়নের এম আর দাখিল মাদরাসার নিরাপত্তা কর্মী ও আয়াপদে আগেই টাকার বিনিময়ে চূড়ান্ত প্রার্থী মনোনীত করে নিয়োগ পরীক্ষা সম্পন্ন করার অভিযোগ উঠেছে। এ বিষয়ে ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের হস্তক্ষেপ কামনা করেছে ভুক্তভোগীরা।
অভিযোগে জানা গেছে, ওই মাদাসায় নিরাপত্তা কর্মী পদে ৭ জন এবং আয়াপদে ৫ জন প্রার্থী আবেদন করে পরিক্ষায় অংশগ্রহন করে। এদিকে মাদরাসা সুপার মো. আনোয়ার হোসাইন ও সভাপতি আব্দুস ছবুর বিপ্লব নিরাপত্তা পদে রুহুল আমিন এর নিকট হতে ১৫ লক্ষ এবং আয়াপদে মোছা. ছনিয়া খাতুনের নিকট হতে ৬ লক্ষ টাকা অগ্রিম গ্রহণ করে।
সর্ব মোট ২১ লক্ষ টাকার বিনিময়ে মেধাবীদের হার মানাতে শেষ পর্যন্ত তেলেসমাতিতে ডিজির প্রতিনিধি ও উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তা মেতে উঠেছিলেন বলে স্থানীয় মহলে বেশ গুঞ্জব বইছে। জানা যায়, নিরাপত্তা পদের ৪ জন ও আয়া পদের ৩ জনকে শুধু পরিক্ষায় অংশগ্রহণ করার জন্যই প্রত্যেককে ২০ হাজার টাকা করে চুক্তিবদ্ধ করেছিলো সভাপতি বিপ্লব।
তথ্যানুসন্ধানে জানা যায়, মঙ্গলবার (৩ নভেম্বর ২০২০) এম আর দাখিল মাদাসায় আয়াপদে ও নিরাপত্তা কর্মীপদে নিয়োগ পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হয়। এই নিয়োগ পরীক্ষার পূর্বেই দাখিল মাদাসার সভাপতি বিপ্লব ও সুপার আনোয়ার হোসেন নিয়োগের নামে স্থানীয় মজুপুর চরপাড়া গ্রামের আবু সাঈদের পূত্র রুহুল আমিনের কাজ থেকে ১৫ লক্ষ টাকা মৌখিক ভাবে চুক্তি বদ্ধ হয়। আর এই টাকা জোগার করতে পিতা আবু সাঈদ তার নিজ ৪৯ শতক ফসলি জমি বিক্রয়ের প্রস্তাব দেয়। মজুপুর মৌজায় যাহার দাগ নং আর.এস ৭৭, খতিয়ান নং ৫৩। অপরটির দাগ নং ৭৮, খতিয়ান নং ৪৫। উক্ত ২টি দাগে মোট ৪৯ শতক জমি একই গ্রামের আব্দুল করিমের পূত্র রওশন আলী, লোকমান হোসেন ও লুৎফর রহমানের নিকট থেকে ১২ লক্ষ টাকায় গত ২৮ জুলাই ২০২০ইং তারিখে রায়গঞ্জ রেজিষ্টি অফিসে বিক্রি কবলা করে দেয়। যাহার দলিল নং ২১২৮।
জমি বিক্রি করে ১৫ লক্ষ টাকা না হওয়ায় আবু সাঈদ তার আরো বেশকিছু আবাদী জমি বন্ধুকী রেখে ছেলের চাকুরির আগেই ১৫ লক্ষ টাকা সভাপতি বিপ্লব ও সুপারের হাতে তুলে দেয়।
অপরদিকে আয়াপদে একই গ্রামের ছোবাহানের কন্যা ছনিয়া খাতুনকে চাকুরি দেয়ার নামে তার নিকট থেকে একই কায়দায় ৬ লক্ষ টাকা সভাপতি ও সুপার হাতিয়ে নেয়। পরে সর্বমোট ২১ লক্ষ টাকা হাতিয়ে নেয়ার ঘটনাটি ছরিয়ে পড়ে। এ ঘটনায় এলাকায় নানা ধরনের গুনজন শুরু হয় এমনকি নিয়োগ বানিজ্যর ঘটনাটি গনমাধ্যমে প্রকাশ পেলে স্থানীয় এমপি পর্যন্ত গড়ায়। এক পর্যায়ে এমপির হস্থক্ষেপে ওই পাতানো নিয়োগ বানিজ্যটি বন্ধ হয়ে যায়।
এদিকে স্বপ্নের চাকুরির আশায় সব বিলিয়ে দেয়া নিঃস্ব দুই প্রার্থী ও তার পরিবারের চাপে সভাপতি ও সুপার অবস্থা বেগতীক দেখে এমপির নিকট গিয়ে স্বচ্ছ নিয়োগের কথা বলে পুন:নিয়োগের জন্য এমপির অনুমতি নেয়। কিন্তু বাস্তবে আদায়কৃত ২১ লাখ টাকা হযম করতে নিরাপত্তা কর্মীপদে রুহুল ও আয়াপদে ছনিয়াকে চাকুরি দিতে উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তা ও ডিজি প্রতিনিধিকে মোটা অঙ্কের টাকায় ম্যানেজ করে বলে নাম প্রকাশ না শর্তে অত্র প্রতিষ্ঠানের এক শিক্ষক ও স্থানীয়রা জানায়।
এদিকে নাম প্রকাশ না শর্তে নিরাপত্তা প্রহরী পদের পরিক্ষার্থী বলেন আমাকে আগেই যাদের নিয়োগ দেওয়া হবে তাদের বিষয়ে ইঙ্গিত দিয়েছে। এ কথা আমি আবার কাউকে যেন না বলি সে বিষয়ে অনুরোধ ও করেছে সুপার ও সভাপতি।
এম আর মাদাসার সুপার মো. আনোয়ার হোসাইন বলেন, এ বিষয়ে আমি কিছু বলতে পারবোনা। কিছু জানার প্রয়োজন থাকলে সভাপতির সাথে কথা বলেন। নিয়োগ সংক্রান্ত বিষয়ে আমার কথা বলা নিষেধ।
অত্র প্রতিষ্ঠানের সভাপতি মো. আব্দুল সবুর বিপ্লব অভিযোগ অস্বীকার করে বলেন, আমার সুনাম নষ্ট করার জন্য প্রতিপক্ষ এগুলো বলছে। তবে এটা সত্য নয়। নিয়োগ বৈধভাবে হয়েছে বলে তিনি দাবি করেন। এবং এটা স্বীকার করেন যে নিয়োগ স্থানীয় এমপি বন্ধ রেখেছিলো।
এদিকে এ ব্যাপারে কথা বলতে নাড়াজ উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তা মো. তারিকুল আলম।
এ প্রসঙ্গে জেলা শিক্ষা কর্মকর্তা ও ডিজির প্রতিনিধি মো. শফিউল্লাহ বলেন, পরিক্ষার আগেই প্রার্থী চুড়ান্ত হয়েছে কিনা জানিনা। তবে প্রত্যেক প্রার্থী পরিক্ষায় অংশগ্রহন করেছিলো। তাদের মধ্যে যে দুজন বেশী নাম্বার পেয়েছে তারা উত্তীর্ণ হয়েছে। তবে পরিক্ষার পূর্বেই অন্যান্য পরিক্ষার্থী,শিক্ষক, ম্যানেজিং কমিটি ও স্থানীয় মহলে নিরাপত্তা পদে রুহুল আমিন ও আয়া পদে ছনিয়ার নাম শোনা যাচ্ছিলো কেন?এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি এড়িয়ে যান।###
বার্তা বাজার/এস.আর