২২, জুলাই, ২০১৮, রোববার | | ৯ জ্বিলকদ ১৪৩৯

দ্বিতীয় সেশনে চার উইকেট নেই শাকিবদের

আপডেট: জুলাই ১৪, ২০১৮

দ্বিতীয় সেশনে চার উইকেট নেই শাকিবদের

দিনের প্রথম সেশনের শেষ দিকে বাংলাদেশ নিজেদের প্রথম ইনিংসের ব্যাট করতে নেমে বিনা উইকেটে ১০ রান সংগ্রহ করে সেশন শেষ করেছিল। কিন্তু দ্বিতীয় সেশনে টাইগাররা চারটি উইকেট হারিয়েছে। চার উইকেটে ৯২ রান সংগ্রহ করে চা বিরতিতে গেছে বাংলাদেশ। অর্থাৎ, ওয়েস্ট ইন্ডিজের চেয়ে বাংলাদেশ এখনো ২৬২ রানে পিছিয়ে রয়েছে। তামিম ইকবাল ৪০ রান করে ও মুশফিকুর রহিম ৪ রান করে অপরাজিত থাকেন।

ইনিংসের সপ্তম ওভারের তৃতীয় বলে শ্যানন গ্যাব্রিয়েলের বলে এলবিডব্লিউ হন লিটন দাস। একই ওভারের পঞ্চম বলে শাই হোপের হাতে ধরা পড়েন লিটন দাস। এরপর তামিম ইকবাল ও সাকিব আল হাসান ৫৯ রানের পার্টনারশিপ গড়েন। ইনিংসের ২৪তম ওভারে বোলিংয়ে এসে এই জুটি ভাঙেন ক্যারিবীয় অধিনায়ক জ্যাসন হোল্ডার।ওভারের প্রথম বলে বোল্ড হন সাকিব আল হাসান। তিনি করেন ৩২ রান। ওভারের তৃতীয় বলে এলবিডব্লিউ হন মাহমুদউল্লাহ রিয়াদ। তিনি করেন শূন্য রান।

বৃহস্পতিবার বাংলাদেশের বোলিংটা বেশি ভালো হয়নি। কিন্তু শুক্রবার দিনের প্রথম সেশনে অসাধারণ বোলিং করেছেন বাংলাদেশের বোলাররা। গতকাল চার উইকেট হারিয়ে ২৯৫ রান সংগ্রহ করে দিনের খেলা শেষ করেছিল ওয়েস্ট ইন্ডিজ। ক্যারিবীয়দের আজ বেশি দূর যেতে দেননি বাংলাদেশের বোলাররা। তারা অলআউট হয়ে গিয়েছে ৩৫৪ রান করে।

ওয়েস্ট ইন্ডিজকে অলআউট করার পেছনে বড় অবদান রয়েছে মেহেদী হাসান মিরাজের। পাঁচটি উইকেট শিকার করেছেন এই টাইগার স্পিনার। বৃহস্পতিবার তিনটি উইকেট নেয়ার পর শুক্রবার দুইটি উইকেট শিকার করেন মেহেদী হাসান মিরাজ। এছাড়া তাইজুল ইসলাম ২টি ও আবু জায়েদ রাহি ৩টি করে উইকেট শিকার করেন। ওয়েস্ট ইন্ডিজের ব্যাটসম্যানদের মধ্যে সেঞ্চুরি করেছেন ক্রেইগ ব্র্যাথওয়েট। ১১০ রান করে আউট হন তিনি। ৮৬ রান করেন শিমরন হেটমায়ার।

কিংস্টনের স্যাবাইনা পার্কে বৃহস্পতিবার শুরু হয়েছে বাংলাদেশ ও ওয়েস্ট ইন্ডিজের মধ্যকার দুই ম্যাচ টেস্ট সিরিজের শেষ ম্যাচ। বৃহস্পতিবার টস হেরে ব্যাট করতে নেমে চার উইকেট হারিয়ে ২৯৫ রান সংগ্রহ করে দিনের খেলা শেষ করে ক্যারিবীয়রা।

শুক্রবার দিনের শুরুতেই জোড়া আঘাত হানেন টাইগার পেসার আবু জায়েদ রাহি। বৃহস্পতিবার ৮৪ রান করে অপরাজিত থাকা শিমরন হেটমায়ারকে আজ দ্রুতই ফিরিয়ে দেন তিনি। গতকালের স্কোরের সাথে আজ দুই রান যোগ করে ফিরে যান শিমরন হেটমায়ার। ব্যক্তিগত ৮৬ ও দলীয় ২৯৭ রানে আবু জায়েদ রাহির বলে উইকেটরক্ষক নুরুল হাসান সোহানের হাতে ক্যাচ হন তিনি।

এরপর ওয়েস্ট ইন্ডিজের দলীয় রান যখন ৩০২ তখন রস্টন চেজকে এলবিডব্লিউয়ের ফাঁদে ফেলেন আবু জায়েদ রাহি। রিভিউ নিয়েও বাঁচতে পারেননি চেজ। তিনি করেছেন ২০ রান। ক্যারিবীয়রদের দলীয় ৩১৮ রানে মেহেদী হাসান মিরাজের হাতে ক্যাচ বানিয়ে শেন ডাউরিচকে ফেরান তাইজুল ইসলাম। তিনি করেছেন ছয় রান।

ইনিংসের ১০৭তম ওভারে হ্যাটট্রিকের সম্ভাবনা জাগিয়েও হ্যাটট্রিক করতে পারেননি মেহেদী হাসান মিরাজ। ওভারের তৃতীয় বলে কিমো পলকে মুমিনুল হকের হাতে ক্যাচ বানিয়ে ফেরান মিরাজ। পরের বলে মিগুয়েল কান্সিকে এলবিডব্লিউয়ের ফাঁদে ফেলেন তিনি। ওয়েস্ট ইন্ডিজের শেষ উইকেটটি শিকার করেন আবু জায়েদ রাহি। শ্যানন গ্যাব্রিয়েলকে বোল্ড করেন তিনি। ইনিংস শেষে ৩৩ রান করে অপরাজিত থাকেন অধিনায়ক জ্যাসন হোল্ডার।

সিরিজে বাংলাদেশ এখন ১-০ ব্যবধানে পিছিয়ে রয়েছে। সিরিজের প্রথম ম্যাচে ইনিংস ও ২১৯ রানে হেরেছিল বাংলাদেশ। টেস্ট সিরিজ শেষে স্বাগতিকদের বিপক্ষে তিন ম্যাচ ওয়ানডে ও তিন ম্যাচ টি-টোয়েন্টি সিরিজ খেলবে টাইগাররা। ওয়ানডে সিরিজের ম্যাচগুলো অনুষ্ঠিত হবে যথাক্রমে ২২, ২৫ ও ২৮ জুলাই। টি-টোয়েন্টি সিরিজের ম্যাচগুলো অনুষ্ঠিত হবে যথাক্রমে ৩১ জুলাই, ৪ ও ৫ আগস্ট।

সংক্ষিপ্ত স্কোর

ওয়েস্ট ইন্ডিজ প্রথম ইনিংস: ২৯৫/৪* (৯২ ওভার)

(ক্রেইগ ব্র্যাথওয়েট ১১০, ডেভন স্মিথ ২, কাইরান পাওয়েল ২৯, শাই হোপ ২৯, শিমরন হেটমায়ার ৮৬, রস্টন রেজ ২০, শেন ডাউরিচ ৬, জ্যাসন হোল্ডার ৩৩*, কিমো পল ০, মিগুয়েল কামিন্স ০, শ্যানন গ্যাব্রিয়েল ১২; আবু জায়েদ রাহি ৩/৩৮, সাকিব আল হাসান ০/৬০, মেহেদী হাসান মিরাজ ৫/৯৩, তাইজুল ইসলাম ২/৮২, কামরুল ইসলাম রাব্বী ০/৩৪, মাহমুদউল্লাহ রিয়াদ ০/২০)।

বাংলাদেশ প্রথম ইনিংস: ৯২/৪* (২৮ ওভার)

(তামিম ইকবাল ৪০*, লিটন দাস ১২, মুমিনুল হক ০, সাকিব আল হাসান ৩২, মাহমুদউল্লাহ রিয়াদ ০, মুশফিকুর রহিম ৪*; শ্যানন গ্যাব্রিয়েল ২/৮, কিমো পল ০/১৩, মিগুয়েল কামিন্স ০/১৯, জ্যাসন হোল্ডার ২/২৯, রস্টন চেজ ০/২২)।