কুড়িগ্রামের রৌমারী উপজেলায় গত কয়েকদিনের ভারি বর্ষণ ও পাহাড়ি ঢলের কারণে ৪র্থ দফায় বন্যার কারনে গরু, মহিষ চড়ানো ভূমি বিস্তীর্ণ মাঠ দীর্ঘদিন জলাবদ্ধ হয়ে পড়েছে।এতে সংরক্ষিত খড় বন্যার পানিতে নষ্ট হওয়ায় গো-খাদ্যের তীব্র সংকট সৃষ্টি হয়েছে বন্যাকবলিত এই উপজেলা শহরটিতে।
বন্যায় ক্ষতিগ্রস্ত উপজেলার বেশ কয়েকটি এলাকার গবাদী পশুকে মাঠে ঘাস খাওয়াতে না পেরে ও সংরক্ষিত থাকা খড়গুলো নষ্ট হওয়াতে দিশেহারা হয়ে পড়েছেন খামারীরা। এদিকে ৪র্থ দফার বন্যার সুযোগে বাজারে খড়ের দাম ব্যাপক বৃদ্ধি পেয়েছে।
রৌমারী উপজেলার চর গয়টাপাড়ার গ্রামের খামারী ইসলাম উদ্দিন, জন্তিরকান্দা গ্রামের কৃষক আব্দুল বাতেন, বাগুয়ার চর গ্রামের ফয়সাল মিয়া জানান, “গরুরে খাওয়ানের জন্য অনেক খেড় শুখাইয়া রাখ ছিলাম। কিন্তু দফায় দফায় বানের পানি আইসা খেড়ের পালা তলাইয়া যায়। মেলা দিন ধইরা এ পানি থাকায় বেশির ভাগ খেড় পঁইচা যায়।
ভাবছিলাম আমন ধান কাইডা খেড় বুজাই কইড়া রাখমু। অহন আর এডাও হইলো না। আবার বানের পানি আইয়া সেই আমন ধানও নষ্ট কইরা দিলো। এইদিহে বানের পানির সুযোগে বাজারে খেড় ও ভুসির দামও বাইরা গ্যাছে। বেশি দামে খেড় ও ভুসি কিইনা খাওয়ানো আমগো পক্ষে সম্ভব না।
এবার মনে হইতেছে গরু, মহিষ, ছাগল পালনে লাভ তো দুরের কথা লোকসানি বেশি হইবো।তাই সরকারের পক্ষ থ্যাইকা যদি গো-খাদ্যের যোগানে সহযোগিতা করতেন তাহলে আমাদের গরু, মহিষ ও ছাগল পালন করতে একটু সুবিধা হইতো।”
রৌমারী উপজেলা প্রাণী সম্পদ কর্মকর্তা ডা.এপিএম হাবিবুর রহমান বলেন, “দফায় দফায় বন্যা হওয়ায় কৃষকের ব্যাপক হারে ক্ষতি হয়েছে। বন্যার পানিতে উপজেলার সকল নদ-নদীগুলো ভরে গেছে। এখনও বেশিরভাগ নিম্নাঞ্চলে পানি রয়েছে। যে কারনে গো-খাদ্যের সংকট দেখা দিয়েছে।”
এব্যাপারে রৌমারী উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা আজিজুর রহমান বলেন,” এবারের বন্যায় গো-খাদ্যের জন্য ১ লাখ ৫০ হাজার টাকা বরাদ্দ পেয়েছি। যা দিয়ে ৪৫০ প্যাকেট গো-খাদ্য কিনা হয়েছে। এর মধ্যে ২৫ প্যাকেট বিতরণ করা হয়েছে। প্রতি প্যাকেটে ৫ কেজি ভুসি, আড়াই কেজি খৈল রয়েছে।”
বার্তাবাজার/কে.জে.পি