নোয়াখালীর বেগমগঞ্জসহ দেশের বিভিন্ন স্থানে ঘটে যাওয়া নারী নির্যাতন, ধর্ষণ ও নিপীড়নের প্রতিবাদে ও বিচারের দাবিতে টানা চতুর্থ দিনের মতো আন্দোলন করেছে বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয় (ববি) সাধারণ শিক্ষার্থীরা।
শুক্রবার সন্ধ্যা সাড়ে ছয়টায় বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রধান ফটকের সামনে মশাল মিছিল ও ধর্ষকের প্রতীকী কুশপুত্তলিকা প্রদাহ করেছে শিক্ষার্থীরা।
মশাল মিছিল শেষে শিক্ষার্থীরা বলেন, আজ ঘরে বাইরে কোথায়ও নারী নিরাপদ নয়।নারীর নিরাপত্তা নিশ্চিত না হওয়া পর্যন্ত আন্দোলন চালিয়ে যাওয়ার দৃঢ় প্রত্যয় ব্যক্ত করেন তাঁরা। শিক্ষার্থীরা বলেন, আজ ধর্ষকের কুশপুত্তলিকা প্রদাহের মাধ্যমে ধর্ষকের চূড়ান্ত অবমাননা করা হয়েছে এবং মশাল মিছিলের মাধ্যমে জনগণকে সম্পৃক্ত করা এবং সারাদেশে চলমান ধর্ষণ বিরোধী আন্দোনলের প্রতি সংহতি জানানো হয়েছে।
মৃত্তিকা ও পরিবেশ বিজ্ঞান বিভাগের শিক্ষার্থী মাহমুদুল হাসান তমাল ধর্ষণের বিরুদ্ধে তিনদফা দাবি তুলে ধরেন। তিনি বলেন, ধর্ষণে হামলাগুলোর দ্রুত বিচারকার্য সম্পন্ন করার জন্য একটি বিশেষ ট্রাইব্যুনাল গঠন করতে হবে যা ৯০ দিনের মধ্যে ধর্ষণের বিচারকার্য সম্পন্ন করবে। ধর্ষণের সাথে সরাসরি যুক্ত ধর্ষকের সর্বোচ্চ শাস্তুি মৃত্যুদণ্ড কার্যকর করতে হবে। এছাড়াও ধর্ষণে সহায়তাকারী, তদন্তে অনিয়মকারী, শালিসের মাধ্যমে ধর্ষণের ঘটনা ধামাচাপাকারিদের যাবতজীবন কারাদণ্ড দিতে হবে। ধর্ষণের শিকার নারীকে সমাজে হেয়প্রতিপন্নকারীকেও আইনের আওতায় আনতে হবে।
বিশ্ববিদ্যালয়ের সাথে সংশ্লিষ্ট নারী যৌন নির্যাতন বা ধর্ষণের শিকার হলে তার দায় বিশ্ববিদ্যালয়কে নিতে হবে, তাদেরকে যাবতীয় চিকিৎসা খরচ দিতে হবে এবং বিশ্ববিদ্যালয়ের সাথে সংশ্লিষ্ট কোন পুরুষের বিরুদ্ধে নারী নির্যাতন বা ধর্ষণের মতো জনঘ্য অভিযোগ উঠলে সাথে সাথে বহিস্কার করতে হবে এবং তদন্ত সাপেক্ষে চিরস্থায়ী বহিস্কার করতে হবে।
উল্লেখ্য, সারাদেশে চলমান নারী নির্যাতনের ঘটনার সঙ্গে জড়িত সকলের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবিতে গত মঙ্গলবার থেকে আন্দোলনে নেমেছে বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা। মঙ্গলবার বিকেলে মানববন্ধন ও বিক্ষোভ মিছিলের পর গত বুধবার সন্ধ্যায় মোমবাতি প্রজ্জলনের ও মৌন মিছিলের আয়োজন করেছিল তারা। তারই অংশ হিসেবে বৃহস্পতিবার ধর্ষকের প্রতীকী ফাঁসি কার্যকরের মত কর্মসূচি পালন করেছে শিক্ষার্থী।
বার্তাবাজার/এমআর