নান্দাইলে যুবলীগ নেতার ডাকাতির পরিকল্পনার ফোনালাপ ফাঁস (অডিওসহ)
ডাকাতির একটি ঘটনার পরিকল্পনা নিয়ে নান্দাইলে এক যুবলীগ নেতার ফোনালাপ ফাঁস হওয়ার পর তা সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে (ফেসবুক) ভাইরাল হয়েছে। এ নিয়ে তোলপাড় শুরু হলে ঘটনার সাথে জড়িত আচারগাঁও ইউনিয়ন যুবলীগের সভাপতি আশরাফুল ইসলাম ঝন্টুকে সাময়িক বহিষ্কার করা হয়েছে। উপজেলা যুবলীগের সাধারণ সম্পাদক সাক্ষরিত একটি বিজ্ঞপ্তির মাধ্যমে বহিষ্কারের এ তথ্য ফেসবুকে পোস্ট করা হয়েছে।
বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, আচারগাঁও ইউনিয়ন শাখার যুবলীগের সভাপতি আশরাফুল ইসলাম ঝন্টুর বিরুদ্ধে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ‘আচারগাঁও ইউনিয়ন যুবলীগ’ নামক ফেসবুক আইডিতে সংগঠনের শৃংখলা বিরোধী কার্যকলাপের অডিও রেকডিং প্রকাশিত হয়েছে। উক্ত রেকডিং তদন্ত সাপেক্ষে প্রমাণিত হওয়ায় ময়মনসিংহ জেলা যুবলীগকে এবং স্থানীয় সংসদ সদস্যকে অবগত করে দলীয় শৃঙ্খলা ভঙ্গের দায়ে আশরাফুল ইসলাম ঝন্টুকে সভাপতির পদ থেকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে।
গত ২৭ সেপ্টেম্বর রাতে উপজেলার নান্দাইল রোড এলাকায় এক প্রবাসির বাড়িতে রাতের আধারে অস্ত্রের মুখে পরিবারের সদস্যদের জিম্মি করে টাকা ও স্বণালংকার লুট করে নিয়ে যায় একদল দুষ্কৃতিকারী। ফোনালাপের তথ্য থেকে ধারণা করা যায় ওই ঘটনাটি এই ফোনালাপের অংশ হতে পারে।
ময়মনসিংহের নান্দাইলের আচাঁরগাও ইউনিয়ন যুবলীগের সভাপতির সাথে সহযোগীর ডাকাতির পরিকল্পনা
ময়মনসিংহের নান্দাইলের আচাঁরগাও ইউনিয়ন যুবলীগের সভাপতির সাথে সহযোগীর ডাকাতির পরিকল্পনা
Gepostet von Barta Bazar am Samstag, 10. Oktober 2020
তবে এই ঘটনার সাথে এই ফোনালাপের কোন সম্পর্ক আছে কিনা জানতে চাইলে উপজেলা যুবলীগের সভাপতি আবু বক্কর সিদ্দিক বাহার বলেন, আমরা শুধু নিশ্চিত হয়েছি ফোনালাপটি ঝন্টুর।
একই কথা বলেছেন সাধারণ সম্পাদক মোজাম্মেল হক বাচ্চু। তিনি বলেন, ফেসবুকে ছড়িয়ে পড়া অডিও ফোনালাপকে কেন্দ্র করেই ঝন্টুর বিরুদ্ধে শাস্তিমূলক ওই ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে।
ঘটনার সত্যতা জানতে আশরাফুল ইসলাম ঝন্টুর সাথে একাধিকবার চেষ্টা করেও যোগাযোগ করা যায়নি।
এদিকে ৩ মিনিট ৩৩ সেকেন্ডের ওই অডিও ফোনালাপে আচারগাঁও ইউনিয়ন যুবলীগের সভাপতি আশরাফুল ইসলাম ঝন্টুকে তাঁর ভাতিজা পরিচয়ের এক যুবকের সঙ্গে একটি ডাকাতির পূর্ব প্রস্ততি সম্পর্কে কথা বলতে শোনা গেছে। পরে সেই ফোনালাপটি ফেসবুকে ছড়িয়ে পড়লে মুহুর্তেই সেটি ভাইরাল হয়ে যায়।
ফোনালাপটি হুবহু তুলে ধরা হলো-
ঝন্টু: হ্যাঁ
ভাতিজা: হে চাচা, কই আছুইন?
ঝন্টু: ইকটু দুরে।
ভাতিজা: চাচা, একটা মিশনে যাইতাম।
ঝন্টু: কইনো, কইনো, কইবে ত। খালি মিশনে যাইতাম।
ভাতিজা : নান্দাইল রোড
ঝন্টু: কি কাজ?
ভাতিজা : কাজ হইছে ঘর এ্যাটাক দেম, বাড়ি এ্যাটাক দেম।
ঝন্টু: আর কেডা?
ভাতিজা : লোক আছে, হেই দিকের। মুশুলীর তারপরে নান্দাইল রোডের লোক আছে ৮/১০ জন।
ঝন্টু: কের লাগ্গে, বাড়ি এ্যাটাকটা কের লাগ্গে?
ভাতিজা: এ্যাটাক বলতে মোবাইল-টোবাইল, স্বর্ন, টাকা-পয়সা যা আছে তার লাইগ্গা।
ঝন্টু: এরার কি এহাইরা বাড়ি?
ভাতিজা: হ এহাইরা বাড়ি।
ঝন্টু: হিন্দু বাড়ি না মুসুলমান?
ভাতিজা: না মুসলমান।
ঝন্টু: ছ্যাইরান আছে নাকি?
ভাতিজা : তা ত মনে হয় আছেই।
ঝন্টু: কয়ডা আমর্স আছে, কয়ডা অস্ত্র আছে তরার?
ভাতিজা : আমর্স নাই।
ঝন্টু: আমর্স ছাড়া তুই এ্যাটাক দিবে কি কইরা? গুলি ফুটানি লাগবো, গুলি করন লাগবো ……….।
ভাতিজা : আউয়াজ ফুডানি লাগতো না, বাড়ি ত এহাইরা।
ঝন্টু: আচ্ছা দেখ তরা ফ্রেন্ড সার্কেল যহন শক্তিশালী তহন বুজ্জে যা।
ভাতিজা : আচ্ছা আচ্ছা সমস্যা নাই ৮/১০ জন যায়াম। অহন আমি কি খই হুনেন, মাল-টাল আছে? জিনিস টিনিস লইয়া যাওয়ার মত হেইনো, অত বড় না। মিডিয়াম সাইজের।
ঝন্টু: এহন ত আমার সাথে আছে, আমি আরেক জাইগায়।
ভাতিজা : আছই কই? আউয়ন যাইবো?
ঝন্টু: আমি আছি ইকটু দুরে, বুঝস না।
ভাতিজা: অহত ত একটা লইছি। আপনের এইডা লইছি। চাপাতি লইছি। আর হেরারতে আছে কয়েকটা জিনিস।
ঝন্টু: আমি বুঝলাম না।
ভাতিজা: কইতাছি জিনিস লাগে। আপনের যে চাপাতিটা আছে হেইডা লইছি।
ঝন্টু: যা বেডা। মোবাইলে কি আলাপ আরাম্ভ করছছ। বুঝলাম না। আমি অহন রোডে। তুই এইডা আগে প্লানিং করবি। এহন কি আলাপ আরাম্ভ করছছ মোবাইলে। আমি বুঝতাম পারতাছি না। তর আইডিয়া নাই কিছু। মোবাইলে এইতা আলাপ করছ। তুই বেক্কল হইয়া গেছছ……………..।

বার্তা বাজার / ডি.এস