নোবিপ্রবিতে শিক্ষকদের ক্লাস-পরীক্ষা বর্জনের একমাস, অনিশ্চয়তার মুখে শিক্ষার্থীদের জীবন

নোবিপ্রবিতে শিক্ষকদের ক্লাস- পরীক্ষা বর্জনের একমাস, অনিশ্চয়তা মুখে শিক্ষার্থীদের জীবন

মোঃ ফাহাদ হোসেন, নোবিপ্রবি প্রতিনিধি।

শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের নিয়োগ নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহারের দাবিতে নোয়াখালী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ে ( নোবিপ্রবি) ক্লাস বর্জনের একমাস পেরিয়ে গেলেও মেলেনি কোনো সমাধান। বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষকদের ১ মাস ক্লাস বর্জনে চরম অনিশ্চিতায় মুখে পড়ছে শিক্ষার্থীদের শিক্ষা জীবন।

করোনাভাইরাস প্রাদুর্ভাবের কারণে গত ১৮ মার্চ থেকে সারাদেশে সকল ধরনের শিক্ষা প্রতিষ্ঠান বন্ধ রয়েছে। দীর্ঘদিন শিক্ষা প্রতিষ্ঠান বন্ধ থাকায় ব্যাহত হয়েছে শিক্ষা কার্যক্রম। তার উপর শিক্ষক সমিতির ডাকা ক্লাস ও পরীক্ষা বর্জন শিক্ষার্থীদের উপর ” মরার উপর খাড়ার ঘা ” হিসেবে দেখা দিয়েছে।

জানা যায়, শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহারের দাবিতে গত ৩০ সেপ্টেম্বর নোবিপ্রবি শিক্ষক সমিতি সকল ধরনের ক্লাস পরীক্ষা বর্জনের ডাক দেয়। এরপর দিন থেকে শ্রেণি কার্যক্রম বন্ধ রাখেন তারা। এর আগে একই দাবিতে মানববন্ধন, অবস্থান কর্মসূচি ও আল্টিমেটাম দিয়ে কোন সমাধানে যেতে না পারায় এ কর্মসূচির ডাক দেন শিক্ষক নেতারা।

বিশ্ববিদ্যালয় সূত্রে জানা যায়, সাবেক উপাচার্য অধ্যাপক ড. মো. ওয়াহিদুজ্জামান এর সময় অনিয়ম ও দুর্নীতির অভিযোগে ২০১৯ সালের ২৮ এপ্রিল নোবিপ্রবির সব পর্যায়ের শিক্ষক-কর্মকর্তা-কর্মচারী নিয়োগ স্থগিত রাখার নির্দেশ দেয় শিক্ষা মন্ত্রণালয়। সেই স্থগিত আদেশের দেড় বছর পেরিয়ে গেলেও এখনো সে আদেশ তুলে নেয়নি শিক্ষা মন্ত্রণালয়।

এদিকে, শিক্ষক সংকটে মুখে ব্যাহত হচ্ছে বিশ্ববিদ্যালয়ের স্বাভাবিক একাডেমিক কার্যক্রম।সংশ্লিষ্টদের অভিমত, এতে সবচেয়ে বেশি ক্ষতির মুখে বিশ্ববিদ্যালয়ের নবীন বিভাগগুলো। এছাড়া অস্থায়ী নিয়োগপ্রাপ্ত অর্ধশতাধিক শিক্ষক দীর্ঘদিন পেরিয়ে গেলেও কোন পদোন্নতি পায়নি। এদিকে ,তাদের পরবর্তীতে স্থায়ী পদে নিয়োগপ্রাপ্তরাও পদোন্নতি পেয়ে গেছেন। ফলে বৈষম্যের শিকার হচ্ছেন অস্থায়ী শিক্ষকরা। শিক্ষা মন্ত্রালয়ের নিষেধাজ্ঞা থাকায়, বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন চাইলেও শূন্য পদে নিয়োগ ও পদোন্নতি দিতে পারছে না বলে দাবী বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন সংশ্লিষ্টদের।

বিশ্ববিদ্যালয়ের অর্থনীতি বিভাগের ২০১৯-২০ সেশনের শিক্ষার্থী তানবিরুল ইসলাম বলেন, ” করোনা পরিস্থিতির কারণে সরকারী সিদ্বান্তে বিশ্ববিদ্যালয় বন্ধ রয়েছে। এতে করে শিক্ষার্থীদের উপর বিরাট প্রভাব পড়ছে। সেই সাথে মহামারী করোনার কারনে শিক্ষার্থীরা সেশনজটে পড়ে যেতে পারে। দেশের অন্যান্য বিশ্ববিদ্যালয়গুলো যেখানে অনলাইন শিক্ষা কার্যক্রম পরিচালনার মাধ্যমে তাদের সেশনগুলো শেষ করছে। সেখানে সম্মানিত শিক্ষকদের ক্লাস- পরীক্ষা বর্জন কারণে আমরা শিক্ষার্থীরা বেশি ক্ষতিগ্রস্থ হচ্ছি। আশা করি, বিদ্যমান সমস্যা দ্রুত সমাধান করে আমরা আবারও শিক্ষা কার্যক্রমে ফিরে আসতে পারবো।

শুধু এই শিক্ষার্থীই নয়, বিভিন্ন বিভাগের কয়েকজন শিক্ষার্থীর সাথে কথা বলে জানা গেছে, নিজেদের শিক্ষা কার্যক্রম ও ভবিষ্যৎ জীবন নিয়ে শঙ্কিত রয়েছেন তারা। তারা চায়, দায়িত্বশীল মহল থেকে তাদের পক্ষে কোন সিদ্ধান্ত আসুক।

এ ব্যাপারে নোবিপ্রবি শিক্ষক সমিতির সভাপতি অধ্যাপক ড. নেওয়াজ মোহাম্মদ বাহাদুর বলেন, এখন পর্যন্ত আমরা কোন ফলাফল পায়নি। তবে দাবি আদায় না হওয়া পর্যন্ত আমাদের স্থগিতাদেশ বহাল থাকবে। তাছাড়া এই সিদ্ধান্তে কোন পরিবর্তন আসবে কিনা, তা পরবর্তী কার্যকরী পরিষদের বৈঠক না হওয়া পর্যন্ত বলা যাচ্ছে না।

বার্তা বাজার / ডি.এস

বার্তা বাজার .কম'র প্রকাশিত/প্রচারিত কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা যাবে না।
এই বিভাগের আরো খবর