ময়মনসিংহের ধোবাউড়া উপজেলা বাঘবেড় ইউনিয়ন দক্ষিণ ডোমঘাটা গ্রামের মোঃ কছিম উদ্দিন ওরফে ব্যাঙ্গা চৌকিদার এখন পাড়া মহল্লায় ঘুরে ঘুরে ভিক্ষা করে সংসার চলে তার।
জানা গেছে, ব্যাঙ্গা চৌকিদার নামে পরিচিত এই ব্যক্তি ৭ শ’ থেকে ৩ হাজার টাকা বেতনে বাঘবেড় ইউনিয়ন পরিষদে গ্রাম পুলিশের চাকরি করে ডাল ভাত খেয়ে কোনমতে সংসার চালাতেন। তার দুই মেয়েকে অন্যত্র বিয়ে দেন ও এক ছেলে বিয়ে করে ঢাকা কোথায় থাকেন তার কোন হদিস নেই। প্রায় ২৫ বছর তিনি নিষ্ঠা ও সততার সাথে কাজ করেছেন। অনেক সময় মুন্সিরহাট বাজারের পাহারাও দিতেন তিনি। ২০১৫ সালে বাঘবেড় ইউনিয়ন পরিষদ থেকে হঠাৎ জানতে পারে তার গ্রাম পুলিশের চাকরি শেষ হয়েছে তিনি আর বেতন পাবেন না। চাকরি শেষ হওয়ার কথা শুনে তার মাথায় যেন আকাশ ভেঙে পড়ে। বুকভরা কষ্ট নিয়ে বাড়িতে বেকার সময়টুকু কাটাতে ২ টি গবাদি পশু ছিলো। তা বিক্রি করে সহধর্মিনী খাতুজান বিবির (৫৫) চিকিৎসার পেছনে শেষ হয়ে যায়। সহায় সম্বল বলতে বাড়ির ভিটে ৭ শতাংশ জায়গা রয়েছে।
থাকার মতো মাটির দেয়ালে তৈরি বসত ঘরটিও ভেঙে এখন পরিত্যাক্ত অবস্থায় পড়ে রয়েছে। বর্তমানে তিনি প্রতিবেশি আবুল কাশেমের বারান্দায় স্ত্রীকে নিয়ে বসবাস করছেন। স্ত্রীসহ তারা দুজনই হাপানী রোগী। দৈনিক ৮০ থেকে ১০০ টাকার ঔষধ ক্রয় করতে হয় তার। ১০ টাকা কেজি যে চাল পায় তা বিক্রি করেও তার ঔষধের টাকা হয় না।
এলাকাবাসী জানান, প্রতিদিন মানুষের কাছ থেকে চেয়ে চেয়ে খেতে হচ্ছে। গ্রামের মানুষের সাহায্যে চলছে অসহায় ব্যাঙ্গা চৌকিদারের পরিবার।
ইউপি সদস্য আবু সাইদ জানান, উনি আমার ওয়ার্ডের বাসিন্দা, আমি নিজেও তাকে সাহায্য-সহযোগিতা করেছি।
এ ব্যাপারে বাঘবেড় ইউপি চেয়ারম্যান ফরহাদ রব্বানী সুমন বলেন, আমি সাধ্যমত চেষ্টা করছি ও সাহায্য সহযোগিতা করছি।
উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা রাফিকুজ্জামানের কাছে গ্রাম পুলিশ কছিম উদ্দিনের মানবেতর জীবন যাপনের বিষয়টি জানালে তিনি বলেন, উনি ১০ টাকা কেজি চাল পাচ্ছে। আশ্রয়ন প্রকল্পের আওতায় ঘর আসলে তার জন্য একটি ঘরের ব্যাবস্থা করা যেতে পারে। হয়তো তিনি ভবিষ্যতে ঘর পাবেন। বর্তমানে ঐ গ্রাম পুলিশের খাদ্য ও চিকিৎসা জরুরী প্রয়োজন।
এমত অবস্থায় যদি কোন হৃদয়বান ব্যাক্তি অসহায় কছিম উদ্দিন ওরফে ব্যাঙ্গা চৌকিদারের পাশে দাড়ান তিনি ও এলাকাবাসী কৃতজ্ঞ থাকবেন বলে জানিয়েছেন।
বার্তা বাজার / ডি.এস