কমিশন বাণিজ্য নিয়ে কোন্দলের জেরে ইন্টার্ন চিকিৎসকদের ডাকা অনির্দিষ্টকালের কর্মবিরতির বিষয়ে বৈঠকে বসেছেন হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ। আজ শুক্রবার (৩০ অক্টোবর) রাত ১টা দিকে কর্মবিরতির খবর শুনে ঘটনাস্থলে চুটে আসেন হাসপাতালের পরিচালক ডাঃ বাকির হোসেন ও সহকারী পরিচালক ডাঃ মনিরুজ্জামান শাহীন। তারা আন্দোলনের ডাক দেয়া ইন্টার্ন চিকিৎসকদের নিবৃত্ত করার চেষ্টা করেন এবং কথা শোনেন।
পরিচালক হাসপাতালের জরুরী বিভাগে এসে চাবি নিয়ে গেট খুলে দেন। এতে করে বিপাকে পড়া রোগী এবং রোগীর স্বজনরা ভোগান্তি থেকে আপতত রেহাই পান।

ওদিকে সরেজমিনে দেখা গেছে, হাসপাতালের পরিচালক এবং সহকারী পরিচালক আন্দোলনের ডাক দেয়া শিক্ষার্থীদের কথা শুনছেন। এসময়ে ইন্টার্ন চিকিৎসকরা দাবী করেন, ডাঃ মাসুদকে হাসপাতাল থেকে অপসারণ করতে হবে। তাকে মারধরের যে অভিযোগ তিনি করেছেন তাতে পুলিশ ইন্টার্ণ চিকিৎসকদের হয়রানি করছে। মিথ্যা অভিযোগে হয়রানির শিকার হচ্ছেন তারা। মিথ্যা ওই অভিযোগ প্রত্যাহার এবং ডাঃ মাসুদকে হাসপাতাল থেকে প্রত্যাহার করতে হবে। এসময়ে ইন্টার্ন চিকিৎসকরা পরিচালকদ্বয়ের সামনেই শ্লোগান দিতে শুরু করেন।
তবে তদন্তাধীন একটি বিষয়ে কেন আন্দোলনের ডাক দেয়া হয়েছে পরিচালকের এমন প্রশ্নের জবাব দিতে পারেনি ইন্টার্ন ডক্টরস এ্যাসোসিয়েশনের নেতারা। পাশাপাশি চিকিৎসকদের বিরোধের বিষয়ে কেন হাসপাতাল অচল করে রোগী জিম্মি করা হচ্ছে এমন প্রশ্ন করা হলেও তার কোন জবাব দিতে পারেনি আন্দোলনরত শিক্ষার্থীরা।
ওদিকে হাসপাতালের সিনিয়র চিকিৎসকরা জানিয়েছেন, ইন্টার্ন চিকিৎসক এবং সিনিয়র চিকিৎসকদের মধ্যে বিরোধ চলাকালীন সময়ে তিন বছর আগে গঠিত ইন্টার্ন ডক্টরস এ্যাসোসিয়েশন গঠনের অনুমতি প্রদান ক্ষোভের সৃষ্টি করেছে সিনিয়র চিকিৎসকদের মাঝে। আবার নব গঠিত ইন্টার্ন ডক্টরস এ্যাসোসিয়েশনের কমিটির সভাপতি সম্পাদক হলেন ডাঃ মাসুদ খানকে কক্ষে আটকে মারধর করার ঘটনায় অভিযুক্ত সজল পান্ডে এবং তারিকুল ইসলাম।
সিনিয়র চিকিৎসকরা জানিয়েছেন, ডাক্তারদের মধ্যকার ঝামেলা নিয়ে রোগী জিম্মি করার কোন কারন নেই। বিষয়গুলো তদন্ত হচ্ছে। একটি স্বচ্ছ প্রক্রিয়ার মধ্য থেকে যাচ্ছে। তার মধ্যে হঠাৎ করে ইন্টার্ন চিকিৎসকদের এমন আন্দোলন স্পষ্ট করে দেয়, তাদের কোথাও ত্রুটি রয়েছে।
আন্দোলনের নেতা এবং ইন্টার্ন ডক্টরস এ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি জানান, শেবাচিম হাসপাতালে যে কমিশন বানিজ্য চলছে সেটা আমরা বন্ধ করার দাবী জানিয়ে আসছি। মেডিসিন বিভাগের সহকারী রেজিস্ট্রার মাসুদ খান ইন্টার্ন ডক্টরদের নাম ভাঙিয়ে বিভিন্ন ডায়াগনস্টিক থেকে কমিশন নিয়ে থাকেন। এর প্রতিবাদ করতে গেলে ইন্টার্ন ডক্টরদের বিভিন্নভাবে হয়রানি করা হচ্ছে। এছাড়াও মাসুদ খান সিনিয়র চিকিৎসকদের কক্ষে তালা দেয়াসহ জুনিয়র চিকিৎসক ও কর্মচারীদের সাথে অশালীন আচরণ করে থাকেন। যে বিষয়টি লিখিত আকারে হাসপাতাল পরিচালক বরাবর দিয়েছি। কিন্তু এই বিষয়ে কার্যকর কোনো পদক্ষেপ নেয়া হয়নি। বরংচ সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে নানান ভাবে ইন্টার্নদের হেয় করা হচ্ছে এবং মিথ্যাচার চালানো হচ্ছে। যার প্রতিবাদ জানিয়ে আমরা কর্মবিরতিতে যেতে বাধ্য হয়েছি।
হাসপাতালের পরিচালক ডাঃ বাকির হােসেন জানিয়েছেন, আমি ঘটনাস্থলে আছি। আন্দোলনরতদের সাথে কথা বলছি। আশা করি একিট সুষ্ঠ সমাধান করা হবে।
প্রসঙ্গত, কমিশন নিয়ে দ্বন্দ্বে মেডিসিন বিভাগের সহকারি রেজিস্ট্রার ডাঃ মাসুদ খানকে ২০ অক্টোবর তার কক্ষে আটকে মারধর করেন ইন্টার্ন চিকিৎসক সজল পান্ডে এবং তরিকুল ইসলামসহ ৮/১০ জন। এর পরিপ্রেক্ষিতে ২১ অক্টোবর পরিচালকের কাছে বিচার চেয়ে অভিযোগ করেন মাসুদ খান। ২২ অক্টোবর ইন্টার্ন চিকিৎসকরা মাসুদ খানের বিরুদ্ধে পাল্টা স্মারকলিপি প্রদান করেন পরিচালক ডাঃ বাকির হােসেনর কাছে।
গত ২৩ অক্টোবর ইন্টার্ন ডক্টরস এ্যাসোসিয়েশনের কমিটি গঠিত হয়। যেখানে সহকারী রেজিস্ট্রার মাসুদ খানের উপর হামলায় অভিযুক্ত সজল পান্ডেকে সভাপতি এবং তরিকুল ইসলামকে সাধারণ সম্পাদক করা হয়।
চিকিৎসকের উপর হামলার ঘটনার তদন্ত চলার পরও ওই কমিটি অনুমোদন দেন পরিচালক বাকির হোসেন এবং কমিটি অনুমোদনের সুপারিশ করেন বরিশাল সিটি কর্পোরেশনের মেয়র সেরনিয়াবাত সাদিক আব্দুল্লাহ। এ নিয়ে সিনিয়র চিকিৎসকদের মধ্যে মিশ্র প্রতিক্রিয়ার সৃষ্টি হয়েছে।
এর আগে কোন ঘোষণা ছাড়াই বৃহস্পতিবার (২৯ অক্টোবর) দিবাগত রাত ১১টা ৫০ মিনিটে শের-ই-বাংলা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের গেটে তালা ঝুলিয়ে দেন সজল পান্ডে, তারিকুল ইসলামসহ বেশ কয়েকজন ইন্টার্ন চিকিৎসক। তারা ডাঃ মাসুদ খানের অপসারণ চেয়ে বিভিন্ন ধরণের শ্লোগান দেয় বলেও প্রত্যক্ষদর্শিরা জানিয়েছে।
বার্তাবাজার/অমি