বুড়িগঙ্গা নদীর উপর দ্বিতীয় সেতু বাবুবাজার ব্রিজ। ঢাকা থেকে মাওয়া, কেরানীগঞ্জগামী অন্যতম রুট বাবুবাজার ব্রিজ। তবে ব্রিজে প্রবেশ করতেই পরতে হয় চরম ভোগান্তিতে। সকাল থেকে রাত অবধি লেগে থাকে যানজট।
শুধু ব্রিজটিতে চলাচলকারীরাই নন, ভোগান্তিতে পড়ছেন আশপাশের এলাকার বাসিন্দারাও। ব্রিজটি রাজধানীর নয়াবাজার থেকে শুরু হয়ে শেষ হয়েছে বুড়িগঙ্গার ওপার কদমতলীতে। এতে লেগে থাকা যানজট নিমেষেই ছড়িয়ে পড়ে দুই পাড়ের এলাকায়। ফলে দুই পাড়ের এলাকার বাসিন্দাদের পড়তে সীমাহীন ভোগান্তিতে।
বাবুবাজার ব্রিজ ও এর আশপাশের এলাকায় সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, ব্রিজের উপরে বাস, লেগুনা, সিএনজি ও ভ্যান অবৈধ স্ট্যান্ড করে যাত্রী উঠা- নামা করছে। পুরো ব্রিজ জুড়ে যেখানে প্রতিদিনই গাড়িতে যাত্রী উঠানোর জন্য বাস, সিএনজি ও লেগুনা দাঁড়িয়ে থাকে। ব্রিজটির উপরে উঠতে দুই পাশে দুইটি করে ব্রিজের মাঝামাঝি দুই পাড়ে মোট চারটি সিঁড়ি রয়েছে। সেখানে যাত্রীরা বাবুবাজার ব্রিজের উপরে উঠে গাড়ির জন্য অপেক্ষা করেন। ব্রিজের উপরে যাত্রীদের লম্বা লাইনের জন্য যানজটের ভোগান্তি আরও যায় বেড়ে।
স্থানীয় কয়েকজন বাসিন্দা ও সিএনজি চালকরা বাবুবাজার ব্রিজ ও এর আশপাশের এলাকার যানজটের জন্য দায়ী করেন স্থানীয় রাজনৈতিক নেতা ও পুলিশ সদস্যদের। সিএনজি, লেগুনা ও বাস চালকদের কাছ থেকে মাসিক হারে তারা টাকা নিয়ে এই অবৈধ স্ট্যান্ড চালান বলে অভিযোগ স্থানীয়দের।
এ ব্রিজে উপর দিয়ে দিনে দুই বারা যাতায়েত করেন মিটফোর্ডের ব্যবসায়ী মোঃ লিটন। তিনি জানান, প্রতিদিন ব্রিজের উপর উঠেই পড়তে হয় জ্যামে। বাস, লেগুনা ও সিএনজি গুলো সিরিয়াল ধরে দাঁড়িয়ে থাকে যাত্রী উঠানোর জন্য ফলে পিছনের গাড়িগুলো সামনে আসতে না পাড়ায় সৃষ্টি হয় যানজট। এতে ব্রিজের উপর বসে থাকতে হয়ে ঘন্টার পর ঘন্টা। তবে মাঝে মধ্যে পুলিশ থাকলেও তাদের দেখা যায় নিরব ভূমিকায় যেনো তারা কিছুই দেখছে না বরং বাস, লেগুনা ও সিএনজি গুলোকে পাহারা দিচ্ছে।
নিয়মিত যাতায়াত করেন এমন কয়েকজন পথচারী জানান, প্রতিদিনই জিবিকার তাগিদে আমাদের কেরানীগঞ্জ থেকে কর্মস্থলে যতে হয় এই ব্রিজের উপর দিয়ে, আবার কাজ শেষে বাসায় ফিরতে হয়। তবে বেশীরভাব সময় আমারা হেটে পাড় হই। কারণ জ্যামে বসে থাকলে আমাদের কর্মস্থলে দেড়ি হয়ে যায়। এই জ্যামের কারণে আমারা চরম ভোগান্তিতে রয়েছি।
এলাকাবাসী অভিযোগ করে বলেন, গত কয়েক বছর ধরে যানজট লাগবে বলে ব্রিজে টোল নেওয়া বন্ধ করে দিয়েছে সরকার। কিন্তু নেতা ও পুলিশ সদস্যরা টাকা খেয়ে অবৈধ স্ট্যান্ড বানিয়ে যানজটে ভোগাচ্ছেন মানুষজনকে। আর অন্যদিকে পুলিশের উপস্থিতিতেই ব্রিজের একপাশে হকাররা বিক্রি করছে সরবত, কাপড়, মানিব্যাগ, আচারসহ নানা জিনিসপত্র। ভ্রাম্যমাণ এসব দোকানে হুমড়ি খেয়ে পড়ছে ক্রেতারা, ফলে তৈরি হচ্ছে জটলা। অন্যদিকে এসব হকার আর সিএনজিচালকের কাছ থেকে নেওয়া হচ্ছে চাঁদা। এতে চাঁদাবাজদের পকেটে টাকা ঢুকলেও বাড়ছে সাধারণ মানুষের ভোগান্তি।
বার্তাবাজার/অমি