নীলফামারীতে কলেজ ছাত্রী ও গৃহবধূর লাশ উদ্ধার

নীলফামারীর ডিমলায় পৃথক ঘটনায় এক কলেজ ছাত্রী ও দুই সন্তানের এক জননীসহ দুই নারীর রহস্যজনক লাশ উদ্ধার করেছে থানা পুলিশ। তবে এসব ঘটনার থানায় অপমৃত্যু মামলা দায়ের করা হয়েছে।

মঙ্গলবার (৬ অক্টোবর) লাশের ময়না তদন্তের জন্য জেলার মর্গে প্রেরন করা হয়েছে।

পুলিশ সুত্রে জানায়, সোমবার সন্ধ্যায় উপজেলার বালাপাড়া ইউনিয়নের রুপাহারার ডাঙ্গা পাড়া গ্রামের নিজ বাড়ীর শয়ন ঘরের তীরের সাথে ওড়না পেঁচানো রিমু আক্তার (১৭) নামের এক কলেজ ছাত্রীর ঝুলন্ত অবস্থায় দেখতে পায়। পরিবারের লোকজন ছাত্রীটিকে উদ্ধার করে ডিমলা সরকারি হাসপাতালে নিলে কর্তব্যরত চিকিৎসক ছাত্রীটিকে মৃত ঘোষণা করেন।

এ সময় পুলিশ ছাত্রীটির ব্যবহৃত মোবাইল ফোন ও দুটি চিঠি উদ্ধার করেন। ছাত্রীটি একই এলাকার দিনমুজুর মজিবুল ইসলাম ওরফে বোগার মেয়ে ও ডিমলা সরকারি মহিলা কলেজের মানবিক বিভাগের একাদশ শ্রেণীর ছাত্রী।

তবে এলাকাবাসীর অভিযোগ করে বলেন, ওই ছাত্রীটির সাথে ডিমলা হাসপাতাল মোড়ের হোটেল ব্যবসায়ী কাঁছের আলীর কলেজ পড়ুয়া ছেলে চাঁদের সাথে দীর্ঘদিন প্রেমের সম্পর্ক ছিল।

অপরদিকে একইদিনের বিকেলে ডিমলা সরকারি হাসপাতালে দুই সন্তানের জননী মুক্তা রানী রায় (২৮) নামের এক গৃহবধুর লাশ রেখে পালিয়েছে স্বামীর পরিবারের লোকেরা। ওই গৃহবধু উপজেলার ডিমলা সদর ইউনিয়নের ভাটিয়াপাডা গ্রামের মৃত রমেশ চন্দ্র রায়ের ছেলে মাছ ব্যবসায়ী সুমন চন্দ্র রায়ের স্ত্রী। নিহত মুক্তা রানী নীলফামারী সদরের কবরস্থান মোড় সংলগ্ন সওদাগর পাড়ার নরেশ চন্দ্র রায়ের কন্যা। পুলিশ হাসপাতালে ময়না তদন্তের জন্য রাতে লাশ থানায় নিয়ে আসে।

ওই গৃহবধুর পিতার পরিবার অভিযোগ করে বলেন, প্রায় ১০ বছর আগে মুক্তার সাথে সুমনের পারিবারিক ভাবে বিবাহ হয়। ঘটনার দিন মুক্তাকে তার স্বামী ও তার স্বামীর পরিবারের লোকেরা অমানবিক নির্যাতনের এক পর্যায়ে তার অবস্থা বেগতিক দেখে তাকে রশিতে ঝুলিয়ে রাখে। নিহত মুক্তার দেবর সুধিরসহ কয়েকজন তাকে ডিমলা সরকারি হাসপাতালে আনলে সেখানকার কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করায় লাশ হাসপাতালে রেখে সকলে পালিয়ে যায়। কলেজ ছাত্রীর ঘটনাস্থল ও গৃহবধুর লাশের ঘটনাস্থল (হাসপাতাল)

পরিদর্শন করেছেন সিনিয়র সহকারী পুলিশ সুপার (ডোমার-ডিমলা সার্কেল) জয়ব্রত পাল, ডিমলা থানার ওসি সিরাজুল ইসলাম। মঙ্গলবার লাশের ময়না তদন্তের জন্য জেলার মর্গে প্রেরন করা হয়েছে।

ডিমলা থানার ওসি সিরাজুল ইসলাম বলেন, পৃথক দুটি লাশ উদ্ধারের ঘটনায় দুটি অপমৃত্যু মামলা হয়েছে।

বার্তাবাজার/অমি

বার্তা বাজার .কম'র প্রকাশিত/প্রচারিত কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা যাবে না।
এই বিভাগের আরো খবর