সনাতন ধর্মাবলম্বীদের বৃহত্তর ধর্মীয় উৎসব শারদীয় দুর্গাপূজা পঞ্জিকা অনুযায়ী আগামী ২২ অক্টোবর মহাষষ্ঠী তিথিতে বোধনের মধ্যদিয়ে শুরু হবে।
এবার করোনা মহামারিতে ভক্তদের মধ্যে উৎসবের আমেজে ভাটা পড়েছে। সরকারী ২৬ দফা নির্দেশনা মেনে হবে পূজার আয়োজন। স্বাস্থ্যবিধি মানতে গিয়ে জমকালো অনুষ্ঠানে বিরত থাকতে হচ্ছে আয়োজকদের। সীমিত পরিসরেই এবার দেবী বন্দনা করবেন ভক্তরা।
যশোর জেলায় এবছর ৬২০টি মন্ডপে দুর্গাপূজা অনুষ্ঠিত হবে। গত বছরের পূজা মন্ডপের সংখ্যা কমেছে প্রায় অর্ধশত। ব্যবসা বাণিজ্যে মন্দা, অসুস্থতা, অতিরিক্ত স্বাস্থ্য সর্তকতা, শ্রমিক সংকট ও সার্বিক নেতিবাচক পরিস্থিতির জন্যে সৃষ্ট সংকটের কারণে অন্যবারের তুলনায় উৎসবে যেমন ভাটা পড়েছে তেমিন প্রতিমা তৈরির কারিগররাও আর্থিক সংকটে পড়েছেন।
জানা যায়, স্বাস্থ্য সতর্কতার ফলে জনসমাগমে নিষেধাজ্ঞা থাকায় রাষ্ট্রীয় অনেক অনুষ্ঠান বাতিল হয়েছে চলতি বছরে। মুসলিমদের ধর্মীয় প্রধান উৎসব দুই ঈদ পালিত হয়েছে সীমিত পরিসরে। ফলে এবার দুর্গাপূজার আয়োজন নিয়েও একই পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে। তবে শেষ পর্যন্ত স্বাস্থ্যবিধি অনুযায়ী পূজা আয়োজনের সিদ্ধান্ত হয়েছে।
গত ১৭ সেপ্টেম্বর মহালয়া হয়েছে। পঞ্জিকা অনুযায়ী ২২ অক্টোবর মহাষষ্ঠী তিথিতে হবে বোধন, দেবীর ঘুম ভাঙানোর বন্দনা পূজা, পরের দিন শুক্রবার সপ্তমী পূজার মাধ্যমে শুরু হবে দুর্গোৎসবের আচার অনুষ্ঠান। ২৬ অক্টোবর সোমবার মহাদশমীতে বিসর্জনে শেষ হবে দুর্গোৎসবের আনুষ্ঠানিকতা।
যশোরের প্রবীণ ভাস্কর জয়দেব পাল বলেন, এবার প্রতীমা তৈরির অর্ডার কম পেয়েছি। এরমধ্যে অনেকের অর্ডার শেষ পর্যায়ে পেয়েছি। এজন্য কিছু কিছু অর্ডার বাতিল করতে বাধ্য হয়েছি। গত বছরের তুলনায় প্রতীমা তৈরির পারিশ্রমিকও কমেছে। সব মিলিয়ে এবার মন্দা যাচ্ছে।
কেশবপুরের মৃৎশিল্পী সুধাংশু সরকার বলেন, অর্ডার কম হওয়াতে একটু সমস্যা হচ্ছে। তিনি বলেন, এ বছর অন্য পূজা না হওয়াতে আর্থিকভাবে অসুবিধায় পড়েছিলাম,সেটা থেকে বাঁচলাম।তবে প্রতিমা তৈরির অধিকাংশ উপকরণের দাম বাড়তির দিকে। এজন্য একটু সমস্যা তৈরি হয়েছে।
ঝিকরগাছার কাটাখাল এলাকার চিরঞ্জিত রয় রিপন বলেন, পারিবারিকভাবে প্রতিবার পূজার আয়োজন করি। করোনা সংকটে এবার সেই আয়োজন থাকছে না। এমন পরিস্থিতিতে কখনো পড়িনি।
যশোর পূজা উদযাপন পরিষদের সাধারণ সম্পাদক যোগেশ দত্ত বলেন, বাজারে ব্যবসায় মন্দাভাব হওয়ায় ডোনাররা আগের মতা অর্থ সহযোগিতা করতে পারছেন না। এজন্য প্রত্যকটি পূজা কমিটি তাদের খরচ কমিয়ে ফেলেছে। মন্ডপের সংখ্যাও কমেছে প্রায় অর্ধশত। এবার ৬২০টি মন্ডপে পূজা উদযাপন হবে।
তিনি আরো বলেন, মহামারির কারণে আগের বারের মতো আলোকসজ্জা কিংবা অতিথি অ্যাপায়নে খরচ করা যাচ্ছে না। পাশাপাশি জনসমাগম নিয়ন্ত্রণের জন্য সরকারি ও কেন্দ্রীয় কমিটির নির্দেশনা মেনে পূজা উদযাপিত হবে। সীমিত পরিসরে পূজার আনুষ্ঠানিকতা হবে।
বার্তা বাজার / ডি.এস