ঢাকা ওয়াসায় বস্তিবাসীর জন্য শতভাগ বিশুদ্ধ পানি: তাকসিম এ খান

ঢাকা শহরের সবগুলো বস্তিতে শতভাগ বিশুদ্ধ পানির ব্যবস্থা করা হবে বলে জানিয়েছেন ঢাকা ওয়াসার পরিচালক তাকসিম-এ খান। পাশাপাশি ওয়াসায় ডিজিটাল কন্ট্রোল রুম হবে বলেও তিনি জানিয়েছেন। আজ (শুক্রবার) দুপুরে ওয়াসা ভবনের বুড়িগঙ্গা হলে আয়োজিত এক সংবাদ সন্মেলনে তিনি এসব কথা জানান।

তাকসিম-এ খান বলেন, আমরা যদি দেখি দক্ষিন এশিয়ার মেগা সিটি নয়াদিল্লি, মুম্বাই, করাচী সহ তাদের একটি অংশ বস্তিতে বসবাস করে। এই বস্তি এলাকায় পানি ব্যবস্থাপনা খুব একটা বৈধ না। কিন্তু আমরা ২০১২ সালে একটা সিদ্ধান্ত নেই ঢাকা শহরে যেই বস্তিগুলো আছে সেগুলোকে বৈধ পানির আওতায় আনবো। বর্তমানে কিন্তু আমরা প্রায় ৭০ ভাগ বস্তি এলাকাকে বৈধ পানির আওতায় আনতে সক্ষম হয়েছি। আমরা সেটাকে শতভাগ করতে চাই। আমরা ঢাকা শহরের সব বস্তিকে পানি আওতায় নিয়ে আনার উদ্যোগ নিয়েছি। ইনশাআল্লাহ আমরা এতে সফল হবো।

তিনি জানান, ২০০৯-১০ সালে ডিজিটাল ওয়াসা গড়ার লক্ষ্যে আমরা কাজ শুরু করি। ১১ বছর পর আমরা নির্দিধায় বলতে পারি, যে অবস্থায় আমরা ছিলাম, তার চাইতে অনেক দূর এগিয়ে গিয়েছি। আমাদের উৎপাদন প্রতিদিন ২৬০ থেকে ২৬৫ কোটি লিটার। যা চাহিদার তুলনায় বেশি। দুই কোটি মানুষকে পানির সুবিধা দেওয়া পাহাড় সমান কাজ।

সিস্টেম লস সম্পর্কে তিনি জানান, সিস্টেম লস ৪০ শতাংশ থেকে ২০ শতাংশে নামিয়ে আনতে সক্ষম হয়েছি। আমরা নেটওয়ার্ক ডিস্ট্রিবিউশন এরিয়া (ডিএমএ) গড়ে তুলছি। ঢাকা শহরে মোট ১৪৫টি ডিএমএ হবে। যার মধ্যে ৬৪টি ডিএমএ এরইমধ্যে তৈরি করা হয়েছে। বাকীগুলোর কাজ চলছে। ২০২২ সালের ডিসেম্বরের মধ্যে পুরো ঢাকা ডিএমএ’র আওতায় আসবে। এ ধরণের নেটওয়ার্ক দক্ষিণ এশিয়াতে নেই।

ঢাকা ওয়াসার সক্ষমতার কথা জানিয়ে তিনি বলেন, বর্তমানে ঢাকা শহরে আমাদের অনেক দক্ষ, যোগ্য প্রকৌশলী এবং ব্যবস্থাপনা টিম আছে। যারা বড় মেগা প্রজেক্টগুলোকে হ্যান্ডেল করতে পারে। এই সক্ষমতা আছে জন্যই আমরা বড় বড় সংস্থা থেকে ঋণ পাচ্ছি। ঢাকা ওয়াসার একটা সময় ছিল ২০০৮ থেকে ২০১০ সালে আমাদের প্রয়োজন ছিল। কিন্তু ডেভলেপমেন্ট পার্টনার উন্নয়ন সহযোগিরা আমাদের ফান্ড দেয়নি। কারণ আমাদের সক্ষমতার অভাব। একটা সময় ছিল মাত্র ৪০ মিলিয়ন ডলার আমাদের সহযোগিতা ছিল। বর্তমানে সেটা ২ বিলিয়ন ডলারে। আমরা শুধু ঋণ নিচ্ছি সেটা না, আমাদের দেয়ার যে সক্ষমতা, সে সক্ষমতা আমরা অর্জন করেছি।

ওয়াসা পরিচালক জানান, আগে আমাদের আয়-ব্যয়ের অনুপাত ছিল দশমিক ৯৫। আর আন্তর্জাতিক ভাবে এই আয়-ব্যয়ের স্বীকৃত ০.৬৫। আমরা বর্তমানে ০.৬৮ থেকে ০.৬৭ তে থাকছি। যা উন্নত দেশগুলোর জন্য বিরল উদাহরণ। আমরা আশাবাদী আমাদের এই আয় ব্যায়ের হিসাব টা উন্নত দেশগুলোর সাথে তুলনা করতে পারবো।বর্তমানে আমরা কখনো কখনো ০.৬৬ শতাংশও অর্জন করেছি।

তিনি বলেন, আমরা ডিজিটাল ওয়াসা করতে স্মার্ট ওয়াটার ম্যানেজমেন্ট করেছি। যা আমাদের পাম্পগুলো একটা কন্ট্রোলরুম মিটার রিডিং থেকে শুরু করে সকল রকম ডিজিটাল সেবা পাওয়া যাবে। যা দক্ষিন এশিয়ার মধ্যে আমরা নতুন এক দৃষ্টান্ত স্থাপন করতে যাচ্ছি। ওয়েবের মাধ্যমে মিটার রিডিং আমাদের আশেপাশে কোনো শহরেই নেই। এটা যদি আমরা করতে পারি, তাহলে এটা হবে আমাদের বড় একটি অর্জন।

ড্রেনেজ ব্যবস্থাপনা সম্পর্কে তিনি বলেন, আমাদের ড্রেনেজ ব্যবস্থাপনা একক হাতে একটি সংস্থার কাছে থাকার জন্য আমরা প্রস্তাবনা দিয়েছি। আমরা বলেছিলাম, এটা সিটি করপোরেশনের কাছে থাকতে হবে। অন্যান্য দেশেও এটা সিটি করপোরেশনের কাছে থাকে। সিটি করপোরেশনের সক্ষমতার অভাব ছিল। এখন নিশ্চয়ই সিটি করপোরেশনের সক্ষমতা অর্জন হয়েছে। ২০১২ সাল থেকে আমরা এটিকে হস্তান্তর করতে মন্ত্রণালয়ে চিঠি দিয়ে আসছি।

সমসাময়িক বিষয়ে তিনি বলেন, গত দশ বছরে যে অর্জনটা হয়েছে, নিশ্চয়ই সরকার চায় সাফল্য। ওয়াসা নিয়ে আলোচনা-সমালোচনার মূল কারণ হচ্ছে যাদের স্বার্থে আঘাত লাগছে, আমাদের কর্মকাণ্ডের দ্বারা যাদের অনৈতিক কর্মকান্ড, দুর্নীতি, স্বজনপ্রীতি বাধা গ্রস্থ হয়েছে তারা এই সমালোচনার জন্ম দিয়েছে। গত দশ বছরে আমার যে কার্যক্রমে কোথাও অস্বচ্ছলতা আছে কি-না বলুন। এটা হতে গিয়ে কারো না কারো অসুবিধা তো অবশ্যই হয়েছে। কারো না কারো স্বার্থে তো অবশ্যই লেগেছে। আপনি যখন সুশাসন করবেন। যে সুশাসন চায় না, সে কি করবে?

তিনি জানান, ঢাকা ওয়াসাকে আরো উন্নত কিভাবে দেশকে এগিয়ে নেওয়া যায়। সেদিক আমরা খেয়াল করছি। আশা করছি মাননীয় প্রধানমন্ত্রী জননেত্রী শেখ হাসিনার স্বপ্নকে বাস্তবায়ন করতে একটি ডিজিটাল দেশ গড়তে সবাই ঢাকা ওয়াসাকে সহযোগিতা করে এগিয়ে নিয়ে যাবেন।

বার্তাবাজার/এসজে

বার্তা বাজার .কম'র প্রকাশিত/প্রচারিত কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা যাবে না।
এই বিভাগের আরো খবর