সাভার পৌরসভার ভিতরে সবচেয়ে বড় ওয়ার্ড ১নং ওয়ার্ড। সেই রেডিও কলোনি থেকে শুরু করে বেদে পল্লী, বক্তারপুর, জামসিংসহ ভাটপাড়া সোসাইটি এবং বাড্ডা ভাটপাড়া ও নয়াবাড়ি- এই সমগ্র এলাকা ১নং ওয়ার্ডের আওতাধীন। তবে এই সমগ্র এলাকার অবকাঠামোগত, সামাজিক এবং রাজনৈতিক প্রেক্ষাপট বিচারে কতটুকু উন্নয়ন সাধিত হয়েছে, সে ব্যাপারে বর্তমান ওয়ার্ড কমিশনারসহ আসন্ন পৌরসভা নির্বাচনে ওয়ার্ড কমিশনার পদের সম্ভাব্য প্রার্থীদের সাথে কথা বলে সামগ্রিক বিষয়টা সম্পর্কে জানা গেছে।
এ পর্যন্ত সাভার পৌরসভার ১নং ওয়ার্ডে কতটুকু উন্নয়ন সাধিত হয়েছে? এব্যাপারে আসন্ন সাভার পৌর আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক ও সম্ভাব্য কমিশনার প্রার্থী জসীম উদ্দিন জানান, সাভার পৌরসভার ভিতরে মোট ৯টি ওয়ার্ড, এর ভিতরে সবচেয়ে বড় ওয়ার্ড ১নং। এখানের রাস্তাঘাটের বেহাল দশা এবং ড্রেনেজ ব্যবস্থাও খুবই খারাপ।
এব্যাপারে সাভার পৌরসভা আওয়ামী লীগের কার্যনির্বাহী কমিটির সদস্য ও সম্ভাব্য কমিশনার প্রার্থী রমজান আহম্মেদ জানান, এত বড় ওয়ার্ড অনুযায়ী রাস্তাঘাটের উন্নয়ন যতটুকু হবার কথা ছিলো সেভাবে হয়নি। তবে সাভার পৌর ১নং ওয়ার্ড আওয়ামী লীগের সভাপতি এরশাদুর রহমান সরাসরি জানান এই ওয়ার্ডে রাস্তাঘাটের করুন অবস্থা। যেমন নয়াবাড়ি থেকে জামসিং পর্যন্ত রাস্তার কথা ধরুন, চরম খারাপ অবস্থা। এব্যাপারে ১নং ওয়ার্ডের পরপর দুইবারের নির্বাচিত বর্তমান কমিশনার মিনহাজ উদ্দিন মোল্লা জানান, এই ওয়ার্ডের রাস্তাঘাট ভালো অবস্থায়ই আছে। তবে দু’একটি জায়গায় রাস্তার কাজ করোনার কারণে শুরু করেও শেষ করা সম্ভব হয়নি। তবে খুব দ্রুত কাজ শেষ হবে।
আগামী পৌরসভা নির্বাচনে বিজয়ী হলে এই ওয়ার্ডের রাস্তাঘাট সহ আর্থ-সামাজিক সমস্যার উন্নয়নকল্পে তাদের ভূমিকা কি হবে এবিষয়ে জসীম উদ্দিন জানান, আগামী পৌরসভা নির্বাচনে জনগন তাকে নির্বাচিত করলে সাভার উপজেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক মঞ্জুরুল আলম রাজীবসহ অন্যান্য নেতৃবৃন্দের সাথে সমন্বয় করে আমি এলাকার উন্নয়ন করে যাবো। এবিষয়ে রমজান আহম্মেদ জানান তিনি নির্বাচিত হতে পারলে যেসব এলাকার রাস্তাঘাট ভাঙ্গাচুরা সেসব এলাকার রাস্তাঘাটের উন্নয়ন করবো। একটা মাষ্টারপ্ল্যান করে পৌরসভার ১নং ওয়ার্ডের ক্ষতিগ্রস্ত রাস্তাঘাটসহ ড্রেনেজ সিস্টেমেরও উন্নয়ন করবেন বলে জানান এরশাদুর রহমান। আর এব্যাপারে বর্তমান কমিশনার মিনহাজ উদ্দিন মোল্লা বলেন, আমাদের অধিকাংশ রাস্তাঘাট ভালো আছে, এছাড়া আমাদের চলমান কাজগুলো খুব শীগ্রই শেষ করা হবে।
সাভারে মাদক ও সন্ত্রাস বিশেষ করে কিশোর গ্যাং এর সন্ত্রাসী কার্যকলাপ প্রতিরোধে বর্তমান কমিশনারসহ সম্ভাব্য বাকী তিনজন প্রার্থীও ইতিবাচক ভূমিকা রাখবেন বলে জানান। অভিভাবক, স্থানীয় জনপ্রতিনিধি এবং প্রশাসনকে সাথে নিয়ে এই কিশোর গ্যাং এবং তাদের সন্ত্রাসী কর্মকান্ড নির্মূলসহ মাদকের বিরুদ্ধে কঠোর অবস্থানে যাবেন বললেন জসীম উদ্দিন। রমজান আহম্মেদ এব্যাপারে জিরো-টলারেন্স নীতিতে কাজ করবেন বলে জানান। এরশাদুর রহমান বলেন, কিশোর গ্যাং এবং মাদক এর মূলে রয়েছে বেকারত্ব। বিভিন্ন অর্থনৈতিক কর্মকান্ডে কর্মসংস্থানের ব্যবস্থা করে এদেরকে এইসব সন্ত্রাসী কর্মকান্ড থেকে ফিরিয়ে আনার ব্যবস্থা করবেন বলেও জানান তিনি। এব্যাপারে পৌরসভার ১নং ওয়ার্ডের বর্তমান কমিশনার মিনহাজ উদ্দিন মোল্লা জানান, মাদক এবং সন্ত্রাসের বিরুদ্ধে তিনি অনেক আগে থেকেই যুদ্ধ ঘোষণা করেছেন। এপ্রসঙ্গে তিনি জানান, প্রশাসনকে সাথে নিয়ে ২৫ বছর ধরে চলা মদের আখড়া তিনি বন্ধ করিয়েছেন। আগামীতেও যেকোনো ধরণের মাদক ব্যবসা এই ওয়ার্ডে চলতে দেওয়া হবে না।
তবে সচেতন ১নং ওয়ার্ডবাসীর দাবী, নির্বাচনে যে-ই বিজয়ী হোক, তারা যেন একটি আদর্শ ওয়ার্ড হিসেবে ১নং ওয়ার্ডকে গড়ে তোলেন।
বার্তা বাজার / ডি.এস