কিশোরগঞ্জের পাকুন্দিয়া উপজেলার সকল বাজারের প্রায় প্রতিটি দোকান নেই কোন গোল আলু। এক মাস আগে বাজারে আলু ৩০ টাকা কেজিতে পাওয়া যেতো, মাস ঘুরতে না ঘুরতে সেই আলুর দাম এখন বেড়েছে দুই গুণ। গতকাল পাকুন্দিয়া উপজেলার বিভিন্ন বাজারে খুচরা প্রতিকেজি আলু বিক্রি হয়েছে ৪৫ থেকে ৫০ টাকার মধ্যে।
আলুর দাম নিয়ন্ত্রণ রাখতে গত বুধবার (১৪ অক্টোবর) খুচরা, পাইকারি ও হিমাগার তিন পর্যায়েই বিক্রির জন্য আলুর দাম বেঁধে দিয়েছে সরকার। সেই সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, খুচরা বাজারে প্রতি কেজি ৩০ টাকার বেশি দরে আলু বিক্রি করা যাবে না গ্রাহকদের কাছে। অন্যদিকে পাইকারি বাজারে প্রতি কেজি আলুর দাম সর্বোচ্চ ২৫ টাকা, হিমাগারে সেটি ২৩ টাকা। সরকার নির্ধারিত এই দামে আলু বিক্রি না করলে আইন অনুযায়ী শাস্তির ব্যবস্থা করা হবে। কৃষি বিপণন অধিদফতর থেকে এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। এই সিদ্ধান্ত জানিয়ে জেলা প্রশাসকদের কাছে চিঠিও পাঠানো হয়েছে।
এরই প্রেক্ষিতে উপজেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে প্রতিটি বাজারে মাইকিং করে সরকারের সিদ্ধান্ত জানিয়ে দেওয়া হয়।
সরেজমিন ঘুরে দেখা গেছে রবিবার (১৮ অক্টোবর) সকালে পাকুন্দিয়া উপজেলার বিভিন্ন বাজারের খুচরা দোকানে নেই কোন আলু। খুচরা ব্যবসায়ীদের সঙ্গে কথা বললে তারা জানান, পাইকারি বাজারে কোন আলু নেই। চাহিদা থাকার পরেও ক্রেতাসাধারণ আলু না পেয়ে কিছু ক্রেতা কচুর মুহি নিচ্ছেন।

ক্রেতা দুলাল মিয়া জানান, বাজারে আলু নেই তাই কচুর মহি নিয়ে যাচ্ছি। ব্যাবসায়ীদের সিন্ডিকেটে এই অবস্থা।
একাধিক পাইকারি ব্যাবসায়ীরা বলেন, স্টোর ভাড়া আলু ক্রয় সহ সব মিলিয়ে ১৮ টাকা খরচ হয়েছিল।সেই আলু গতমাসে আমরা ২২ থেকে ২৪ টাকা কেজি দরে বিক্রি করেছি। এর এক সপ্তাহ পর আমরা আবার ২৮ টাকা এবং গত সপ্তাহে ৪২ টাকা কেজিতে ক্রয় করার পর সরকার সেটি ২৫ টাকা কেজিতে বিক্রির জন্য মাইকিং করে। এখন আমাদের আবার মূলধন হারানোর পথে। আলুর ব্যাবসা করে গত তিন বছর আমরা লোকসান দিয়েছি। লক্ষ লক্ষ টাকা হারিয়েছি। তিন বছর লোকসান হল তখন কোন পদক্ষেপ নেয়নি সরকার।

স্টোর বাজারের ব্যাবসায়ী আকবর আলী বলেন, এবছর হঠাৎ আলুর দাম বাড়ার পেছনে বেশ কয়েকটি কারণ রয়েছে। এর মধ্যে অন্যতম কারণ হলো করোনার ভয়াবহ সময়ে ত্রাণ বিতরণে ব্যাপকহারে আলুর ব্যবহার হয়েছে। এতে আলুর আড়তসহ স্থানীয় বাজারে আলুর সরবরাহ কমে যায় এতে দাম বাড়তে থাকে। অন্যান্য সবজির দাম বাড়ার সঙ্গেও আলুর দাম বাড়ার কারণ জড়িত আছে। তবে এখন স্থানীয় পর্যায়ে আলু খুব বেশি নেই, আলুর যোগান কমে আসায় দাম বাড়ছে। বাজারে নতুন আলু উঠলে দাম কমবে।
উপজেলা নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট ও সহকারী কমিশনার (ভূমি) একেএম লুৎফর রহমান বলেন, যদি কোন কোন ধরণের মজুদ বা সিন্ডিকেট হয় তাহলে কঠোর ব্যাবস্হা গ্রহন করা হবে।
বার্তা বাজার/ শাহরিয়া