সনাতন ধর্মাবলম্বীদের সবচেয়ে বড় ধর্মীয় উৎসব শারদীয় দুর্গাপূজা। যা শুরু হচ্ছে আগামী বৃহস্পতিবার (২২ অক্টোবর) থেকে ।
মহামারী করোনার কারণে এবার দুর্গাপূজার আনন্দ অনেকটা ম্লান হতে চলছে। প্রতিবছরের মতো এবার পূজার সেই পুরোনো সংস্কৃতি অনেকটা লুকিয়ে থাকবে অগোচরে। বাইরে ঘুরতে যাওয়া, পূজার মণ্ডপগুলোতে নানা ধরণের আয়োজন থাকছে না।এবারের শারদীয় উৎসবের সব ক্ষেত্রেই থাকছে স্বাস্থ্যবিধির কড়া নির্দেশ। ৮ অক্টোবর (বৃহস্পতিবার) কুড়িগ্রাম জেলা পুলিশের আয়োজনে পুলিশ সুপার কার্যালয়ের হলরুমে আসন্ন শারদীয় দূর্গোৎসব উপলক্ষে এক মতবিনিময় সভায় এসব জানানো হয়।
মতবিনিময় সভায় উপস্থিত ছিলেন জেলার সকল থানার দায়িত্বপ্রাপ্ত পুলিশ কর্মকর্তা, জেলার পুজা উদযাপন পরিষদ, হিন্দু বৌদ্ধ খিস্ট্রান ঐক্য পরিষদ এর নেতৃবন্দ এবং সকল পুজা কমিটির কর্তারা। মতবিনিময় সভায় উপস্থিত সকলে স্বাস্থ্যবিধি মানার বিষয়ে একমত হন।
এদিকে,বাংলাদেশ পুজো উদযাপন পরিষদের তথ্যমতে জানা যায়,এবারের শারদ উৎসবটি আর থাকছে না উৎসব হিসেবে ,এবারের উৎসবটি পুজোয় রুপ নিবে। অর্থ্যাৎ প্রতিবছরের মতো এবারের শারদ উৎসবে থাকছে না বাড়তি আয়োজন, বসবে না কোন বড় ধরনের মেলা, থাকবে না প্যান্ডেলের বাইরে সাজসজ্জার গেট ও আলোকসজ্জা ,পুষ্পাঞ্জলি হবে স্বল্প পরিসরে, থাকবে না সন্ধ্যার পর কোন সাংস্কৃতিক আয়োজন । এছাড়াও বাইরের দর্শনার্থীরা এবার পুজোর মন্ডপগুলোতেও প্রবেশাধিকারে থাকবে বাধা-নিষেধ ।
কুড়িগ্রাম সদর উপজেলা পূজা উদযাপন পরিষদের সভাপতি বার্তা বাজারকে বলেন, ‘করোনা ভাইরাসের কারণে এবারে স্বাস্থ্যবিধি মেনে পূজা করতে হবে। এ সর্ম্পকিত ২৬টি নির্দেশনা রয়েছে। আমাদের প্রত্যেকেই এ নিদের্শনা মেনে পূজা করতে হবে।’
বাংলাদেশ পুজো উদযাপন পরিষদ এর কুড়িগ্রাম জেলা শাখার সাধারণ সম্পাদক শ্রী রবি বোস জানান,” প্রতিবছর আমাদের উৎসব হয়, এবছর আমরা উৎসব করবো না,শুধু পুজোর আনুষ্ঠিনকতা আর রীতি-নীতির মধ্যে থাকবে এবারের শারদ উৎসব।” মহামারী করোনার প্রভাবের কারনে শারদ উৎসবটি পুজোর মধ্যে সীমাবদ্ধ থাকলেও কুড়িগ্রাম জেলায় এবার কমছে না পুজো প্যান্ডেলের সংখ্যা । যদিও পুজো উদযাপনের কর্তৃপক্ষ নিরুৎসাহিত করার চেস্টা করছেন অস্থায়ী পুজো প্যান্ডেল গুলোর কমিটিকে,তারপরও স্বাস্থ্যবিধি মেনে পুজো করতে রাজি মন্ডপ ও মন্দিরগুলোর কমিটিগুলো। কুড়িগ্রাম জেলায় এবার মোট পুজো হতে যাচ্ছে ৫০৮ টি যা গতবারে তুলনায় একই রয়েছে বলে জানান মি.বোস। ৫০৮ টি পুজো মন্ডপগুলো হলো,কুড়িগ্রাম সদর উপজেলায় ৫৫ টি,কুড়িগ্রাম পৌরসভার ভিতরে ১৬ টি, নাগেশ্বরী উপজেলায় ৮০ টি,ভুরুঙ্গামারী উপজেলায় ১৮ টি,ফুলবাড়ি উপজেলায় ৬৬ টি,রাজারহাট উপজেলায় ১১৯ টি,উলিপুর উপজেলায় ১১৪ টি,চিলমারী উপজেলায় ৩২ টি,রৌমারী উপজেলায় ৭ টি এবং রাজিবপুর উপজেলায় ১টি পুজো অনুষ্ঠিত হবে ।
কুড়িগ্রাম পুলিশ সুপার মোহাম্মদ মহিবুল ইসলাম খান বলেন, “করোনার এই সময় পুজো যাতে স্বাস্থ্যবিধি মেনে চলে সে বিষয়ে আমরা সার্বক্ষনিক নজরদারি রাখবো। এছাড়াও প্রতিবছরের মতো পূজা মণ্ডপগুলোতে সিসি ক্যামেরার আওতায় আনাসহ কঠোর নিরাপত্তা থাকবে। কোথাও কোনো বিশৃঙ্খলার ঘটনা ঘটতে দেয়া হবে না।’
সনাতনী পঞ্জিকা অনুযায়ী, গত ১৭ সেপ্টেম্বর, মহালয়ার দিন দেবী দূর্গা দোলায় (পালকি) করে পৃথিবীতে আগমন করেন। নিয়মনুযায়ী মহালয়ার এক সপ্তাহ পর সাধারণত অনুষ্ঠিত হয় দূর্গা পূজা । কিন্তু সনাতন পঞ্জিকামতে, এবছরের আশ্বিন মাস ‘মল মাস’ মানে অশুভ মাস। সে কারণে এবার আশ্বিনে দেবীর পূজা হবে না। পূজা হবে কার্তিক মাসে। তাই এবার দেবী দূর্গাকে পুজোর জন্য অপেক্ষা করতে হচ্ছে ১ মাস । ৫ দিনের এই দূর্গা পূজা আগামী ২২ অক্টোবর শুরু হয়ে ২৬ অক্টোবর সোমবার মহাদশমী বা বিজয়া দশমী তে প্রতিমা বির্সজনের মধ্যে দিয়ে শেষ হবে দুর্গোৎসবের আনুষ্ঠানিকতা।
বার্তা বাজার / ডি.এস