দেশে দুর্যোগের ক্ষয়ক্ষতি কাটিয়ে ওঠতে এবং রবি মৌসুমে ফসলের উৎপাদন বাড়াতে সাড়ে ১১ লাখ কৃষককে পুনর্বাসন কর্মসূচির আওতায় ৯৮ কোটি ৫৪ লাখ ৫৫ হাজার ৩০০ টাকার সার ও বীজ দেবে সরকার।
দেশের ৫১ জেলায় বেশি ক্ষতিগ্রস্ত ক্ষুদ্র ও প্রান্তিক কৃষকদের বিনামূল্যে রবি মৌসুমে গম, সূর্যমুখী, খেসারি, মসুর, চিনাবাদাম, সরিষা, টমেটো এবং মরিচ চাষের জন্য এসব বীজ ও সার দেওয়া হবে।
কৃষি মন্ত্রণালয় পুনর্বাসন কর্মসূচির আওতায় ইতোমধ্যে এসব জেলার ডিসিদের অনুকূলে অর্থ বরাদ্দ দিয়ে চিঠি পাঠিয়েছে।
ঢাকা, নারায়ণগঞ্জ, গাজীপুর, নরসিংদী, মুন্সীগঞ্জ, মানিকগঞ্জ, টাঙ্গাইল, কিশোরগঞ্জ, ময়মনসিংহ, নেত্রকোণা, জামালপুর, শেরপুর, কুমিল্লা, ব্রাহ্মণবাড়িয়া, চাঁদপুর, সিলেট, হবিগঞ্জ, সুনামগঞ্জ, নোয়াখালী, লক্ষ্মীপুর, রাজশাহী, নওগাঁ, চাঁপাইনবাবগঞ্জ, নাটোর, বগুড়া, জয়পুরহাট, সিরাজগঞ্জ, পাবনা, রংপুর, গাইবান্ধা, নীলফামারী, কুড়িগ্রাম, লালমনিরহাট, দিনাজপুর, পঞ্চগড়, ঠাকুরগাঁও, যশোর, কুষ্টিয়া, সাতক্ষীরা, বাগেরহাট, বরিশাল, ভোলা, ঝালকাঠি, পিরোজপুর, পটুয়াখালী, বরগুনা, ফরিদপুর, মাদারীপুর, গোপালগঞ্জ, রাজবাড়ী ও শরীয়তপুর জেলার কৃষকরা এসব সহায়তা পাবেন।
তালিকাভুক্ত একটি কৃষক পরিবার এই কর্মসূচির আওতায় এক বিঘা জমিতে চাষের জন্য ০১ কেজি সরিষা, ২০ কেজি গম, ১০ কেজি চীনাবাদাম, ০৫ কেজি মসুর, ০৮ কেজি খেসারী, ০১ কেজি সূর্যমুখী, শূন্য দশমিক ০৫ কেজি টমেটো এবং শূন্য দশমিক ৩০ কেজি মরিচের বীজ পাবেন।
এছাড়া প্রত্যেক কৃষককে দেওয়া হবে, সর্বোচ্চ ১০ কেজি ডিএপি এবং ১০ কেজি করে এমওপি সার।
বরাদ্দপত্রে উল্লেখ করা হয়েছে, সংশ্লিষ্ট ব্লকের উপ-সহকারী কৃষি কর্মকর্তা মনোনীত প্রত্যেক কৃষকের স্ট্যাম্প সাইজের ছবিযুক্ত কৃষক উপকরণ কার্ডের ভর্তুকি অংশে যথাযথভাবে উপকরণের পরিমাণ লিখে মাস্টার রোল সংরক্ষণ করে উপকরণ বিতরণ করবেন।
যদি এই উপকরণ কার্ড কোনো কৃষকের না থাকে সেক্ষেত্রে মাস্টার রোলে কৃষকের নাম, ঠিকানা, মোবাইল নম্বর, জাতীয় পরিচয়পত্র নম্বর (যদি থাকে), স্ট্যাম্প সাইজের ছবি সংযুক্ত করে সংরক্ষণ করতে হবে।
উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা এবং উপজেলা কৃষি পুনর্বাসন বাস্তবায়ন কমিটিকে কৃষি সহায়তা উপকরণ বিতরণের জন্য সংশ্লিষ্ট কৃষকের তালিকা, ব্লক বা ইউনিয়ন ভিত্তিক বিতরণ রেজিস্টারসহ যাবতীয় হিসাব ও কাগজপত্র সংরক্ষণ করতে বলা হয়েছে।
এছাড়া কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের সংশ্লিষ্ট উপ-পরিচালকের কাছে কৃষকের তালিকার এক কপি পাঠাতে হবে। পরে উপ-পরিচালককে কৃষকের তালিকা সংরক্ষণ করে এক কপি কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের মহাপরিচালকের কাছে পাঠাতে বলা হয়েছে।
বার্তা বাজার/কে.কে