ঢাকার কেরানীগঞ্জে পরকীয়ার জেরে মামুন (৩৬) নামে এক ব্যক্তিকে আত্মহত্যার প্ররোচনা দেয়ার অভিযোগ উঠেছে স্ত্রী পারভিন বেগম (৩০) এর বিরুদ্ধে। নিহত মামুন তিন সন্তানের জনক। তিনি ঢাকার চকবাজারে একটি প্লাষ্টিক কারখানায় চাকরি করতেন।
আজ শনিবার কেরানীগঞ্জ মডেল থানা পুলিশ নিহতের লাশ উদ্ধার করে ময়না তদন্তের জন্য স্যার সলিমুল্লাহ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের মর্গে প্রেরণ করেন এবং এ ঘটনায় নিহতের স্ত্রী পারভীন বেগম সহ তার বড় বোন ও বোন জামাই হাফেজ মিয়াকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য আটক করেছেন। এর আগে গতকাল শুক্রবার মামুন আত্মহত্যা করে।
নিহতের ভাগ্নে মোঃ কামাল মিয়া জানান, নিহত মামুন চকবাজার ইসলামবাগ এলাকার মনা হাজির গলির ৭০/২৫ নং নিজস্ব বাসায় বসবাস করতেন। শুক্রবার রাতে তার স্ত্রীর বড় বোনের বাড়িতে তাকে দাওয়াত দিয়ে নিয়ে আসে। নিহতের স্ত্রী পারভীন মামুনের ভাগ্নিকে জানান তার মামা (মামুন) রাতে গলায় ফাঁস দিয়ে আত্মহত্যা করেছে। খবর পেয়ে ভোরে সে বাড়িতে গিয়ে দেখতে পাই মামার মরদেহ মাটিতে পড়ে আছে। পরে পুলিশকে খবর দেয়। কামাল মিয়া দাবী করেন, তার মামাকে পরিকল্পিতভাবে হত্যা করা হয়েছে।
এদিকে নিহত মামুনের বাবা আব্দুল রাজ্জাক জানান, মামুন তার বোনের বাড়িতে বেড়াতে যাওয়ার কথা বলে বের হয়। মামুন বোনের বাসায় না গিয়ে স্ত্রীর ফোন পেয়ে তার বড় বোনের বাসায় যায়। রাতে মামুনের ভাগ্নিকে স্ত্রী পারভীন জানায়, তার মামা গলায় ফাঁস দিয়ে আত্মহত্যা করেছে।
তিনি আরো বলেন, মামুনের সাথে পুত্রবধু পারভীন ও তার বড় বোনের সাথে অনেকদিন যাবত বিবাদ ছিল। কিন্তু কি কারনে এ বিবাদ তা কখনো আমার ছেলে বলেনি। আমার ছেলে স্ত্রীর পরকীয়ার বিষয়টি জানার কারনে আমার ছেলেকে হত্যা করেছে। তাই আমি আমার ছেলের হত্যাকারীদের সঠিক বিচার ও ফাঁসি দাবী জানান।
এব্যাপারে কেরানীগঞ্জ মডেল থানার অফিসার ইনচার্জ কাজী মাইনুল ইসলাম জানান, ঘটনাটি যেহেতু রহস্যজনক। তাই এ বিষয়ে যথাযথ তদন্ত সাপেক্ষে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেয়া হবে। এ ঘটনায় নিহতের বাবা আব্দূল রাজ্জাক মিয়া বাদী হয়ে মামলা করেছেন।
বার্তা বাজার / ডি.এস