ঢাকার সাভারের আশুলিয়া থানাধীন পানধোয়া ও গকুলনগর এলাকার সেই বন্ধ করে দেয়া পানি নিষ্কাশনের একমাত্র পথটি খুলে দেবার কাজ শুরু হয়েছে। গত শুক্রবার (৯ অক্টোবর, ২০২০) তারিখে নিবন্ধিত জনপ্রিয় অনলাইন পোর্টাল বার্তা বাজার এর ফেসবুক পেইজে পানধোয়া বালুর মাঠ এলাকার ময়লা ও নোংরা পানিতে নিমজ্জিত অধিবাসীদের দুর্দশা নিয়ে লাইভ প্রতিবেদন করা হয়।
এর পরের দিন স্থানীয় ইউপি চেয়ারম্যান এর নির্দেশে যারা এই পানি প্রবাহের পথ বন্ধ করে দিয়েছিলো, তারা সেই পাইপের মুখ খুলে দেবার কাজ শুরু করে।
উল্লেখ্য, পানধোয়া এবং এর সংলগ্ন এলাকার বাসাবাড়ির ব্যবহৃত এবং বৃষ্টির পানি প্রবাহের পথ ছিলো গকুলনগর বাজার থেকে একটু দূরে জনৈক নুরুর জায়গা সংলগ্ন পিচের রাস্তার নিচের একটি ‘চুঙ্গী’ (৩৬ ইঞ্চি ব্যাসের পাইপ) দিয়ে নিচু কৃষিজমি হয়ে ফকির চাঁন মিলের দিকে। এভাবেই চলে আসছিলো দীর্ঘদিন ধরে।
কিন্তু সম্প্রতি, যার জায়গার নিচ দিয়ে এই পাইপের ভিতর দিয়ে এই পানি প্রবাহিত হচ্ছিলো, তিনি তাঁর মালিকানাধীন ওই নিচু কৃষিজমি বালু দিয়ে ভরাট করার সময় সেই পাইপলাইনটিও বন্ধ করে দেন। ফলে পানধোয়ার বালুর মাঠ এলাকার অনেকগুলো বাসাবাড়ি সহ আশেপাশের বিস্তীর্ণ এলাকা ময়লা, নোংরা ও পুঁতিদুর্গন্ধময় পানিতে নিমজ্জিত হয়। ফলে চলাচলের রাস্তাগুলো হাঁটু সমান পানিতে সয়লাব হওয়ায় সকলকে ওই পানির ভিতর দিয়েই যাওয়া-আসা করতে হচ্ছিলো। কোনো কোনো বাড়ির ভিতরে এই নোংরা পানি ঢুকে যাওয়ায় তাদের অবস্থা ছিলো সবচেয়ে শোচনীয়।
পরে, এলাকাবাসীর এই অবস্থা দেখে এই প্রতিবেদক একটি লাইভ প্রতিবেদনে সামগ্রিক দূর্দশা তুলে ধরলে স্থানীয় প্রশাসন সহ সংশ্লিষ্ট সকল পক্ষের টনক নড়ে। লাইভ প্রতিবেদন প্রকাশের পরের দিন (শনিবার) থেকে আগের পাইপ লাইনের সাথে একটু ঘুরিয়ে আলাদা একটি পানি বের হবার রাস্তা তৈরীর কাজ শুরু হয়।
সোমবার (১২ অক্টোবর) সরেজমিন ঘটনাস্থলে গিয়ে দেখা গেছে, পিচের রাস্তার উভয়পাশে পানি বের হবার জন্য রাস্তা তৈরির প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে। একাজে প্রয়োজনীয় পাইপ কিনে আনা সহ ভরাটকৃত বালুর এক অংশ আবার খুড়ে ফেলে পানি প্রবাহের জন্য পাইপ তৈরীর কাজ শুরু হয়েছে।
এব্যাপারে যারা এই কাজ তদারকি করছেন তারা জানান, যেহেতু পিচের রাস্তা অনুমতি ছাড়া কাটা যাবে না, তাই বিকল্প পথে আগের পাইপের সাথে নতুন করে পাইপ বসিয়ে পানি নির্গমনের ব্যবস্থা করা হচ্ছে। আর এই কাজটি কয়েকদিনের ভিতরেই সম্পন্ন হবে এবং এরপর নিমজ্জিত বালুর মাঠ এলাকার সকল পানি ধীরে ধীরে বের হয়ে যাবে।
তবে এই প্রতিবেদক সোমবার (১২ অক্টোবর) বিকাল পর্যন্ত পানধোয়ার সেই নিমজ্জিত বালুর মাঠ এলাকায় গিয়ে আগের অবস্থাই দেখতে পেয়েছেন।
(লাইভ লিংকঃ https://m.facebook.com/story.php?story_fbid=944104416092870&id=1495401560511555)।
কেএস/বার্তাবাজার