পটুয়াখালীর রাঙ্গাবালী উপজেলায় পৃথক স্থানের আটটি চরে নেই ঘূর্ণিঝড় আশ্রয়কেন্দ্র। বছরের ৬মাসই আতঙ্কে দিন কাটে এসব দ্বীপ চরের বাসিন্দাদের। বেড়িবাধ না থাকায় প্রায়ই পানিতে প্লাবিত এই চরের বাসিন্দারা। রাতে সাপের ভয়-দিনে পানিতে ডুবে সন্তান হারানোর ভয়। এভাবেই কাটছে তাদের জীবন।
উপজেলার রাঙ্গাবালী সদর ইউনিয়নের বিচ্ছিন্ন দ্বীপের নাম চরকাশেম। বঙ্গোপসাগরের কোলঘেসে জেগে উঠে এ দ্বীপ চরটি। প্রায় তিন হাজার একর আয়তনের দ্বীপটিতে দুই শতাধিক পরিবারের বসবাস। নেই কোন ঘূর্ণিঝড় আশ্রয় কেন্দ্র। আকাশে মেঘ দেখলে আতঙ্কে থাকেন পুরো দ্বীপের লোকজন। নদীতে স্বাভাবিক জোয়ারের চেয়ে বেশি পানি হলে ঘরের হাড়ি পাতিল ভেসে যাওয়ার ঘটনা অহরহ। বর্ষা মৌসুমে প্রায়ই তারা পানিবন্ধি হয়ে পড়ে। বন্যা নিয়ন্ত্রণ বেড়িবাঁধ আর একটি ঘূর্ণিঝড় আশ্রয় কেন্দ্র না থাকায় বছরের পর বছর ধরে এভাবেই বসবাস করে আসছে বাসিন্দারা।

জানা গেছে, ১৯৪০ সালের দিকে বঙ্গোপসাগরের কোল ঘেষে প্রায় তিন হাজার একর জমি নিয়ে এ দ্বীপের উত্থান ঘটে। পূর্ব, পশ্চিম, উত্তর, কোনে বুড়াগৌড়াঙ্গ নদী আর দক্ষিণে বঙ্গোপসাগর দ্বারা বেষ্টিত চরকাসেম দ্বীপ রাঙ্গাবালী ইউনয়িনের দক্ষিণ-পূর্ব কোণে অবস্থান। গত ৩৫-৪০ বছরে ভূমিহীনসহ নানা শ্রেণী পেশার প্রায় ২ শতাধিক পরিবার এখাসে বসতি গড়ে তোলে। সদর ইউনিয়ন থেকে বিচ্ছিন্ন হওয়ায় যোগাযোগ ব্যবস্থার জন্য একটি ছোট খেয়া নৌকার ওপর নির্ভর করতে হয় এখানকার লোকজনের। বর্ষার মৌসুমে নদী উত্তাল থাকলে এক সপ্তাহের বেশি সময় পার হয়ে গেলেও সদর ইউনিয়নে আসার সুযোগ থাকে না দ্বীপ বাসিন্দাদের।
শুধু চরকাশেম নয়, উপজেলার চালিতাবুনিয়া ইউনিয়নের চরলতা, ছোটবাইশদিয়া ইউনিয়নের কাউখালী, চরইমারশন, চরনজির, চর তোজাম্মেল, রাঙ্গাবালী ইউনিয়ন চরকানকুনি, চরকলাগাছিয়াও ঘূর্ণিঝড় আশ্রয় কেন্দ্র নেই।
জানা গেছে, চরলতায় সাড়ে ৭শত লোক এর মধ্যে ভোটার সংখ্যা রয়েছে ২০৩ জন, চরইমারশনে মোট জনসংখ্যা রয়েছে প্রায় সাড়ে ৫শত এদের মধ্যে ভোটার সংখ্যা ১৯৬ জন, কাউখালীচরে মোট জনসংখ্যা ৬ শত মোট ভোটার সংখ্যা ২০৮ জন ও চরনজির জনসংখ্যা ৮শত মোট ভোটার সংখ্যা ২১০ ও চরকানকুনিতে মোট জনসংখ্যা প্রায় ১ হাজার এদের মধ্যে ভোটার সংখ্যা ৫৫০ জন।
আশ্রয় কেন্দ্র বিহীন এসব চরের বাসিন্দারা জানান, আশ্রয়কেন্দ্র না থাকায় বন্যাসহ বিভিন্ন প্রাকৃতিক দুর্যোগেই আতঙ্কে দিন কাটে তাদের। বন্যা এলেই হয়তো উচুঁ গাছের ডালে, নয়তো গলায় কলসি বেধে নদী পাড় হয়ে নিরাপদ আশ্রয় কেন্দ্রে যেতে হয় তাদের। এদেও মধ্যে আনেকেই বন্যায় স্বজনহারা হয়েছে বলে তারা জানান।
তারা আরও জানান, বেড়িবাধ না থাকায় স্বাভাবিক জোয়ারের চাইতে বেশি পানি হলেই প্লাবিত হন তারা।
এসময় সরকারের কাছে দ্রুত আশ্রয় কেন্দ্র ও বেড়িবাধ নির্মানের দাবি জানান এই চরের বাসিন্দারা।
উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা মো.হুমায়ন কবির বলেন, ওইসব চরাঞ্চলে কোন আশ্রয় কেন্দ্র নেই। এই সমস্ত এলাকার লোকজন ঘূর্নিঝড়ের সময় আমাদের সরিয়ে আনতে কস্ট হয়। আমাদের দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রন মন্ত্রানালয় এবং দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা অধিদপ্তর কতৃক যে ঘূর্ণিঝড় আশ্রয় কেন্দ্র বাস্তবায়িত হয়, তারই ধারাবাহিকতায় ১৯-২০ অর্থ বছরে আমরা ৬ টি প্রস্তাবনা পাঠিয়েছি। যেসব চরগুলো রয়েছে সেগুলো যদি আমাদের যে নির্দিষ্ট শর্তাবলী আছে, সেসব শর্তাবলীর মধ্যে যদি থাকে তাহলে অবশ্যই আমরা তা উর্দ্ধতন কর্মকর্তার মাধ্যমে বাস্তবায়ন করব।
তিনি আরও বলেন, বেড়িবাধের যে সমস্য রয়েছে সেটা আমাদের ডিপার্টমেন্টে যদি কোন বরাদ্দ ভবিষ্যতে পাওয়া যায় তাহলে অবশ্যই আমরা করে দিব ইনশাআল্লাহ।
বার্তাবাজার/অমি