লক্ষ্মীপুরে প্রবাসী স্বামীকে দুই বছর আগে তালাক দিয়ে প্রতিবেশি ভাগ্নেকে বিয়ে করার দুই বছর পেরিয়ে গেলেও আগের স্বামীর ঘর ছাড়েননি বিউটি আক্তার নামের এক নারী। বিষয়টি গোপন রাখার পরেও আজ (শুক্রবার) মানুষের মুখে মুখে ছড়িয়ে গেছে। স্থানীয় লোকজনের সমালোচনার মুখে পালিয়ে গেছেন লক্ষ্মীপুর পৌর সদরের ১৫ নং ওয়ার্ডের করইতলা এলাকার ফরিদ হোসেন নামের ওই ভাগ্নে তথা স্বামী।
জানা যায়, ২০১৮ সালের জুলাই মাসের ৩০ তারিখ লক্ষ্মীপুর আদলতে নোটারী পাবলিকের মাধ্যমে প্রবাসি স্বামী নজির আহমেদকে তালাক দেয় বিউটি আক্তার। তখন নজির আহমেদ বাড়িতে থাকলেও বিষয়টি তার কাছে গোপন রাখা হয়। এর কিছুদিন পরে ২০ নভেম্বর আদালতের নোটারি পাবলিকের মাধ্যমে ১০ লাখ টাকা দেনমোহরে প্রতিবেশি ভাগ্নে ফরিদকে বিয়ে করে বিউটি। এই ঘটনাও গোপনা রাখা হয়।
বর্তমানে নজিরের বাবা-মা কেউ জীবিত না থাকায় ফরিদের সঙ্গে বিয়ের পরও নজিরের বসতঘরে থেকেই বিউটি তার সঙ্গে প্রতারণা করে আসছে। একই সঙ্গে নজিরের দেওয়া স্বর্ণালংকারসহ অন্তত ১৫ লাখ টাকা স্বামী ফরিদসহ বিউটি হাতিয়ে নেন বলে অভিযোগ ওঠেছে।
সম্প্রতি ফরিদের বাবা-মা তাকে বিয়ে করাতে পাত্রী দেখা শুরু করলে বিউটি তাদের বিয়ের কথা জানিয়ে দেয় ফরিদের পরিবারকে। বিষয়টি জানাজানি হলে গণমাধ্যমকর্মীদের কাছে বিয়ের ঘটনা স্বীকার করে বিউটি।
তিনি জানান, ফরিদ ও তার বোন রোকেয়া আমার সঙ্গে প্রতারণা করেছে। আমাকে অন্য কথা বলে তালাক ও কাবিননামায় স্বাক্ষর নিয়েছে। আমি তাকে স্ব-ইচ্ছায় বিয়ে করিনি। বিভিন্ন সময় আমাকে ফাঁদে ফেলে নজিরের দেওয়া টাকা ও স্বর্ণালংকার ফরিদ হাতিয়ে নিয়েছে।
এ বিষয়ে নাজির উদ্দিনের সাথে মুঠোফোনে যোগাযোগ করা হলে তিনি জানান, দুই বছর আগে তালাক দিয়ে আমার ঘরে থেকে বিদেশে কষ্টে অর্জিত লাখ লাখ টাকা নিয়ে বিউটি আমার সাথে প্রতারণা করেছে
এ ঘটনায় ফরিদের বক্তব্য জানতে চাইলে তাকে পাওয়া না গেলেও তার মা নুরজাহান বেগম জানান, ছেলের বিয়ের বিষয়ে কিছুই জানতেন না তিনি।
এ ব্যাপারে অতিরিক্ত জেলা পুলিশ সুপার রিয়াজুল কবির বলেন, ঘটনাটি শুনেছি। সামাজিক শৃঙ্খলা বজায় রাখতে ঘটনাস্থলে পুলিশ পাঠানো হচ্ছে। লিখিত অভিযোগ পেলে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
বার্তাবাজার/এসজে