অবশেষে বদলি হলেন শৈলকুপার সেই ইউএনও মোহাম্মদ সাইফুল ইসলাম। ঝিনাইদহের শৈলকুপা উপজেলার বহুল আলোচিত নির্বাহী কর্মকর্তার বিরুদ্ধে ব্যাপক অনিয়ম দুর্নীতির নানা বিধ অভিযোগের খবর প্রচারিত ও প্রকাশিত হয় বিভিন্ন বেসরকারি টিভি চ্যানেল, জাতীয় পত্রিকাসহ গণমাধ্যমে। এ নিয়ে তোলপাড় শুরু হয় সর্বস্তরের মানুষসহ সংশ্লিষ্ট বিভাগের কর্মকর্তাদের মাঝে। তার দুর্নীতির তদন্ত শুরু করে দুদকের একটি টিম।
জানা যায়, গত ২৯ অক্টোবর তাকে বদলী করা হয়েছে পরিকল্পনা কমিশনে। জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের এপিডি অনুবিভাগের উপ-সচিব আলিয়া মেহের স্বাক্ষরিত এ বদলীর আদেশ জারি করা হয়। সম্প্রতি ঘর নির্মাণ নিয়ে নানা অনিয়ম আর দুর্নীতির অভিযোগ ওঠে তার বিরুদ্ধে।
প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের অর্থায়নে ‘জমি আছে ঘর নাই’ আশ্রয়ণ-২ প্রকল্পে শৈলকুপায় ৩৭ টি ঘর নির্মাণের শুরু থেকে দুর্ণীতির অভিযোগ ওঠে। উপকারভোগীরা অভিযোগ তোলে নিন্মমানের ইট, বালি, সিমেন্ট দিয়ে ঘর নির্মাণ কাজ হচ্ছে। নির্মানাধীন অবস্থায় ধ্বসে পড়ে বিভিন্ন এলাকার ৫ টি ঘর। এসময় আহত হয় বেশ কয়েকজন।
ইতিপূর্বে শৈলকুপা উপজেলায় কর্মরত থাকা অবস্থায় প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা (পিআইও) মুহাম্মদ আব্দুর রহমান ইউএনও’র অনিয়ম দুর্নীতির প্রতিবাদ করে তার সাথে বিরোধে জড়িয়ে পড়েছিলেন। এক পর্যায়ে অন্যত্র বদলি করা হয় পিআইও মুহাম্মদ আব্দুর রহমানকে।
প্রায় এক বছরের আগে ঝিনাইদহের হরিনাকুন্ডু উপজেলা থেকে শৈলকুপা উপজেলায় বদলী হয়ে আসেন ইউএনও মোহাম্মদ সাইফুল ইসলাম। পরে শৈলকুপা এসে একের পর এক নানা বিতর্কে জড়িয়ে পড়েন তিনি। বিষয়টি সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমসহ গণমাধ্যমে লেখালেখি হয়। অবশ্য ইউএনও মাঝে মধ্যে তার ফেসবুক আইডিতে এসব ঘটনা কে মিথ্যাচার দাবি করে আত্মপক্ষ সমর্থন করে ব্যাখ্যা দেন।
অবশেষে কর্তৃপক্ষ উপজেলা নির্বাহী অফিসার মোহাম্মদ সাইফুল ইসলামকে পরিকল্পনা কমিশনের সিনিয়র সহকারি প্রধান হিসেবে বদলী করা হয়েছে। ২৯ অক্টোবর ২০২০ইং জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের এপিডি অনুবিভাগের উপ-সচিব আলিয়া মেহের স্বাক্ষরিত এ বদলীর আদেশ জারী করা হয়।
শৈলকুপা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মোহাম্মদ সাইফুল ইসলাম এর কাছে বদলির বিষয়টি জানতে চাইলে তিনি বলেন, এটি চলমান প্রক্রিয়া। অন্য কোন বিষয়ে আমার বদলি হয়নি। নিয়ম অনুযায়ী কর্তৃপক্ষ আমাকে বদলি করেছে। একটি মহল আমার বিরুদ্ধে অপপ্রচার চালাচ্ছে।
বার্তা বাজার/কেএস