মডরিচ কোথায় পান এতো শক্তি?

রাশিয়া বিশ্বকাপে দারুণ সময় কাটাচ্ছেন ক্রোয়েশিয়ান অভিনায়ক লুকা মডরিচ। তার নেতৃত্বে ক্রোয়েশিয়া উঠেছে চলতি বিশ্বকাপের ফাইনালে। নিজ দলকে ফুটবল ইতিহাসের সবচেয়ে বড় সাফল্য উপহার দিয়েছেন। ফাইনাল জিততে পারলে পেয়ে যাবেন অমরত্বের স্বীকৃতি।

অনেকেরই প্রশ্ন। লুকা মডরিচ ক্রোয়েশিয়া হয়ে যা খেলেন, যেভাবে খেলেন এতো শক্তি তিনি পান কোথায়! তাকে দেখলে মনে হয়, পুরো ৯০ মিনিট তিনি মাঠে দৌড়াতে পারবেন না। শরীরের ওজন পাখির মতো বলা যায়। দলের অন্য ফুটবলারদের তাও পিঠে, বাহুতে কিছু চর্বির দেখা যায়। মডরিচের বাহু দুটিও তো লাউয়ের ডগার মতো সরু। অথচ লুকা মডরিচ ক্রোয়াশিয়ার হয়ে প্রায় প্রত্যেকটি মুহূর্ত মাঠে থেকেছেন।

বিশ্বকাপের আগের রিয়ালের হয়ে চ্যাম্পিয়নস লিগের ফাইনাল জিতেই ক্রোয়েশিয়ার বিশ্বকাপ দলের সঙ্গে যোগ দিয়েছেন মডরিচ। দলের সঙ্গে অনুশীলন করেছেন পুরো দমে। প্রস্তুতি ম্যাচ খেলেছেন।

ক্রোয়েশিয়ার হয়ে সব আলো কেড়েছেন অধিনায়ক মডরিচ। অসাধারণ নেতৃত্বগুণ, মিডফিল্ডে দারুণ নিয়ন্ত্রণ, দৃঢ় ট্যাকেল। সব কিছু মিলিয়ে মডরিচ এবারের বিশ্বকাপে সেরা মিডফিল্ডার। পরিসংখ্যানও তার পক্ষে। বিশ্বকাপে দুটি গোল এবং একটি অ্যাসিস্ট রয়েছে তার। নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী বেলজিয়ামের কেভিন ডি ব্রুইন। তার রয়েছে এক গোল ও এক অ্যাসিস্ট। তবে সুযোগ তৈরিতে ব্রুইন এগিয়ে। মডরিচের ১৪ সুযোগ তৈরির বিপরীতে ব্রুইন সুযোগ তৈরি করেছেন ১৬টি।

এক দিকে সবাইকে ছাড়িয়ে মডরিচ। সেটি হলো তার নিখুঁত পাস দেয়া। এদিক দিয়ে সে অপ্রতিদ্বন্দ্বী। তার ৮৬ শতাংশ নিখুঁত পাস রয়েছে সতীর্থদের প্রতি। সেখানে ব্রুইনের ৮১, পল পগবার ৭৮। তবে মডরিচের থেকে এগিয়ে আছেন ডেভিড সিলভা (৮৭) ও টনি ক্রুস (৯৩)। এখন তারা আর প্রতিযোগিতায় নেই।

গ্রুপ পর্বের তিন ম্যাচে মাঠে নেমেছেন তিনি। খেলেছেন প্রায় শেষ পর্যন্ত। নকআউট পর্বে এসে আবার পরপর তিনটি ম্যাচ ১২০ মিনিট করে খেলতে হয়েছে ক্রোয়েশিয়ার। অন্য খেলোয়াড় তাও বদলি হিসেবে বিশ্রাম নিয়ে খেলেছেন কিংবা দ্বিতীয়ার্ধে তুলে নিয়ে কোচ কিছুটা বিশ্রাম দিয়েছেন। অধিনায়ক লুকার সে সুযোগও হয়নি।

বিশ্বকাপে ফিফার হিসেব অনুযায়ী, এই ৬ ম্যাচে মডরিচ দৌড়েছেন ৬৫ কিলোমিটার। ম্যাচ প্রতি প্রায় ১১ কিলোমিটার করে। এর মধ্যে আবার বল পায়ে মডরিচ ২৫ কিলোমিটার পথ পাড়ি দিয়েছেন।

মডরিচের যেন অতিরিক্তি সময়েও তার কষ্ট হয় না! এর প্রমাণ তিনি ইংল্যান্ডের বিপক্ষে দিয়েছেন ১১৪ মিনিটে ইংলিশদের দারুণ এক আক্রমণ প্রতিহত করে। ২-১ গোলের জয়ে পেরিসিচ-মানজুকিচের মতো অবদান তাই তারও কম না। তার ওই অবদানের উপর ভর করে ইতিহাসে প্রথমবারের মতো ফাইনালে উঠেছে ক্রোয়েশিয়া।

লুকা মডরিচ বেশ ভালোই জানেন কিভাবে নিজেকে ফিট রাখতে হয়। মাঠের কোথায় কোথায় অবস্থান নিয়ে খেলতে হয়। কখন বলের পেছনে ছুটতে হয় আর কোথায় কোথায় থামতে হয় তাও মডরিচের বেশ জানা। ক্রোয়েশিয়াকে ফাইনালে তুলে ৩৩ বছর ছুঁই ছুঁই মডরিচ প্রমাণ করেছেন বয়স আসলে মাঠ দাপিয়ে খেলার জন্য কোন বাধা নয়।

প্রসঙ্গত, ১৯৯৮ বিশ্বকাপে এসেই সেমিফাইনালে উঠেছিল ক্রোয়েশিয়া। সেবার ফ্রান্সের কাছে ২-১ গোলে হেরে স্বপ্ন ভেঙেছিল তাদের। এবার সেই ভুল আর করেনি ক্রোয়াটরা। ইংল্যান্ডকে ২-১ ব্যবধানে হারিয়ে প্রথমবারের মতো ফাইনালে উঠে তারা। ফাইনালে তাদের প্রতিপক্ষ ফ্রান্স। ১৯৯৮ বিশ্বকাপের মধুর প্রতিশোধ নেয়ার অপেক্ষায় নবযুগের ক্রোয়াটেরা।

You might also like