দেশে অনাচারের জন্য রাষ্ট্রপতি আব্দুল হামিদ ‘অনেকাংশেই দায়ী’ বলে মন্তব্য করেছেন বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব রিজভী।
তিনি বলেন, ‘অপরাধ করে রেহাই পাওয়ার সংস্কৃতির জন্যই দেশে নারী-শিশুর ওপর নির্যাতন ও অন্যান্য সামাজিক অপরাধগুলো জ্যামিতিক হারে বেড়েই চলেছে। রাষ্ট্রীয় পৃষ্ঠপোষকতায় গুম, খুন, ধর্ষণ ও দুর্নীতি করলে পার পাওয়া যায়, আইনশৃঙ্খলা বাহিনী কাউকে আটক করে না- এটি যেন দেশের অলিখিত বিধান হয়ে গেছে।’
তিনি আরো বলেন, ‘দেশের রাষ্ট্রপতি কর্তৃক বারবার রাষ্ট্রীয় ক্ষমার (স্টেট ক্লিমেন্সী) কারণে ভয়ঙ্কর অপরাধীরা রেহাই পাওয়াতে তারা এখন সমাজে প্রভু হয়ে বসেছে। খুন, জখম ও নারীর শ্লীলতাহানিকে তারা নিজেদের অধিকার মনে করছে।’
আজ রবিবার (১১ অক্টোবর) দুপুরে নয়াপল্টনে দলের কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে তিনি এসব কথা বলেন।
রিজভী বলেন, ‘গতকাল শনিবার বিকালে উত্তরায় বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরের বাসায় কতিপয় উচ্ছৃঙ্খল বহিরাগত ব্যক্তি ইটপাটকেল নিক্ষেপ করে ক্ষতিসাধন করে। আমি সুস্পষ্টভাবে বলতে চাই- মির্জা ফখরুলের বাসায় হামলার ঘটনার পেছনে সরকারি পৃষ্ঠপোষকতা রয়েছে।’
রিজভী বলেন, ‘আওয়ামী লীগ ক্ষমতায় আসার পর খুনের আসামি লক্ষ্মীপুরের তাহেরের ছেলে বিপ্লব এবং নাটোরের যুবদল নেতা গামা হত্যার আসামিসহ ৩০ জন ফাঁসির আসামিকে ক্ষমা করে দিয়েছেন রাষ্ট্রপতি। গামা হত্যাকারী আওয়ামী সন্ত্রাসীদের হাইকোর্টে মামলা বিচারাধীন থাকা অবস্থাতেই রাষ্ট্রপতি তাদের ক্ষমা করে দিয়েছেন, এক্ষেত্রে তাদেরকে কোনও আবেদনই করতে হয়নি। এর মধ্যে রাষ্ট্রপতির ক্ষমা পেয়ে মাদারীপুরের খুনের আসামি যুবলীগ নেতা আসলাম জেল থেকে বেরিয়ে আবারও খুন করেছে।’
তিনি বলেন, ‘আজকে দেশে অনাচারের জন্য রাষ্ট্রপতি অনেকাংশেই দায়ী। তিনি রাষ্ট্রের অভিভাবক হতে পারেননি। তিনি আওয়ামী দুষ্কৃতিকারীদের অভিভাবক বলেই মানুষ মনে করে।’
বিএনপির এই নেতা বলেন, ‘আজ দেশব্যাপী নারী-শিশু নির্যাতনের মহামারিতে ক্ষমতাসীন দলের অঙ্গসংগঠনের নেতাকর্মীদেরকেই বেশিরভাগ লিপ্ত থাকতে দেখা যাচ্ছে, অথচ সরকার এ বিষয়ে নির্বিকার। নির্বাচন কমিশনের নেতৃত্বে প্রধান নির্বাচন কমিশনার সুষ্ঠু ভোট ও গণতন্ত্রের শ্লীলতাহানি করে যাচ্ছেন নিরন্তরভাবে। উপরের নির্বাচনী ঘটনাগুলো আবারও প্রমাণ করলো- বর্তমান নির্লজ্জ প্রধান নির্বাচন কমিশনারের অধীনে দেশের সকল নির্বাচনের সম্ভ্রমহানি ঘটতেই থাকবে।’
বার্তাবাজার/আর.আর