আজ মধ্যরাত থেকে শুরু হচ্ছে মা ইলিশ শিকারে ২২ দিনের নিষেধাজ্ঞা। যেসব জেলেরা গভীর সমুদ্রে মাছ শিকাররত রয়েছে তারা মধ্যরাতের আগেই তীরে ফিরে আসছে। সমুদ্র উপকুলের বিভিন্ন মৎস্য অবতরণ কেন্দ্র ও নদনদীতে ট্রলার রেখে নিজ নিজ বাড়িতে ফিরতে শুরু করেছে মাছ শিকারিরা।
ইলিশসহ উৎপাদন বৃদ্ধিতে মৎস্য বিভাগের এমন সিদ্ধান্তে খুশি জেলেরা। ২২ দিনের এমন কর্মহীন সময়ে জেলেদের জন্য দেয়া হচ্ছে প্রণোদনা। তবে প্রদেয় এ প্রণোদনা বাড়ানোসহ নির্ধারিত সময়েই তা প্রকৃত ইলিশ শিকারিদের মাঝে বিতরণের দাবি জেলেদের।
এসময় মাঝি সবুজ গাজী ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, ‘অনেক ইলিশ শিকারি জেলে সহায়তা পাচ্ছেন না। যারা ছোট ছোট জাল নিয়ে নদী বা খালে মাছ শিকার করে তারা পাচ্ছেন সহায়তা।’
আলীপুরের এফবি শুকতারা ট্রলারের মাঝি কবির বলেন, ‘আমাদের দেশে যখন অবরোধ দেয়া হয়, তখন ভারতীয় ও মায়ানমারের জেলেরা মাছ শিকার করে। যদি আলোচনা করে একই সময়ে অবরোধ দেয়া হয়, তবে আমাদের জন্য ভাল হয়।’
জেলা মৎস্য অফিস সূত্রে জানা গেছে, বুধবার থেকে শুরু হওয়া ২২ দিনের অবরোধ চলবে ৪ নভেম্বর পর্যন্ত। মঙ্গলবার দিবাগত রাত ১২.০১ মিনিট থেকে শুরু হচ্ছে এর কার্যকারিতা। এ সময়ে সারা দেশে ইলিশসহ সব ধরনের মাছ আহরণ, পরিবহন, মজুদ, বাজারজাত করণসহ ক্রয়-বিক্রয় নিষিদ্ধ ঘোষণা করা হয়েছে। আইন অমান্যকারীকে এক থেকে দুই বছরের জেল অথবা সর্বোচ্চ পাঁচ হাজার টাকা জরিমানা অথবা উভয় দণ্ড হতে পারে।
পটুয়াখালী জেলা মৎস্য কর্মকর্তা মোল্লা ইমদাদুল্লাহ জানান, বিগত কয়েক বছরে ইলিশ প্রজনন মৌসুমে মৎস্য শিকারের নিষেধাজ্ঞার ধারাবাহিকতায় সাগরে বেড়েছে ইলিশসহ নানা প্রজাতির মাছ। অবরোধ সফল করতে জেলেদের নিয়ে উঠান বৈঠকসহ চলছে ধারাবাহিক গণসংযোগ। সমুদ্রসহ স্থলভাগে সক্রিয় রয়েছে প্রশাসন ও আইন প্রয়োগকারী সংস্থা।
বার্তাবাজার/এমআর