আসন্ন ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনকে সামনে রেখে মুন্সীগঞ্জের সিরাজদিখানের বিভিন্ন ইউনিয়নে চেয়ারম্যান পদ প্রত্যাশীদের প্রচার প্রচারণা প্রথম ধাপে শুরু হয়েছে।
উপজেলার ১৪টি ইউনিয়নেই অধিকাংশ সরকার দলীয় পদ প্রত্যাশীদের প্রচারণা চালাতে লক্ষ্য করা যাচ্ছে। কিছু কিছু ইউনিয়নে অন্যান্য দল এবং স্বতন্ত্র প্রার্থীদের ও প্রচারনা লক্ষ্য করা যায়। সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমসহ বিভিন্ন মাধ্যমে পদ প্রত্যাশীরা স্ব-স্ব অবস্থান থেকে নিজেদের জানান দিচ্ছেন।
ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগের নৌকা প্রতিক পাওয়ার জন্য ই এখন সবায় মরিয়া। ইতোমধ্যে উপজেলার ১৪ টি ইউনিয়নের চেয়ারম্যান পদ প্রত্যাশীরা ইউনিয়নের বিভিন্ন স্থানে ব্যানার ফেষ্টুন টাঙানোসহ উঠান বৈঠক ও পথসভার মধ্য দিয়ে নিজেদের জানান দিচ্ছেন।
এমনকি পদ প্রত্যাশীদের অনেকেই সমর্থকদের সাথে নিয়ে ধর্মীয় ও সামাজিক অনুষ্ঠানসহ বিভিন্ন অনুষ্ঠানে স্ব-শরীরে হাজির হয়ে বিভিন্ন প্রতিশ্রুতি প্রদানের মধ্য দিয়ে নিজেদের প্রার্থী হিসেবে জানান দিচ্ছেন। এর মধ্যে উপজেলার রশুনিয়া ইউনিয়নে সিরাজদিখান উপজেলা যুবলীগের আহবায়ক সদস্য জাহিদ শিকদার ও মুন্সীগঞ্জ জেলা ছাত্রলীগের সাবেক সাধারণ সম্পাদক এড. আবু সাঈদ, ইছাপুরা ইউনিয়নে ইছাপুরা ইউনিয়ন আওয়ামী লীগ সভাপিত সুমন মিয়া ও ইছাপুর ইউনিয়ন যুবলীগ সভাপিত সুখন চৌধূরী, বালুচর ইউনিয়নে সিরাজদিখান উপজেলা আওয়ামী লীগের সাবেক যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক রফিকুল ইসলাম বাবুল, সাবেক সদস্য এস.এম শাহাদাত হোসেন, নারায়নগঞ্জ জেলা ছাত্রলীগের সাবেক সহ-সভাপতি মো. মনির হোসেন ও বিশিষ্ট ব্যবসায়ী মো.শাজাহান, কেয়াইন ইউনিয়নে সাবেক চেয়ারম্যান হাজী মো. রহিম শেখ ও বারেক বেপারী, রাজানগর ইউনিয়নে রাজানগর ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সভাপতি আলমগীর কবীর, সহ-সভাপতি ফেরদৌস কামাল, যুগ্ন সম্পাদক হাসান হৃদয় ও সাবেক চেয়ারম্যান মো. মজিবর রহমান, জৈনসার ইউনিয়নে কেন্দ্রীয় আওয়ামী লীগের ধর্ম বিষয়ক উপকমিটির সাবেক সদস্য আলহাজ্ব শেখ মো. জাকির হোসেন ও সিরাজদিখান উপজেলা স্বেচ্ছাসেবক লীগ সহ-সভাপতি জামাল শাহীন হাওলাদার (রতন), বাসাইল ইউনিয়নে সাবেক চেয়ারম্যান পদপ্রার্থী ও সাংবাদিক মো. শামসুজ্জামান পনির ও বাসাইল ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক এইচ.এম নজরুল ইসলাম টিটু, লতব্দী ইউনিয়নে সাবেক চেয়ারম্যান হাফেজ মো. ফজলুল হক ও সিরাজদিখান উপজেলা ছাত্রলীগের সাবেক সভাপতি মো. মনির হোসেন মিলন ও মো. জহির আহমেদ, কোলা ইউনিয়নে সাবেক ছাত্রলীগ নেতা ও সাংবাদিক মো. মোস্তাক আহমেদ চৌধুরী, বাংলাদেশ ছাত্রলীগের সাবেক সহ-সম্পাদক রনি চৌধূরী ও কোলা ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সভাপতি ও কোলা ২ নংওয়ার্ড ইউপি সদস্য মো. কপাসের হোসেন প্রচারনা চালিয়ে যাচ্ছে।
এছাড়াও ঐক্য জোটের শরিক দল বিকল্পধারা বাংলাদেশের সাইফুল ইসলাম মিন্টুকে প্রচারনায় বেশ সরব দেখা যায়। চিত্রকোট ইউনিয়নে সিরাজদিখান উপজেলা আওয়ামী লীগের স্বাস্থ্য বিষয়ক সম্পাদক সোহরাব হোসেন ও চিত্রকোট ইউনিয়ন বি.এন.পির সভাপতি মজিবর রহমান খান, মালখানগর ইউনিয়নে মালখানগর ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সভাপতি আনিসুর রহমান মৃধা, সিরাজদিখান উপজেলা চেয়ারম্যান পুত্র ও যুবলীগ নেতা আনিসুর রহমান রিয়াদ, মধ্যপাড়া ইউনিয়নে মধ্যপাড়া ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সভাপতি হাজী মো. নেকবর, বয়রাগাদী ইউনিয়নে সাবেক চেয়ারম্যান মো. সোহাগ ও বয়রাগাদী ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক মো. শহীদুল্লাহ শহীদ, এবং শেখরনগর ইউনিয়নে শেখরনগর ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সভাপতি ও সাবেক চেয়ারম্যান এস.এম আমজাদ হোসেন ও মুজীব সেনা ঐক্য লীগ মুন্সীগঞ্জ জেলা শাখার সভাপতি মীর আশরাফ হোসেন রাজাদের নাম উঠে এসেছে।
এছাড়া অনেক প্রার্থী নিজেদের গোপন রেখে স্থানীয় ভাবে প্রচার প্রচারনা অব্যাহত রেখেছেন। বিএনপির প্রার্থীদের এখনও তেমন প্রচারনা লক্ষ্য করা না গেলেও নির্বাচন ঘনিয়ে আসলে তাঁরা মাঠে নামবে।
তাদের সাথে কথা বলে জানা যায়, আসন্ন ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনে চেয়ারম্যান পদ প্রত্যাশীদের তালিকায় ক্ষমতাসীন দল তথা আওয়ামী লীগের নেতাদের সংখ্যা বেশী হলেও কেন্দ্রীয় নির্দেশনা অনুযায়ী বিএনপির নেতারা ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনে অংশগ্রহন করবে। তবে তারা নির্বাচনি ঘোষনা আসার পর মাঠে নামবেন। অন্যদিকে ক্ষমতাসীন দলের পদ প্রত্যাশীরা দলীয় প্রতিকে আসন্ন ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনে অংশ গ্রহনের আশাবাদ ব্যক্ত করেন।
বার্তাবাজার/অমি