গোপালগঞ্জে সরকারি ঘর দেয়ার নামে টাকা হাতিয়ে নেয়ার অভিযোগ
গোপালগঞ্জ সদর উপজেলার সুকতাইল ইউনিয়নে ঘর দেওয়ার নামে টাকা হাতিয়ে নেয়ার অভিযোগ উঠেছে এক ইউপি সদস্যের। অতি দরিদ্র মানুষ টাকা দিলেই মিলবে ঘর- এই আশায় দাদন ব্যবসায়ীর কাছ থেকে টাকা ঋণ নিয়ে স্থানীয় মেম্বারকে ঘুষ দিয়েছেন বলেও অভিযোগ পাওয়া গেছে।
ওই ইউনিয়নের ৬ নং ওয়ার্ডের মেম্বার কামরুল মোল্ল্যার বিরুদ্ধে ঘর দেওয়ার নাম করে লাখ লাখ টাকা হাতিয়ে নেওয়ার অভিযোগ উঠেছে।
‘জমি আছে ঘর নেই’- এই আশ্রয়ণ প্রকল্প এর আওতায় প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের অর্থায়নে তৃণমূল পর্যায়ের জমি আছে অথচ ঘর নির্মাণ করতে পারছে না, এমন অতি দরিদ্র পরিবারের জন্য বিনামূল্যে সরকার ঘর তৈরি করে দিচ্ছে। অথচ প্রকল্প এখনও না এলেও আগামীতে আসবে এই কথা বলে উপজেলার সুকতাইল ইউনিয়নের চেয়ারম্যান ও মেম্বার কামরুলের যোগসাজশে অতি দরিদ্র মানুষকে একটি করে ঘর দেওয়ার নামে প্রত্যেকের কাছ থেকে ২০ হাজার টাকা খরচ হিসেবে নেওয়া হয়েছে বলে অভিযোগ উঠেছে।
ইউনিয়নের লঞ্চঘাট সরদারপাড়া এলাকার মকফের শেখ বলেন, সুকতাইল ইউনিয়নের ৬নং ওয়ার্ডের মেম্বার কামরুল মোল্ল্যা আমাকে ঘর দেওয়ার কথা বলে আমার থেকে ২০ হাজার টাকা নিয়েছে। আমি এখনও কোনো ঘর পাইনি। শুধু আমি নয় এলাকার অনেকের কাছ থেকে মেম্বার এভাবে টাকা হাতিয়ে নিয়েছেন । আমরা কয়েকজন মিলে গোপালগঞ্জ জেলা প্রশাসক বরাবর একটি লিখিত অভিযোগ ও করেছি ।
সরদারপাড়া গ্রামের অসহায় বিধাব ছেকেলা বেগম অভিযোগ করে বলেন, কামরুল মেম্বার আমি আর আমার ছোট ছেলেকে ঘর দেওয়ার নাম করে ৪০ হাজার টাকা নিয়েছে। আমি এখনও ঘর পাইনি। আজ-কাল বলে শুধু হয়রানি করছে। শুধু তাই নয় সুকতাইল ইউনিয়নের চেয়ারম্যান আমাকে ভাতা দেবে বলে আমার থেকে ৩ হাজার টাকা নিছে আজও আমি কোন ভাতা পাইনি ।
সুকতাইল ইউনিয়নের ৬নং ওয়ার্ডের ইউপি সদস্য কামরুল মোল্ল্যা বলেন, পরিষদের চেয়ারম্যান পুরো ইউনিয়নের ঘরের বিষয়টি সমন্বয় করছেন। চেয়ারম্যানের নির্দেশে আমি সবার কাছ থেকে ২০ হাজার টাকা করে নিয়েছি। তিনি আরও বলেন, শুধু আমি নই, ওই ইউনিয়নের সব মেম্বার এই ঘরের নামে টাকা তুলেছেন।
সুকতাইল ইউপি চেয়ারম্যান সহিদুল মোল্ল্যা বলেন, আমার ইউনিয়নে ঘরের কোনো সরকারি বরাদ্দ আপাতত নেই। বরাদ্দ করাতে হলে উপরে টাকা দিয়ে করাতে হয় তাই মেম্বাররা হয়তো কারও সঙ্গে আঁতাত করে কিছু টাকা তুলেছে। তাদের বিরুদ্ধে কেউ লিখিত অভিযোগ দিলে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

বার্তা বাজার / ডি.এস