জ্বিন তাড়ানোর নামে মাদ্রাসা ছাত্রকে পিটুনি, অভিযোগ করায় সাংবাদিককে মামলার হুমকি (ভিডিওসহ)
গত সোমবার (১২ অক্টোবর) রাত ১১টার দিকে ভোলা সদরের মোস্তফা কামাল বাস টার্মিনাল এলাকায় শিকলে বাঁধা অবস্থায় রাকিব নামের ১২ বছরের এক শিশুকে ঘুরতে দেখে বার্তাবাজারের ভোলা জেলা প্রতিনিধি অনিক আহমেদ। কৌতূহলী হয়ে কথা বলেন ছেলেটির সাথে।
জানা যায়, রাকিব নামের ছেলেটি সদর উপজেলার দক্ষিণ দিঘলদী ইউনিয়নের বাংলাবাজার এলাকার বাকলাই বাড়ির দরজার হাফিজিয়া মাদ্রাসায় পড়াশোনা করে। মাদ্রাসা শিক্ষকের নির্যাতনে অতিষ্ঠ হয়ে নামাজের বিরতির সময় সে পালিয়ে বের হয়ে পড়েছে মাদ্রাসা থেকে।
নির্যাতনের শিকার রাকিব জানায়, ‘আমি বাকলাই বাড়ির দরজার হাফিজিয়া মাদ্রাসায় পড়ি। আমাকে হাবিব হুজুর খালি মারে তাই সবাই যখন নামাজ পড়তে গেছে আমি তখন মাদ্রাসা থেকে পালিয়ে বের হয়ে গেছি।’
তার অভিযোগের ভিত্তিতে তাকে নিয়ে সাংবাদিক অনিক আহমেদ তার বলা মাদ্রাসায় হাজির হয়। সেখানে গিয়ে মাদ্রাসার প্রধান শিক্ষকের দায়িত্বে নিয়োজিত জসিম হুজুরের সাথে শিকল দিয়ে বেঁধে রাখা নিয়ে কথা বলেন তিনি।
জসিম জানান, রাকিবের সাথে জ্বীন-ভূতের আচর আছে। সে মাগরিবের নামাজের সময় মাদ্রাসা থেকে পালিয়ে যায়। এই মাদ্রাসার কোনো সভাপতি নাই। মাদ্রাসায় মোট ৮ জন শিক্ষক আছে। আমি প্রধান শিক্ষক, এই মাদ্রাসার সকল দায়িত্ব আমার।
ওই মাদ্রাসার বিভিন্ন কক্ষে ঘুরে দেখা যায় আরও অনেক কক্ষে শিক্ষার্থীদের শিকল দিয়ে পা বেঁধে রাখা হয়েছে। এই বিষয়েও মাদ্রাসার প্রধান শিক্ষক জসিম জানান, এদের সকলের উপরেই জ্বীনের আচর আছে তাই এভাবে বেঁধে রাখা হয়েছে।
এরপর সেখান থেকে ভুক্তভোগী রাকিবকে নিয়ে তার নানীর বাসায় পৌঁছে দেয়া হয়।
রাকিবের নানী জানান, রাকিবের মা চট্টগ্রাম গার্মেন্টসে চাকরি করেন। তাই তাকে আমার কাছে দিয়ে গেছে। আমি ওকে মাদ্রাসায় পড়ার জন্য ভর্তি করেছি। কিন্তু মাদ্রাসার শিক্ষকরা পড়ানোড় নামে মারপিট করে বলে বারবার রাকিব আমাকে জানিয়েছে। আজ যদি আমার নাতি কোনো দুর্ঘটনার শিকার হতো তাহলে এর দায়ভার মাদ্রাসার শিক্ষকদেরকেই নিতে হতো।
এদিকে অজ্ঞাত পরিচয়ের এক ব্যক্তি ০১৭৮৭৭৮৭৯৪৮ নাম্বার থেকে সাংবাদিক অনিক আহমেদকে সংবাদ প্রকাশ করতে নিষেধ করেন। পাশাপাশি সংবাদ প্রকাশ করা হলে চাঁদাবাজিসহ বিভিন্ন মিথ্যা মামলা দিয়ে ফাঁসিয়ে দেওয়ার হুমকিও দেওয়া হয়।
বার্তাবাজার/এসজে