নদী ভাঙনে দিশেহারা চালিতাবুনিয়ার হাজারো মানুষ

নদী ভাঙনে দিশেহারা পটুয়াখালীর রাঙ্গাবালী উপজেলার বিচ্ছিন্ন ইউনিয়ন চালিতাবুনিয়ার হাজারো মানুষ।
উপজেলা থেকে বিছিন্ন এই ইউনিয়নে ভাঙনের কবলে পড়েছে শত শত পরিবার।

স্থানীয়দের কাছ থেকে জানা যায়, ৫০ বছরের অধিক সময় ধরে শুরু হয় এই ভাঙন । তবে গত ৪-৫ বছর যাবত এর প্রাদুর্ভাব যেন বেড়েই চলেছে। বর্ষার পানি এবং স্রোত বাড়লেই শুরু ভাঙন। এমন ভাঙনে নিঃস্ব হচ্ছে শত শত পরিবার। প্রতিকূলতা কাটিয়ে উঠতে না উঠতেই আবারও সর্বশান্ত হচ্ছে তারা। কমে যাচ্ছে ভূখণ্ডটির আয়তন। নষ্ট হচ্ছে ফসলের জমি। এছাড়াও বিলীন হয়েছে শত শত বসত ভিটা, পুরোনো জমিদার বাড়ি, কালি মন্দির, সাইক্লোন শেল্টার, প্রাচীন মসজিদ, ফসলের জমি, খেলার মাঠ ও অসংখ্য গাছপালা।

সম্প্রতি দেখা যায় ইউনিয়নটির লঞ্চঘাট এলাকাসহ ইউনিয়নের প্রধান প্রবেশ সড়কের বেশ কিছু অংশ বিলীন হয়ে যায় নদীতে। এতে করে আতঙ্কে দিন কাটাচ্ছে নদীর তীরে অবস্থিত পরিবারের সদস্যরা।

তবে এখন পর্যন্ত এই ভাঙন রোধে সরকারের পক্ষ থেকে নেয়া হয়নি কোন পদক্ষেপ। জানতে চাইলে স্থানীয়রা জানান, আমরা এই নদীতে সবকিছু হারিয়ে এখন নিঃস্ব। আমাদের ভিতরে এমনও পরিবার আছে , যারা চারবার স্থান পরিবর্তন করেছেন। এভাবে নদী ভাঙন চলতে থাকলে একসময় আমাদের অস্তিত্ব থাকবে না।

এসময় সরকারের দৃষ্টি আকর্ষণ করে স্থানীয় বাসিন্দারা বলেন, দ্রুত এই ভাঙন রোধে সরকারের পক্ষ থেকে কোন পদক্ষেপ নেয়া হোক।

এব্যাপারে চালিতাবুনিয়া ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান মু. জাহিদুর রহমান বার্তা বাজারকে বলেন, চালিতাবুনিয়া ইউনিয়নটি চারপাশে নদী ঘেরা। এই ইউনিয়নের পূর্ব পাশটি বিগত তিন চার বছর ধরে নদী ভাঙ্গন কবলিত। এই এলাকার ১ নং ওয়ার্ড প্রায় ৮০ শতাংশ নদী গর্ভে বিলীন হয়ে গেছে। ২ নং ওয়ার্ড প্রায় ৬০ শতাংশ নদী গর্ভে বিলীন হয়ে গেছে এবং ৭ নং ওয়ার্ড পুরোটাই বিলীন। এসব এলাকার লোকজন বিভিন্ন জায়গায় অবস্থান করছে এবং তারা মানবেতর জীবনযাপন করছে। ইতিমধ্যেই আমি পানি উন্নয়ন বোর্ডকে অবহিত করেছি আমার ইউনিয়ন সম্পর্কে । তারাও আমাকে আশ্বস্ত করেছেন। আমি মাননীয় প্রধানমন্ত্রীসহ সংশ্লিষ্ট সকল কতৃপক্ষের প্রতি দৃষ্টি আকর্ষণ করছি, আমার এই নদী ভাঙতি এলাকা থেকে আমাদেরকে বাঁচানো হোক।

বার্তা বাজার / ডি.এস

বার্তা বাজার .কম'র প্রকাশিত/প্রচারিত কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা যাবে না।
এই বিভাগের আরো খবর