আবারও বেগমগঞ্জে বর্বরতা: সংখ্যালঘু পরিবারের উপর হামলা-লুটপাট

নোয়াখালীর বেগমগঞ্জে আবারও বর্বর ঘটনা ঘটেছে। এবার সংখ্যালঘু এক পরিবারের উপর হামলা চালিয়ে নারীসহ ৬জনকে পিটিয়ে আহত করে ছিনিয়ে নেওয়া হয় নগদ টাকা ও স্বর্ণালঙ্কার। গত বৃহস্পতিবার (১৫ অক্টোবর) রাত ১১টার দিকে উপজেলার লতিফপুর ইউনিয়ন পরিষদের লতিফপুর গ্রামে এ ঘটনা ঘটে।

হামলায় আহতরা হলেন- সুমন চন্দ্র দাস (২৬), তার মা গীতা রানী দাস (৫৫), বোন পূর্নিমা রানী দাস (৩২), ভাই তপন চন্দ্র দাস (৩০), কাকা হারাধন চন্দ্র দাস (৫৫) ও তার কাকাতো ভাই ছোটন চন্দ্র দাস (২০)। আহতদের বেগমগঞ্জ স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে চিকিৎসা দেওয়া হয়েছে।

এই ঘটনায় স্থানীয় ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান নূরুল হোসেন সেলিম ভুক্তভোগীদেরকে থানায় অভিযোগ দিতে বাধা ও সালিশে বসার জন্য তৎপর ছিলেন বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে।

ভুক্তভোগী সুমন চন্দ্র দাস জানান, ঘটনার দিন স্থানীয় জমিদারহাট নিজ ব্যবসা প্রতিষ্ঠান থেকে ব্যবসার টাকা নিয়ে বাড়ি পৌঁছে ঘরে ঢোকার মূহুর্তে একই এলাকার শাজাহান ও জাহাঙ্গীরের নেতৃত্বে একদল লোক অতর্কিতভাবে মারধর শুরু করে। এসময় চিৎকার করলে ঘর থেকে মা, ভাই, বোন, কাকা, কাকাতো ভাই বের হয়ে এলে তাদের বেদম মারপিট ও ঘরে ভাঙচুর চালায়। এসময় হামলাকারীরা ব্যবসার ৭০ হাজার টাকা ও গলায় থাকা সোনার চেন ছিনিয়ে নেয়।

সুমন ও তার পরিবার আরও জানায়, তাদের পরিবারকে ভিটেবাড়ি থেকে উচ্ছেদ করার জন্য শাজাহান বিভিন্নভাবে হয়রানি ও নির্যাতন করে আসছেন। কিন্তু স্থানীয়ভাবে কোনো সহযোগিতা পাওয়া যায়নি।

তবে স্থানীয় রছুলপুর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান নূরুল হোসেন সেলিম জানান, ঘটনা সম্পর্কে শুনেছি। থানায় মামলা না করে সালিস বৈঠকের মাধ্যমে সুরাহা করার চেষ্টা করবো।

বেগমগঞ্জ মডেল থানার উপ-পরিদর্শক বিপ্লব কুমার সিংহ জানান, খবর পেয়েই ঘটনাস্থলে গিয়ে জাহাঙ্গীর নামে একজনকে গ্রেফতার করা হয়েছে। অনেক লোক এমনকি স্থানীয় জনপ্রতিনিধিরা তদবির করেছেন গ্রেফতার ব্যক্তিকে ছেড়ে দিয়ে সালিশ বৈঠক করতে। এ ব্যাপারে বেগমগঞ্জ মডেল থানায় চারজনকে আসামি করে একটি মামলা দায়ের করা হয়েছে।

বার্তাবাজার/এসজে

বার্তা বাজার .কম'র প্রকাশিত/প্রচারিত কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা যাবে না।
এই বিভাগের আরো খবর