জামায়াত-শিবিরের সঙ্গে পরামর্শ করে সাক্ষী দিয়েছেন: আবরারের বাবাকে আসামী পক্ষের আইনজীবী

আজ (সোমবার) ঢাকার ট্রাইব্যুনাল-১-এর বিচারক আবু জাফর মোহাম্মদ কামরুজ্জামানের আদালতে বুয়েট ছাত্র আবরার ফাহাদ হত্যাকাণ্ডের বিচার কার্যক্রম শুরু হয়। দুপুর ১২টা থেকে এ মামলার প্রথম সাক্ষ্য গ্রহণ শুরু হয়। এ সময় আবরারের বাবা বিচারকের সামনের বাম পাশে দাঁড়ান। এরপর তার জবানবন্দি নেওয়া শুরু হয়।

জবাববন্দি শেষে বিকেল ৩টায় আবরারের বাবাকে জেরা শুরু করেন আসামিপক্ষের আইনজীবীরা। প্রথমে জেরা করেন আসামি বুয়েট ছাত্রলীগের সাবেক তথ্য ও গবেষণা সম্পাদক মো. অনিক সরকারের আইনজীবী মাহবুব আহম্মেদ।

নিম্নে তাদের কথোপকথন উল্লেখ করা হল-

অনিকের আইনজীবী মাহবুব আহম্মেদ : ‘যখন জামায়াত-শিবির সমর্থিত সরকার ছিল, তখন ছাত্রলীগের অনেক কর্মীকে জামায়াত-শিবির হল থেকে নির্যাতন করে বের করে দেয়। তা কি আপনি জানেন?’

আবরারের বাবা : ‘তা আমার জানা নেই।’

অনিকের আইনজীবী : ‘আপনি গত ২০ সেপ্টেম্বর আদালতে সাক্ষ্য দিতে এসেও কেন সাক্ষী দেননি?’

আবরারের বাবা : ‘আমি অসুস্থ ছিলাম।’

অনিকের আইনজীবী : ‘আপনি ওই দিন থেকে জামায়াত-শিবিরের সঙ্গে পরামর্শ করে মামলার এজাহার মুখস্থ করে আজ সাক্ষী দিয়েছেন।’

আবরারের বাবা : ‘এটা সত্য নয়।’

অনিকের আইনজীবী : ‘আপনার ছেলে আবরার ঘটনার দুই থেকে চার দিন আগে সরকারের বিরুদ্ধে ফেসবুকে কটূক্তি করেছেন, তা জানেন?’

আবরারের বাবা : ‘আমি জানি না।’

অনিকের আইনজীবী : ‘আপনার দাখিলকৃত এজাহার কি আপনি টাইপ করেছেন?’

আবরারের বাবা : ‘না আমি করিনি, থানা থেকে টাইপ করা হয়েছে।‘

অনিকের আইনজীবী : ‘আপনি এই মামলার এজাহার টাইপ করার সময় কি সঙ্গে ছিলেন?’

আবরারের বাবা : ‘জ্বি, আমি সঙ্গেই ছিলাম।’

অনিকের আইনজীবী : ‘আপনার এজাহার যে টাইপ করেছে তাকে আপনি চিনেন? তার নাম জানেন?’

আবরারের বাবা : ‘না আমি নাম জানি না।’

অনিকের আইনজীবী : ‘আপনি মামলার এজাহারে বলেছেন, কতিপয় ছেলে আপনার ছেলেকে ঢাকা মেডিকেলে নিয়ে গেছে, তাদের নাম বলতে পারবেন?’

আবরারের বাবা : ‘না, আমি নাম বলতে পারব না।’

অনিকের আইনজীবী : ‘আপনার ছেলে বর্তমান সরকার ভারতের তোষামোদি করে বলে ফেসবুকে বক্তব্য দিয়েছেন, তা কি জানেন?’

আবরারের বাবা: ‘না, আমি জানি না।’

অনিকের আইনজীবী : ‘আবরার কোনোদিন জামায়াত-শিবির করত?’

আবরারের বাবা : ‘না, আমার ছেলে জামায়াত-শিবির করত না।’

এরপর অনিকের পক্ষে জেরা সমাপ্ত করেন আইনজীবী মাহবুব আহম্মেদ। আজ অন্য আসামিদের পক্ষে জেরা শেষ না হওয়ায় বিচারক আগামীকাল পুনরায় জেরার জন্য দিন ধার্য করেছেন।

উল্লেখ্য, গত বছরের ৬ অক্টোবর রাতে বুয়েটের শেরেবাংলা হলের একটি কক্ষে বিশ্ববিদ্যালয় শাখা ছাত্রলীগের নেতাকর্মীরা আবরারকে পিটিয়ে হত্যা করেন। এ ঘটনায় ১৯ জনকে আসামি করে পরের দিন ৭ অক্টোবর চকবাজার থানায় একটি হত্যা মামলা করেন আবরারের বাবা।
সুত্র-এনটিভি।
বার্তাবাজার/এসজে

বার্তা বাজার .কম'র প্রকাশিত/প্রচারিত কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা যাবে না।
এই বিভাগের আরো খবর