আজ শুক্রবার দুপুর ২:৪২, ২১শে জুলাই, ২০১৭ ইং, ৬ই শ্রাবণ, ১৪২৪ বঙ্গাব্দ, ২৬শে শাওয়াল, ১৪৩৮ হিজরী

নাসির থাকলে বাংলাদেশ আরও এগিয়ে থাকত : খালেদ মাসুদ পাইলট

নিউজ ডেস্ক | বার্তা বাজার .কম
আপডেট : মে ৩১, ২০১৭ , ৬:২৯ অপরাহ্ণ
ক্যাটাগরি : খেলাধুলা
পোস্টটি শেয়ার করুন

চ্যাম্পিয়ন্স ট্রফিতে কেমন করবে বাংলাদেশ? মাশরাফি বাহিনীর সম্ভাবনাই বা কতটুকু? গ্রুপ না কন্ডিশন, কোনটা বেশি কঠিন? ইংল্যান্ডের বদলে যাওয়া আবহাওয়া নাকি স্বাগতিক ইংল্যান্ড, টাফ প্রতিপক্ষ অস্ট্রেলিয়া নাকি নিউজিল্যান্ড- কোনটা বেশি চিন্তার কারণ?

জাতীয় দলের সাবেক অধিনায়ক খালেদ মাসুদ পাইলট ইংলিশ কন্ডিশন কিংবা উইকেট নিয়ে ততটা চিন্তিত নন।  তার ধারণা, গ্রুপিংটাই বড় বাধা বাংলাদেশের সামনে।  জাগো নিউজের সঙ্গে আলাপে খালেদ মাসুদ পাইলট বলেন, ‘আমরা আসলে পড়ে

গেছি ডেথ গ্রুপে।  খুব কঠিন গ্রুপ।  আমি বাংলাদেশের গ্রুপকে কঠিন বলছি একটি বিশেষ কারণে।  যে দেশে খেলা হচ্ছে সেই ইংলিশ কন্ডিশনের সঙ্গে গ্রুপের অপর তিন প্রতিদ্বন্দ্বী ইংল্যান্ড, অস্ট্রেলিয়া ও নিউজিল্যান্ডের ক্রিকেটাররা প্রায় একই উইকেটে খেলে ছোট থেকে বড় হন।  তাদের কাছে ইংলিশ কন্ডিশনটা অনেক পরিচিত।  তারা এমন পরিবেশে খেলেও অভ্যস্ত।  সে আলোকেই বলছি, কন্ডিশনের জন্যই গ্রুপের বাকি তিন দল একটু বেশি শক্তিশালী। ’

তবে কি বাংলাদেশের কোনই সম্ভাবনা নেই? বাংলাদেশ কি ইংল্যান্ডের মাটিতে কিছুই করতে পারবে না? খালেদ মাসুদ পাইলট অবশ্য তাও মনে করেন না।  তার অনুভব, বাংলাদেশের ভালো করার সুযোগ ও সম্ভাবনা দুই-ই আছে, ‘দল হিসেবে আগের চেয়ে বাংলাদেশ এখন অনেক ভালো।  বড় বড় দলকে প্রায় নিয়মিতই হারাচ্ছে।  আর কন্ডিশনের যে অনভ্যস্ততা ছিল, ইংল্যান্ডে ১০-১২ দিনের কন্ডিশনিং ক্যাম্প করে এবং আয়ারল্যান্ডে তিন জাতি টুর্নামেন্ট খেলে সে ঘাটতি অনেকটাই পুষিয়ে নিয়েছে।  মনে হয় কন্ডিশনের সঙ্গে মানিয়ে নিতে পেরেছে।  আয়ারল্যান্ডের উইকেট বরং তুলনামূলক কঠিন ছিল।  চ্যাম্পিয়ন্স ট্রফির পিচ তত কঠিন হবে না।  স্পোর্টিং হবে।  কাজেই সে অর্থে চিন্তার কিছু নেই। ’

খালেদ মাসুদ পাইলটের ধারণা, ‘চ্যাম্পিয়ন্স ট্রফিতে বাংলাদেশ খেলবে কোনরকম চাপ ছাড়াই।  আমাদের হারানোর কিছু নেই।  বরং অনুপ্রাণিত হওয়ার অনেক উপাদান আছে।  আমরা আয়ারল্যান্ডে কঠিন কন্ডিশন পার করে এসেছি।  আমাদের হারানোর কিছু নেই।  আমরা এখন প্রায়ই বড় দলগুলোকে হারাচ্ছি।  এটাও অনুপ্রেরণা।  নিকট অতীত ও সাম্প্রতিক সময়ে বড় দলগুলোকে হারানো বরং প্রতিপক্ষের জন্য বাড়তি চাপের। ’

টিম বাংলাদেশের গঠনশৈলী নিয়ে টিম ম্যানেজমেন্টের সঙ্গে বড় ধরনের মতভেদ না থাকলেও খালেদ মাসুদ পাইলটের দুটি প্রেসক্রিপশন আছে।  একটি হলো তাসকিনের বদলে রুবেলকে খেলানো।

প্রিমিয়ার লিগে প্রাইম ব্যাংক কোচের মত, বাংলাদেশের বোলিং ডিপার্টমেন্টটা তিন পেসারে সাজানো হলে ভালো হয়।  আর সেখানে অধিনায়ক মাশরাফি আর বাঁ-হাতি কাটার মাস্টার মোস্তাফিজের সঙ্গে রুবেল হোসেন থাকলে ভালো হবে।  যদিও বাংলাদেশ কোচের প্রথম পছন্দ তাসকিন আহমেদ; কিন্তু পাইলট মনে করেন মাশরাফি-মোস্তাফিজের সঙ্গে রুবেলের কম্বিনেশনই হতে পারে সেরা।  তিন পেসারের সঙ্গে সাকিবের ১০ ওভার পুরো ধরে খালেদ মাসুদ একটা অন্যরকম ফর্মুলা অনুসরণ করতে চান।  সেই ফর্মুলায় মেহেদী হাসান মিরাজের বদলে নাসিরের অন্তর্ভুক্তির পক্ষে খালেদ মাসুদ পাইলট।

তার ফর্মুলাটা এমন- তিন পেসার আর সাকিব মিলে ৩৫ থেকে ৪০ ওভার বল করবেন।  আর বাকি ১০ ও ১৫ ওভার বল করাবেন পার্টটাইম বোলার মাহমুদউল্লাহ, মোসাদ্দেক ও নাসিরকে দিয়ে।  তাহলে আরও কার্যকর ফল পাওয়া যাবে।

মিরাজ নয় কেন? পাইলটের ব্যাখ্যা, ‘মিরাজ খুব ভালো স্পিনার।  তবে নাসির থাকলে ভালো হতো।  কারণ আমি মিরাজকে টেস্টের জন্য খুব ভালো বোলার মনে করি।  ওয়ানডেতেও যে সে ভালো বোলার নয়, তা বলব না।  আমাদের ঘরের মাঠে কিংবা উপমহাদেশে খেলা হলে আমি মিরাজকে এগিয়ে রাখতাম; কিন্তু ইংলিশ কন্ডিশনে নাসিরকে এগিয়ে রাখব।  নাসির হলো পূর্ণাঙ্গ প্যাকেজ।  ব্যাটিং, বোলিং ও ফিল্ডিং তিন ডিপার্টমেন্টেই সমান কার্যকর।  যখন যেটা দরকার তা করে দেবে।  ব্যাটিংয়ে ৪০ বলে করবে ৫০ রান।  যেখানে মিরাজ হয়তো করবে ৩৫ রান।  স্ট্রাইকরেটও বেশি।  ব্যাটসম্যান হিসেবেও নাসির এগিয়ে।  তার ব্যাটিং ও বুদ্ধিদীপ্ত অফস্পিনটাও অনেক প্লাস পয়েন্ট। ’

Add Space