বেতন-ভাতার সুযোগ-সুবিধাসহ ১১ দফা দাবি আদায়ে সারা দেশে শুরু হয়েছে পণ্যবাহী নৌ-ধর্মঘট। তবে নৌ শ্রমিকদের সব দাবি এখনই মানা সম্ভব নয় বলে সাফ জানিয়ে দিয়েছেন নৌযান মালিকরা।
শ্রমিকরা ধর্মঘটের ঘোষণা দেয়ার পর বিআইডব্লিউটিএ চেয়ারম্যানের মধ্যস্থতায় সোমবার বিকালে বৈঠকে বসে শ্রমিক-মালিকরা। মধ্যরাত পর্যন্ত দীর্ঘ বৈঠক চললেও সমঝোতায় পৌঁছাতে পারেনি ২ পক্ষ।
বিআইডব্লিউটিএ’র চেয়ারম্যান কমডোর গোলাম সাদেক জানান ২ পক্ষই নিজ নিজ দাবিতে অনড় থাকায় সমঝোতা হয়নি।
মালিকদের দাবি, খাদ্যভাতা ছাড়া বাকি ১০টি দাবি মেনে নিয়েছেন তারা। কিন্তু শ্রমিকরা বলছেন, দাবি না মানায় ধর্মঘট চালিয়ে যাবেন তারা।
এদিকে, চট্টগ্রামে কর্ণফুলীর ১৬টি ঘাটে গতকাল থেকে পণ্য ওঠানামা বন্ধ রয়েছে। সোমবার সকাল থেকে লাইটারেজ জাহাজগুলো বন্দরের বহির্নোঙ্গরে পণ্য খালাস করতে যায়নি।
শ্রমিক ফেডারেশনের ১১ দফা দাবি হলো-
১. বাল্কহেডসহ সব নৌযান ও নৌপথে চাঁদাবাজি-ডাকাতি বন্ধ করা
২. ২০১৬ সালে ঘোষিত গেজেট অনুযায়ী নৌযানের সর্বস্তরের শ্রমিকদের বেতন প্রদান
৩. ভারতগামী শ্রমিকদের ল্যান্ডিং পাস এবং মালিক কর্তৃক খাদ্যভাতা প্রদান
৪. সব নৌযান শ্রমিকের সমুদ্র ও রাত্রিকালীন ভাতা নির্ধারণ
৫. এনডোর্স, ইনচার্জ, টেকনিক্যাল ভাতা পুনর্নির্ধারণ
৬. কর্মস্থলে দুর্ঘটনায় নিহত শ্রমিকদের ক্ষতিপূরণ ১০ লাখ টাকা নির্ধারণ
৭. প্রত্যেক নৌশ্রমিককে মালিক কর্তৃক নিয়োগপত্র, পরিচয়পত্র ও সার্ভিস বুক প্রদান
৮. নদীর নাব্য রক্ষা ও প্রয়োজনীয় মার্কা, বয়া ও বাতি স্থাপন
৯. মাস্টার/ড্রাইভার পরীক্ষা, সনদ বিতরণ ও নবায়ন, বেআইনি নৌচলাচল বন্ধ করা
১০. নৌপরিবহন অধিদফতরে সব ধরনের অনিয়ম ও শ্রমিক হয়রানি বন্ধ এবং
১১. নৌযান শ্রমিকদের সামাজিক নিরাপত্তা নিশ্চিত করা।
বার্তাবাজার/কে.জে.পি