পাবনায় গৃহবধু ঐশি হত্যার প্রতিবাদে সড়ক অবরোধ

মীর পরকিয়া সম্পর্কের কথা জেনে যাওয়ায় পাবনার ঈশ্বরদী উপজেলার সাহাপুর ইউনিয়নের চর আওতাপাড়া গ্রামের ঐশি খাতুন (২০) নামে এক গৃহবধূকে শারিরীক আঘাতসহ গলায় ফাঁস দিয়ে হত্যার অভিযোগ উঠেছে স্বামী জাহিদ হাসানের বিরুদ্ধে। এই হত্যাকান্ডের ঘটনায় সকাল থেকে পাবনা ঈশ্বরদী সাব সড়ক অবরোধ করে বিক্ষোভ প্রর্দশন করে। ঘটনার পরে থেকে অভিযুক্ত পরিবারে সদস্যরা বাড়িতে তালা দিয়ে ঐশির মেয়েকে নিয়ে পালিয়েছে।

স্থানীয়দের সাধ্যমে জানা যায়, শনিবার সন্ধ্যায় পাবনা ঈশ্বরদী উপজেলার সাহা পুর ইউনিয়নের আওতাপাড়া গ্রামে শশুড়ালয়ে স্বামীর নির্মম নির্যাতনের শিকার হয় ঐশি। ঘটনার পরে গৃহবধূ ঐশির পরিবারে মানুষজন স্থানীয়দের মাধ্যমে খবর পেয়ে তাকে অচেতন অবস্থায় উদ্ধার করে। পরে তাকে দ্রুত চিকিৎসার জন্য পাবনা জেনারেল হাসপাতালে নিয়ে গেলে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষনা করেন।

পরিবারের অভিযোগ, স্বামীর পরকিয়া প্রেমের কথা ও স্ত্রী্র জেনে যাওয়ায় কারণে পরিকল্পিতভাবে তাকে হত্যা করেছে স্বামী। গৃহবধূ ঐশির আট মাস বয়সী জান্নাত নামে এক শিশু রয়েছে।

ঘটনার বিষয়ে পাবনা ঈশ্বরদী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা শেখ নাসির উদ্জাদিন বলেন, পরিবার ও স্থানীয়দের মাধ্যমে জানতে পরে ঘটনা স্থল পরিদর্শ করি। মেয়েটিকে অচেতন অবস্থায় আমরা বিছানায় পেয়েছি। তার গলায় ফাঁস দেয়া উড়না ছিলো। তাকে উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য মর্গে পাঠানো হয়েছে। ঘটনার পর থেকে স্বামীসহ শশুড়বাড়ির লোকজন আত্মগোপন করেছে বলে জানা গেছে। যতদূর শুনেছি ছেলেটির অন্য মেয়ের সাথে সস্পর্ক রয়েছে। ময়না তদন্তে প্রতিবেদন পাওয়ার পরে ঘটনার মূল বিষয় জানা যাবে।

এই ঘটনারর পরে শনিবার রাতে নিহত গৃহবধূ ঐশির মা সাহানারা বেগম নিজে বাদী হয়ে মেয়ে জামাইসহ পরিবাের সদস্যদের নাম উল্লেখ করে ঈশ্বরদী থানাতে লিখিত অভিযোগ দায়ের করেছে।

ঘটনার বিষয়ে ঐশির পরিবারিক সূত্রে জানান, ২০১৯ সালের ২৫ জানুয়ারী সলিমপুর ইউনিয়নের মানিকনগর গ্রামে ঘরামি হারুনের ছেলে জাহিদের সাথে বিয়ে হয়। বিয়ের সময় মেয়ের সুখের জন্য নগদ টাকা পয়সা দিয়েও মন পায়নি। বিয়ের পর হতে যৌতুকের জন্য প্রায়ই নির্যাতন করতো আমার মেয়েকে। পরে প্রায় ৩ লাখ টাকা দেওয়া হয়। কিছুদিন পরে আবার ১ লাখ ৭০ হাজার টাকা দিয়ে মোটর সাইকেল কিনে দেওয়া হয়। কিছুদিন আগে আমার মেয়ে টের পায়, তার স্বামীর স্বভাব ‘চরিত্র’ ভালো না।প্রায় তাদের মধ্যে ঝগড়া হতো।

বৃহস্পতিবার (২৯ অক্টোবর)রাতে জামাই জাহিদের মানিব্যাগে জনৈক এক মহিলার ছবি দেখে ঐশি প্রতিবাদ করার কারণে শারীরিক ও মানুষিক নির্যাতনও করে। এ বিষয়টি ঐশি বাবার বাড়িতে অবগত করলে শনিবার (৩১ অক্টোবর) বিকেলে আমার ভাইয়ের ছেলে অমিত ওই বাড়িতে ঐশিকে আনতে যায়। এসময় তখন তার শ্বশুরবাড়ির লোকজন বাবার বাড়ি আসতে দেয় না। অমিত তাদের বাড়ি থেকে চলে আসার পর জামাই জাহিদ মোবাইলে গালিগালাজও করে।

তারপর শারীরিক নির্যাতন করে আমার মেয়েকে মেরে ফেলার কিছুক্ষণ পর সন্ধা খবর বাড়িতে খবর পাঠায়। ঐশি গলায় ফাঁস নিয়ে মারা গেছে। এসময় আমরা তাদের বাড়ি থেকে খাটের ওপর অজ্ঞান অবস্থায় পড়ে থাকতে দেখে, উদ্ধার করে দ্রুত পাবনা হাসপাতালে নিয়ে গেল ডাক্তার মৃত বলে ঘোষনা করেন। এটা পরিকল্পিত হত্যাকান্ড। ওরা আমার সহজ সরল মেয়েটিকে মেরে ফেলেছে। আমি এর বিচার চাই।

বার্তাবাজার/অমি

বার্তা বাজার .কম'র প্রকাশিত/প্রচারিত কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা যাবে না।
এই বিভাগের আরো খবর