ঠাকুরগাঁওয়ে শিক্ষার্থীদের ধর্ষণ বিরোধী বিক্ষোভ ও মশাল মিছিল

সারাদেশে নারী-শিশু হত্যা, ধর্ষণ ও নির্যাতনের সাথে জড়িত অপরাধীদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবিতে বিক্ষোভ ও মশাল মিছিল করেছে ঠাকুরগাঁয়ের বিভিন্ন স্কুল-কলেজের শিক্ষার্থীরা।

শনিবার (১০ অক্টোবর) সন্ধ্যা ৭ টায় ঠাকুরগাঁও সরকারি বালক উচ্চ বিদ্যালয় বড়মাঠ থেকে এ বিক্ষোভ ও মশাল মিছিল বের করে ঠাকুরগাওয়ের সাধারণ শিক্ষার্থীরা। মশাল মিছিলটি ঠাকুরগাঁও শহরের বিভিন্ন প্রধান প্রধান সড়ক প্রদক্ষিণ করে একই স্থানে এসে শেষ হয়। মিছিলে শিক্ষার্থীরা ধর্ষকদের ফাঁসি চেয়ে নানান রকম স্লোগান দেয়।

মশাল মিছিল শেষে শিক্ষার্থীরা বলেন, এই দেশে একের পর এক নারী ধর্ষণের শিকার হচ্ছে, নির্যাতনের শিকার হচ্ছে। এবং হত্যার মতো বর্বর ঘটনা এদেশে ঘটেই চলেছে। আজ আমাদের মা-বোনদের মতো নারীরা পথেঘাটে-বাসে-ছাত্রাবাসে বিভিন্ন ভাবে ধর্ষণের শিকার হচ্ছে। আজ এই দেশে আমাদের মা-বোনেরা নিরাপদ নয়।

শিক্ষার্থীরা আরও বলেন, আমরা চাই এই ধর্ষকদের দ্রুত বিচার করা হোক। আমরা তাদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি চাই। আমরা তাদের ফাঁসি চাই।

হুঁশিয়ারি উচ্চারণ করে শিক্ষার্থীরা বলেন, আমরা এর আগে আরও দুদিন বিক্ষোভ ও মানববন্ধন কর্মসূচি পালন করেছি। ধর্ষণের ঘটনায় জড়িতদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি মৃত্যুদণ্ড না দেওয়া পর্যন্ত আমরা রাজপথ ছাড়ছিনা।

উল্লেখ্য, গত বুধবার ও বৃহস্পতিবার ধর্ষণসহ সারাদেশে নারী-শিশু হত্যা, ধর্ষণ ও নির্যাতনের সাথে জড়িত অপরাধীদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবিতে বিক্ষোভ ও মানববন্ধন কর্মসূচি পালন করে ঠাকুরগাঁওয়ের সাধারণ শিক্ষার্থীরা। পাশাপাশি বিভিন্ন অঙ্গ-সংগঠনও প্রতিবাদ ও মানববন্ধন কর্মসূচি পালন করেছে।

এদিকে, শনিবার (১০ অক্টোবর) দুপুরে শহরের প্রাণকেন্দ্র চৌরাস্তায় দেশব্যাপী নারী ধর্ষণ ও নির্যাতনের বিরুদ্ধে ঠাকুরগাঁওয়ে প্রতিবাদী অবস্থান ও সমাবেশ পালন করেছে সন্মিলিত সাংস্কৃতিক জোট ঠাকুরগাঁও জেলা শাখা।

ঘন্টাব্যাপি এই প্রতিবাদী সমাবেশে বিশিষ্ট সাংস্কৃতিক ব্যাক্তিত্ব প্রফেসর মনতোষ কুমার দে, প্রেস ক্লাব সভাপতি মনসুর আলি, নিশ্চিন্তপুর থিয়েটারের সভাপতি রাশেদুল আলম লিটন, সাধারন সম্পাদক নুরে আলম উজ্বল, শাপলা নাট্য গোষ্ঠির সভাপতি রুপকুমার গুহ কোড়ি, সাধারন সম্পাদক আলমগির হোসেন, গ্রীন থিয়েটারের সাধারন সম্পাদক মামুন, গণসংগীত মঞ্চের সভাপতি ও বিশিষ্ট সংগীত শিল্পী মোজাম্মেল হক বাবলু, তারুণ্য একাডেমির প্রীতি গাঙ্গুলী, বটমূল সাংস্কৃতিক সংগঠনের সাইফুল ইসলাম বাবু, নীল পলাশ একাডেমির সভাপতি আরিফ হোসেন, নৃত্যালয়ের পরিচালক রোহিত খান তুহিন, সন্মিলিত সাংস্কৃতিক জোটের ঠাকুরগাঁও জেলা শাখার সাধারন সম্পাদক পার্থ সারথী দাস সহ জেলার বিভিন্ন সাংস্কৃতিক সংগঠনের প্রতিনিধি, সংগীত, নৃত্য ও নাট্য শিল্পী ও কলাকুশলীরা অংশগ্রহণ করেন।

উক্ত সমাবেশে বক্তারা বলেন, ১৯৭১ এর মুক্তিযুদ্ধ চলাকালিন সময় পাকসেনা ও এদেশীয় দোসররা নারী ধর্ষণ ও নির্যাতন শুরু করে। দেশ স্বাধীনের পর থেকে ক্ষমতাসীন বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের ছত্রছায়ায় ও দলীয় ক্ষমতাকে ব্যাবহার করে এখনো ধর্ষণ ও নারী নির্যাতন চালিয়ে যাচ্ছে কিছু সুযোগ সন্ধানিরা। তাই এই ব্যাধি নির্মুলে সরকারকে প্রধান ভূমিকা পালন করতে হবে। এজন্য ধর্ষকরা যে দলেরই হোকনা কেন তাদের দ্রুত আইনের আওতায় এনে সর্বোচ্চ সাঁজা ফাঁসি সরকরি ভাবে এ আইন কার্যকর করতে হবে। যতদিন ধর্ষকের সাাঁজা ফাঁসি কার্যকর করা না হবে ততদিন পর্যন্ত সাংস্কৃতিক কর্মীরা রাজপথে থেকে প্রতিবাদ জানাবে এবং আরো কঠোর আন্দোলন গড়ে তুলে দাবী আদায় করবে।

বার্তাবাজার/এমআর

বার্তা বাজার .কম'র প্রকাশিত/প্রচারিত কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা যাবে না।
এই বিভাগের আরো খবর