ঠাকুরগাঁও জেলার রাণীশংকৈলে বাড়ির পার্শ্ববর্তী পুকুর থেকে মা ও দুই সন্তানের মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে। বৃহস্পতিবার (১৫ অক্টোবর) ভোরে উপজেলার ধর্মগড় ভরনিয়া শিয়ালডাঙ্গী গ্রামের বাড়ির পাশের পুকুর থেকে তাদের মরদেহ উদ্ধার করেন প্রতিবেশীরা।
নিহতরা হলেন- শিয়ালডাঙ্গী গ্রামের আকবর হোসেনের স্ত্রী আরিদা খাতুন (৩২), তার মেয়ে তৃতীয় শ্রেণির ছাত্রী আঁখি (১০) ও ছেলে আরাফাত (৪)।
জানা গেছে, ভোর ৬টার দিকে আরিদা ও তার সন্তানদের মরদেহ পুকুরে ভাসতে দেখা যায়। পরে তাদের মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশে খবর দেয়া হয়। ঘটনাস্থলে এসে মরদেহ উদ্ধার করা হয়। তাদের মুখে বিষের গন্ধ পাওয়া গেছে বলেও জানান প্রতিবেশীরা। এখন পর্যন্ত তাদের মৃত্যু কারণ নিশ্চিত করতে পারেনি পুলিশ।
গৃহবধুর স্বামী আকবর আলী জানান, রাতে সবাই এক বিছানায় ঘুমিয়েছিলাম। সকালে ছেলে-মেয়ে ও স্ত্রীকে না পেয়ে শ্বশুড়বাড়ীতে খুজতে গিয়েছিলাম। আমি বাড়ী ফেরার আগেই স্থানীয়রা ও আমার বাবা সিরাজুল ইসলাম ডােবা থেকে ৩ জনের মরদেহ উদ্ধার করেন।
গৃহবধুর শ্বশুর সিরাজুল ইসলাম জানান, এর আগেও আমার পুত্রবধু গলায় ফাঁস লাগিয়ে আত্মহত্যার চেষ্টা করেছিল। পরে স্থানীয়রা বিষয়টি মীমাংসা করে দিয়ে আমাদের জিম্মায় তুলে দেয়। পরে এমন ঘটনা ঘটাবে আমরা কোনদিন ধারনা করিনি।
আরিফা আক্তারের বাবা নজরুল ইসলাম বলেন, প্রায় ১৩ বছর হলাে আকবরের সঙ্গে আরিফার বিয়ের। আমার মেয়েটি খুব চাপা স্বভাবের। সংসারে কষ্টের কথা চেপে রাখে। আমাকে কখনাে কিছু বলত না। লােকমুখে আকবর ও আরিফার মধ্যে ঝগড়ার কথা শুনতাম। কী কারণে এমনটি হলাে, মাথায় আসছে না।
গৃহবধুর মামা আলাউদ্দীন জানান, ৩ জনকেই পরিকল্পিতভাবে হত্যা করেছে বলে আমরা ধারণা করছি। আমরা ঘটনার সাথে জড়িত সকলকে আইনের আওতায় এনে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানাচ্ছি।
এ ঘটনার পর সহকারী পুলিশ সুপার, রাণীশংকৈল থানা পুলিশ ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছে। রাণীশংকৈল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) এস এম জাহিদ ইকবালঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে বলেন, ভোরে ওই গ্রাম থেকে স্থানীয় লোকজন ফোন করে আমাদের জানান পুকুর থেকে তিনজনের মরদেহ উদ্ধার করেছেন। ঘটনাস্থলে যাচ্ছি। মরদেহগুলো উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের পর মৃত্যুর সঠিক কারণ জানা যাবে।
বার্তাবাজার/অমি