কক্সবাজার জেলা ছাত্রলীগের নতুন কমিটি ঘোষণা: বুধবার হরতালের ডাক

টানা পাঁচ বছর পর কক্সবাজার জেলা ছাত্রলীগের নতুন কমিটি ঘোষণা করা হয়েছে। একই সাথে পূর্বের কমিটি বিলুপ্ত ঘোষণা করা হয়েছে। সম্মেলনবিহীন কমিটি ঘোষণায় ক্ষুব্ধ পূর্বের কমিটির সভাপতি ও ভারপ্রাপ্ত সাধারণ সম্পাদক। দাবী না মানলে বুধবার সকাল সন্ধ্যা হরতাল পালন করবে পদ বঞ্চিতরা।

সোমবার (২রা নভেম্বর) কেন্দ্রীয় ছাত্রলীগের সভাপতি আল নাহিয়ান খান জয় এবং সাধারণ সম্পাদক লেখক ভট্টাচার্য্য স্বাক্ষরিত কেন্দ্রীয় ছাত্রলীগের অফিসিয়াল প্যাডে এ কমিটি অনুমোদন দেন।

নবগঠিত কমিটিতে জেলা ছাত্রলীগের পূর্বের কমিটির সাংগঠনিক সম্পাদক সাদ্দাম হোসেন ও উপ-শিক্ষা ও পাঠচক্র বিষয়ক সম্পাদক মারুফ আদনানকে সাধারণ সম্পাদকের দায়িত্ব দেয়া হয়েছে। কেন্দ্রীয় ছাত্রলীগ কমিটির বিষয়ে সত্যতা নিশ্চিত করেছেন।

সূত্র মতে, ২০১৫ সালের ১০ই জানুয়ারী কক্সবাজার জেলা ছাত্রলীগের কমিটিতে ইশতিয়াক আহমেদ জয়কে সভাপতি ও ইমরুল হাসান রাশেদকে সাধারণ সম্পাদক করে একটি কমিটি ঘোষনা করা হয়। পরবর্তীতে সাধারণ সম্পাদক ইমরুল হাসান রাশেদ ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যান নির্বাচিত হলে, গঠনতন্ত্র মতে মোর্শেদ হোসেন তানিমকে ভারপ্রাপ্ত সাধারণ সম্পাদকের দায়িত্ব দেয়া হয়। ২০১৫ সাল পরবর্তী কমিটির মেয়াদ পূর্ণ হলে কেন্দ্র থেকে বেশ কয়েক দফা সম্মেলন করার তাগাদা দেয়া হয়। সভাপতি ও ভারপ্রাপ্ত সাধারণ সম্পাদক সম্মেলন করতে বারবার ব্যার্থ হয়।

কেন্দ্রীয় ছাত্রলীগের সাংগঠনিক সম্পাদক মামুন বিন সাত্তার কেন্দ্রীয় সভাপতি-সম্পাদকের বরাত দিয়ে বার্তা বাজারকে জানান, বিগত জেলা কমিটির বিরুদ্ধে সংগঠন বিরোধী কর্মকান্ডের অভিযোগের শেষ নেই। নিজেদের ব্যক্তিগত সুবিধা ও ক্ষমতার প্রভাব বিস্তার করতে গিয়ে তারা কেন্দ্রীয় কমিটির সিদ্ধান্তকে ডিঙ্গিয়ে সুশৃংখল একটি সংগঠনকে ধ্বংশের শেষ প্রান্তে নিয়ে গেছে। তাদের কর্মকান্ডে চরম অসন্তোষ হয়ে সংগঠন বাঁচাতে স্থানীয় আওয়ামী লীগের সিনিয়র নেতাদের সম্মতিতে একান্ত ত্যাগী ও কর্মী বান্ধব যারা তাদের হাতেই নিয়মতান্ত্রিকভাবে নতুন করে জেলা ছাত্রলীগের দায়িত্ব তুলে দেয়া হয়েছে। তাছাড়া, সংগঠনের যোগ্যরা যেনো পদবঞ্চিত না হয় বিষয়টি মাথায় রেখে এবারের কমিটির পদ পরিধি একটু বাড়ানো হয়েছে।

সদ্য বিলুপ্ত কমিটির একটি দায়িত্বশীল সূত্র এটিকে পকেট কমিটি দাবী করার বিষয়ে জানতে চাওয়া হলে তিনি বলেন, ছাত্রলীগ প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার তদারকিতে চলে, সুতরাং এসব করার কোন সুযোগ নেই। ইসতিয়াক ও তানিমের অনুগত প্রত্যেকের বিরুদ্ধে কেন্দ্রীয় কমিটি চরম অসন্তোষ। তাদের এমন কর্মকান্ডের সুযোগ বন্ধ করে দিতেই তাদের মনোনীত কাউকে কমিটির শীর্ষ পদে স্থান দেয়া হয়নি।

এদিকে, সদ্য বিদায়ী ভারপ্রাপ্ত সাধারণ সম্পাদক তানিম জানান, সম্মেলন ব্যতীত কমিটি চাপিয়ে দেয়ার বিষয়টি কোনভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়। দীর্ঘদিন ছাত্রলীগের সাথে যুক্ত আছি, শেষ লগ্নে এসে কেন্দ্রীয় ছাত্রলীগের কাছে সম্মানজনকভাবে বিদায় আশা করি।

অপরদিকে, সম্মেলনের মাধ্যমে কমিটি গঠনের দাবীতে সোমবার রাতেই অনুষ্ঠানিকভাবে সকাল-সন্ধ্যা হরতালের ঘোষণা দিয়েছেন পূর্বের কমিটির যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মারুফ ইবনে হোসাইন।

বার্তা বাজার / ডি.এস

বার্তা বাজার .কম'র প্রকাশিত/প্রচারিত কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা যাবে না।
এই বিভাগের আরো খবর