রাজধানীর খিলক্ষেত এলাকায় একটি ব্যাগে করে ফুটপাতে ফেলে যাওয়া এক শিশুকে দত্তক নিতে ৩০০টিরও বেশি ফোন এসেছে পুলিশের কাছে। গতকাল (বুধবার) এই ঘটনাটি ঘটেছে রাজধানীর গলফ ক্লাব ও খিলখেতের নিকুঞ্জ আবাসিক এলাকার এক নম্বর গেটের মাঝামাঝি ফুটপাতে।
পথচারীরা জানান, নির্জন ফুটপাতে হঠাৎ একটি প্রাইভেটকার এসে থামে। গাড়ি থেকে একজন নেমে একটি কাপড়ের ব্যাগ ফুটপাতে রেখে দ্রুত আবার চলে যান। কিছুক্ষণ পর তারা খেয়াল করেন ব্যাগে কিছু নড়ছে, আরো কাছে গিয়ে শুনতে পারেন কান্নার শব্দ। তারপর ব্যাগ খুলে দেখেন, লাল কাপড়ে মোড়া একটি সদ্যজাত শিশু। পথচারীদের দেখে শিশুটির কান্না থেমে যায়, তখন তার ঠোঁটজুড়ে ফুটে ওঠে হাসির রেখা।
পথচারীরা গিয়ে খবরটি জানান পাশেই দায়িত্ব পালনকারী ট্রাফিক সার্জেন্ট সমরেশকে। ট্রাফিক সার্জেন্ট সমরেশ শিশুটিকে সঙ্গে সঙ্গেই নিয়ে যান কুর্মিটোলা জেনারেল হাসপাতালে। কিন্তু কোভিড ডেডিকেটেড হওয়ায় সেখানে শিশুটির ভর্তি নেয়নি হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ। প
রে ট্রাফিক সার্জেন্ট বিষয়টি ওই এলাকার মোবাইল টিমের দায়িত্বে থাকা খিলক্ষেত থানার উপপরিদর্শক (এসআই) মঞ্জুরুল হাবিবকে জানান। আজ বৃহস্পতিবার বিকেলে এসআই মঞ্জুরুল গণমাধ্যমকে এসব তথ্য জানান।
তিনি বলেন, ‘আমি শিশুটিকে পরে ঢাকা শিশু হাসপাতালে ভর্তি করাই। সেখানকার আবাসিক চিকিৎসক সহকারী অধ্যাপক ডা. রিজওয়ানুল হাসান বিপুলের তত্ত্বাবধানে শিশুটি চিকিৎসাধীন। শিশুটি ভালো আছে বলে চিকিৎসক আমাকে জানিয়েছেন। এই ঘটনায় একটি সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করা হয়েছে। ঘটনার তদন্ত করছি আমি।’
এ ব্যাপারে খিলক্ষেত থানার পরিদর্শক (তদন্ত) মো. আমিনুল ইসলাম বলেন, ‘বাচ্চাটিকে দত্তক নিতে চায় এমন ৩০০টি ফোন পেয়েছি। আমি তাদের বলেছি, এই ঘটনায় যেহেতু একটি জিডি হয়েছে, আপনারা আদালতে আবেদন করেন। আদালত যাকে ভালো মনে করবেন তার কাছে বুঝিয়ে দেবেন।’
বার্তাবাজার/এসজে