ঝুলন্ত তার নিয়ে ৩ পক্ষের টানাটানি

রাজধানীতে তার অপসারণ নিয়ে টানাটানিতে নেমেছে সংশ্লিষ্ট সরকারি বেসরকারি সংস্থা, রেগুলেটরি কমিশন এবং অপারেটর প্রতিষ্ঠানগুলো।

ইতিমধ্যে, রাজধানীজুড়ে ঝুলে থাকা অবৈধ তার অপসারণে রীতিমতো অভিযান শুরু করেছে ঢাকা উত্তর (ডিএনসিসি) ও দক্ষিণ সিটি করপোরেশন (ডিএসসিসি)।

একই সঙ্গে এর জন্য ন্যাশন ওয়াইড টেলিকমিউনিকেশন ট্রান্সমিশন নেটওয়ার্ক (এনটিটিএন) অপারেটরগুলোকে দায়ী করেছেন ডিএনসিসি মেয়র আতিকুল ইসলাম।
তার এই বক্তব্যকে অবশ্য প্রত্যাখ্যান করেছে বেসরকারি খাতে কাজ করা দুটি এনটিটিএন অপারেটর এবং ডাক ও টেলিযোগাযোগ মন্ত্রী মোস্তাফা জব্বার।

এমনই টানাপোড়নে নিজস্ব ড্রেন বা সড়কের নিচ দিয়ে নিজেরাই ফাইবার অপটিক ক্যাবল বসানোর প্রস্তাব দিয়েছেন ডিএনসিসি মেয়র আতিকুল ইসলাম।

এনটিটিএন অপারেটর সামিট কমিউনিকেশনের ব্যবস্থাপনা পরিচালক আরিফ আল ইসলাম বলেন, ২০০৯ সাল থেকে আমরা এবং আরেকটি প্রতিষ্ঠান ‘ফাইবার অ্যাট হোম’ দেশজুড়ে এনটিটিএন নেটওয়ার্ক সম্প্রসারণ করেছি। বিটিআরসি থেকে আমাদের লাইসেন্স প্রদানের সঙ্গে যে শর্ত দেওয়া হয়েছিল আমরা সেগুলো যথাযথভাবে পালন করে আসছি। ঢাকার অলিগলিতে ফাইবার টানতে হবে এমন নির্দেশনা সিটি করপোরেশনও আমাদের কোনওদিন দেয়নি। তবুও এখন যদি একটা সুনির্দিষ্ট নীতিমালা করে আমাদেরকে এই দায়িত্ব দেওয়া হয় তাহলে আমরা করব।”

‘ফাইবার অ্যাট হোম’- এর জনসংযোগ ও রেগুলেটরি বিষয়ক বিভাগের প্রধান আব্বাস ফারুক বলেন, “দেশজুড়ে ফাইবার অপটিক নেটওয়ার্ক বিস্তৃত করার আইনি এখতিয়ার শুধু আমাদের; এনটিটিএন অপারেটরদের। এর বাইরে যারা এটা করবেন সেটা গাইডলাইনের পরিপন্থী। এখন যদি সিটি করপোরেশন বা অন্য কেউ নেটওয়ার্ক বসায় তাহলে আমাদের বিনিয়োগের কী হবে? আমরা ফাইবার অ্যাট হোম এখন পর্যন্ত রাজধানীতে ১৮০০ কিলোমিটার ফাইবার বসিয়েছি। মাটির নিচ দিয়ে তার বসানোর জন্য প্রতি মিটারে আমরা সিটি করপোরেশনকে কমপক্ষে ২৩০০ টাকা করে ক্ষতিপূরণ দিয়েছি।

এদিকে মন্ত্রী মোস্তাফা জব্বার বলেন, আমাদের সিটি করপোরেশনগুলো তাদের যে দায়িত্ব পালন করা উচিত ছিল সেটা ঠিক সেভাবে পালন করেনি। তারা আজকে রাতারাতি পুরো শহর সাফ করে তার ফেলে দেওয়ার যে কথা বলছে, সেটা আমার কাছে আত্মঘাতী মনে হচ্ছে। দুই সিটি করপোরেশন কোনও বিকল্প না করে এটা করছে; এটাকে আমি সমর্থন করছি না। আমরাও তারবিহীন শহর পছন্দ করব, কিন্তু বিকল্প করে করতে হবে।

মোস্তাফা জব্বার আরো বলেন, সিটি করপোরেশন যদি কাউকে লাইন টানার সুযোগ দেয় তাহলে সেটা এনটিটিএন অপারেটরগুলোকেই দিতে হবে। এই অধিকার কোয়াব বা আইএসপিএবি’র নেই। নিজেরা আইন বানালে হবে না।

এদিকে যেকোনও উপায়ে তারবিহীন শহর চান ডিএনসিসি মেয়র আতিকুল ইসলাম। এনটিটিএন অপারেটর ছাড়া অন্য কারও ফাইবার অপটিক ক্যাবল নেটওয়ার্ক বিস্তৃত করা এনটিটিএন গাইডলাইন পরিপন্থী হলেও ‘ডোন্ট কেয়ার’ আতিক।

তিনি বলেন, “এটা এনটিটিএন গাইডলাইনের পরিপন্থী কী না ‘আই ডোন্ট কেয়ার’। শহরের ওপর দিয়ে তার যেতে পারবে না, যদি তার কেটে দেই তাহলে এনটিটিএনের চেয়ে আমার বদনাম বেশি হবে। কারণ এই কোভিডের সময় সবাই বাসায় থেকে ইন্টারনেটে কাজ করছে। কাজেই আমি আমার রাস্তা থেকে পাইপ নেব।

এনটিটিএন যদি কিছু করতে পারে তারা আমার সঙ্গে কথা বলুক। হয় এনটিটিএন আগামী এক মাসের মধ্যে সমস্ত রাস্তার নিচ দিয়ে পাইপ দেবে। পাইপ দিয়ে প্রাইস কমিয়ে আইএসপি এবং কোয়াবকে তারা সেখানে প্রবেশ করাবে অথবা রাস্তার নিচ দিয়ে আমি পাইপ দিয়ে দেব। আমি দেখব কোয়াব, আইএসপি আমাদের পাইপ ব্যবহার করে নাকি তাদেরটা ব্যবহার করে। তারা চাইলে আমাদেরটা করবে; চাইলে এনটিটিএনদেরটা করবে। কিন্তু আমাদের শহরে কোনও ঝুলন্ত তার থাকতে পারবে না।

বার্তাবাজার/আর.আর

বার্তা বাজার .কম'র প্রকাশিত/প্রচারিত কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা যাবে না।
এই বিভাগের আরো খবর