অবৈধ পথে আনা দুই কাভার্ড ভ্যানের ভেতরে গমের বস্তার আড়াল থেকে সাড়ে ৫ কোটি টাকা মুল্যের বিপুল পরিমাণ ভারতীয় শাড়ী ও ওড়না উদ্ধার করেছে পুলিশ। বুধবার বিকেল সাড়ে পাঁচটার দিকে ঢাকা-টাঙ্গাইল মহাসড়কের মির্জাপুর উপজেলার দেওহাটা গরুর হাটের কাছ থেকে শাড়ী ভর্তি কাভার্ড ভ্যান দুটি আটক করা হয়। বৃহস্পতিবার গ্রেফতারকৃতদের জেলহাজতে প্রেরন করেছে।
গ্রেফতারকৃতরা হলেন, সাতক্ষীরা জেলার কলারোয়া উপজেলার দক্ষিণ দিঘনা গ্রামের জালাল উদ্দিনের ছেলে কাভার্ড ভ্যান চালক নাজমুল হোসেন (৩০), সাতক্ষীরা সদরের আবুল মোহসীনের ছেলে কাভার্ড ভ্যান চালক আকতারুল ইসলাম (৩৫), সাতক্ষীরা সদরের এরফান আলী গাজির ছেলে হেলপার মশিউর (৪০) এবং সাতক্ষীরা সদরের দিদার উদ্দিনের ছেলে হেলপার নাসির উদ্দিন (৩০)
টাঙ্গাইলের পুলিশ সুপারের সম্মেলন কক্ষে আয়োজিত এক প্রেস ব্রিফিং করে এই তথ্য জানান পুলিশ সুপার সঞ্জিত কুমার রায়। এসময় মির্জাপুর থানার অফিসার অফিসার ইনচার্জ মো. সায়েদুর রহমান উপস্থিত ছিলেন।
পুলিশ জানায়, কাভার্ড ভ্যান দুটি অবৈধ পথে ভারত থেকে আনা শাড়ী নিয়ে সাতক্ষীরা বিকাল থেকে ঢাকার ইসলামপুরে যাচ্ছিলো। গোপন সংবাদের ভিত্তিতে ঢাকা-টাঙ্গাইল মহাসড়কের মির্জাপুর উপজেলার দেওহাটা নামক স্থানে মির্জাপুর থানার এসআই রুবেলের নেতৃত্বে চেকপোষ্ট বসায়। বিকেল সাড়ে পাঁচটার দিকে কাভার্ড ভ্যান দুটি (ঢাকা মেট্রো ট ১১-৮২০৫ ও ঢাকা মেট্রো ট ১৬-৯৫৪২) চেকপেষ্টে এসে পৌছালে পুলিশ তা আটক করে। একইসাথে কাভার্ড ভ্যানের দুই চালক ও দুই হেলপারকে আটক করা হয়। পরে কাভার্ড ভ্যান তল্লাশী করে ভেতরে গমের বস্তা দিয়ে অভিনব কায়দায় ঢাকা বিপুল পরিমাণ ভারতীয় শাড়ী, লেহেঙ্গা ও ওড়না জব্দ করা হয়। এর মধ্যে শাড়ীর সংখ্য ১৮ হাজার ৩৩ পিচ, উড়নার সংখ্যা ১ হাজার ৮৫০ পিচ, লেহেঙ্গা ৩ পিচ এবং ৫০ কেজি ওজনের ৯০ বস্তা গম। যার বাজার মুল্য প্রায় সাড়ে পাঁচ কোটি টাকা বলে পুলিশ ও স্থানীয় ব্যবসায়ীরা জানান।
এই ঘটনায় মির্জাপুর থানার এসআই রুবেল হোসেন বাদী হয়ে আটককৃত চারজনসহ আরো কয়েকজন অজ্ঞাতনামা আসামী করে চোরাচালান আইনে মামলা করেছেন।
মির্জাপুর থানার পরিদর্শক (তদন্ত) মো. গিয়াস উদ্দিন বলেন, জব্দকৃত ভারতীয় শাড়ী, ওড়না ও গমসহ গ্রেফতারকৃতদের আদালতের মাধ্যমে বৃহস্পতিবার টাঙ্গাইল জেলহাজতে প্রেরন করা হয়েছে।
বার্তা বাজার / ডি.এস